রিয়াদে ফ্লাইট বন্ধ: ভিসার মেয়াদ বাঁচাতে বিকল্প পথে যাত্রী পাঠানোর চেষ্টা
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ বিমানের ১০টি ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এতে ৩ হাজার ৪৩১ জন যাত্রী নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে পারেননি।
যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কা এড়াতে বিকল্প হিসেবে সৌদি আরবের দাম্মাম ও মদিনা বিমানবন্দরে ফ্লাইটের মাধ্যমে তাদের পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। সিট প্রাপ্যতা সাপেক্ষে যাত্রীদের বিনা খরচে অন্য ফ্লাইটে সমন্বয় করা হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা সংক্রান্ত সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ এসব তথ্য জানান।
কবে নাগাদ রিয়াদ বিমানবন্দর চালু হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিকল্প হিসেবে সৌদি আরবের দাম্মাম ও মদিনা বিমানবন্দরে ফ্লাইটের মাধ্যমে তাদের পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ ক্ষেত্রে সিট প্রাপ্যতা সাপেক্ষে যাত্রীদের বিনা খরচে অন্য ফ্লাইটে সমন্বয় করা হবে বলেও জানান বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ।
রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি নিরসনে পদক্ষেপ এবং ফ্লাইট চালুর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি, বাংলাদেশের আমরা যাত্রী ভোগান্তি নিজেরা ইচ্ছা করে করি। আমরা তো এ দেশের মানুষ, যাত্রীদের সুবিধার জন্য সব কাজ করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘রিয়াদ থেকে শুধু বাংলাদেশ নয়, সমস্ত আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটা আমরাও বন্ধ করিনি। যাত্রী ভোগান্তি শুধু আমাদের নয়, সারাবিশ্বে সবার হচ্ছে। রিয়াদ বিমানবন্দরে এখন অপারেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু বাংলাদেশের বিমানের ফ্লাইট বন্ধ হয়েছে, তা কিন্তু নয়। যতগুলো এয়ারলাইন্স সেখানে নামে বা ট্রানজিট করে, বিশ্বের সব এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বন্ধ করা হয়েছে।’
যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থায় সৌদি আরবে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বিমানের এমডি বলেন, ‘আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছি, অবশ্যই যাত্রী ভোগান্তিটা আমাদের কার্যক্ষমতার বাইরে ছিল। এখন দাম্মাম অথবা মদিনা, এই দুটি বিমানবন্দরে যেহেতু কার্যক্রম আছে, আমরা বলেছি, বিনা খরচে তাদের সমন্বয় করে দেব। তারা যদি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাহলে সিট প্রাপ্তি সাপেক্ষে আমরা ব্যবস্থা করবো।’
তিনি বলেন, ‘সৌদি আরব আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গন্তব্য। সেখানে অনেক বাংলাদেশি বসবাস করেন। সুতরাং আমরা ওইভাবে সমন্বয় করছি। যদিও আমরা পরিকল্পনা করতে পারিনি। আমাদেরও তো তারা বলেনি যে আগামী তিন দিন বন্ধ থাকবে বা আগামী পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে। তারা বলছে, আজ রাত ১টা পর্যন্ত বন্ধ, আবার বলছে কাল সকাল ৭টা পর্যন্ত বন্ধ। এভাবে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাত্রীবাহী পরিবহনের পরিকল্পনা করা যায় না।’
বিমানের এমডি আরও বলেন, ‘যতটুকু সম্ভব, আমরা অন্যান্য গন্তব্যের মাধ্যমে তাদের সৌদি আরবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবো। অনেকের হয়তো ওয়ার্ক পারমিটের সমস্যা থাকতে পারে, তাদের পারিবারিক অনেক সমস্যা থাকতে পারে। সেসব বিবেচনায় নিয়ে অন্যান্য গন্তব্যের মাধ্যমে তাদের সহায়তা করার চেষ্টা করবো।’
এ পর্যন্ত কতটি ফ্লাইট বন্ধ হয়েছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, রিয়াদে চার দিন ধরে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি এখনো অনির্দিষ্ট। প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা ও বন্ধের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হচ্ছে। টেলিভিশনের স্ক্রল, বিমানের ওয়েবসাইট, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং কল সেন্টারের মাধ্যমে যাত্রীদের তথ্য দেওয়া হচ্ছে।
অন্য গন্তব্যের মাধ্যমে যাত্রীদের পাঠানোর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১০টি ফ্লাইট আমরা পাঠাতে পারিনি। আজ রাত ৩টা পর্যন্ত ৩ হাজার ৪৩১ জন যাত্রী যেতে পারেননি। তাদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছি। যাত্রীদের যাতে আগে জানিয়ে দেওয়া হয় এবং যারা বিমানবন্দরে এসেছেন, তাদের ভোগান্তি যতটুকু সম্ভব কমানো যায়, সে জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
বিমানের অন্য ফ্লাইট চললেও টিকিট কাটা যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না এবং টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে সমস্যা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা বিশ্বব্যাপী একটা সংকট। এই সংকট মোকাবিলায় আমরা সবাই যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দিই, তাহলে মুশকিল। আমাদের সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই প্রশ্ন করা উচিত এবং প্রশ্নের উত্তর দেওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, ‘আপনাদেরও বিবেচনায় রাখতে হবে, রিয়াদে এমন একটা ঘটনায় বিশ্বব্যাপী কোনো প্লেন ওঠানামা করছে না। সেই জায়গায় বাংলাদেশ কোথায়? আমরা কি আমাদের যাত্রীদের মৃত্যুমুখে ঠেলে দেব, নাকি তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করব? আমাদের হয়তো একটু কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু তাদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে এই কষ্টের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কিছু করা ভালো, নাকি জীবনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা ভালো, সেই কথাটা আমাদের মাথায় রাখা উচিত।’
সৌদি আরবের অন্য গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মদিনা এবং দাম্মামে আমাদের যে ফ্লাইটগুলো আছে, সেগুলো পরিচালনা করছি।’
এসময় বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও জানান, দাম্মাম ও মদিনাগামী ফ্লাইটে যাত্রীদের সমন্বয় করার চেষ্টা চলছে। যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাদের বিকল্প ফ্লাইটে মদিনা অথবা দাম্মামে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে তারা সেখান থেকে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেন এবং ভিসার মেয়াদ নষ্ট না হয়।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, যাত্রীদের সহায়তায় বিমানের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা রয়েছে। তবে এটি বৈশ্বিক সংকট। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ফ্লাইট বন্ধ করা হয়নি, রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ফ্লাইট পরিচালনা করা যাচ্ছে না।
ফ্লাইট কবে চালু হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা বলা যায় না। যদি এখানে ক্রমাগত বোমা হামলা চলতে থাকে এবং রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকে, যত দিন বন্ধ থাকবে, তত দিন আমরা প্লেন পাঠাতে পারবো না।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার কারণেই এটি বন্ধ রাখা হয়েছে। এটা আমাদের পক্ষ থেকে বন্ধ করা হয়নি। রিয়াদ তথা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। তারা বন্ধ করে দিলে আমরা তো ফ্লাইট পাঠাতে পারবো না।




















