Dhaka ০৮:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড পেলেন ড. ইউনূস

8 / 100 SEO Score

 

যুক্তরাষ্ট্রে ‘হিলারি রোডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। নারীর ক্ষমতায়ন, আর্থিক স্বাবলম্বিতা ও উদ্যোক্তা তৈরিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

এবছর চারজনকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ভারতের ‘সেলফ-এমপ্লয়েড উইমেনস অ্যাসোসিয়েশন’ (এসইডব্লিউএ)-এর পরিচালক রিমা নানাবতী এবং ফ্যাশন ডিজাইনার ও ‘টোরি বার্চ ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা টোরি বার্চ। জর্ডানের ‘মাইক্রোফান্ড ফর উইমেন’-এর বোর্ড চেয়ার মুনা সুখতিয়ানকে বিশেষ ‘জর্জি টাউন অ্যাম্বাসেডরস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।

জর্জ টাউন বিশ্ববিদ‍্যালয়ের গ‍্যাসটন হলরুমে প্রায় ২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত, উদ‍্যোক্তা, বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকসহ ৪০০ দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

ড. ইউনূসের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকরা দাঁড়িয়ে করতালির মাধ‍্যমে সম্মান জানান।

এসময় হিলারি ক্নিনটন বলেন, ‘আমি নিজে গ্রামীণ ব‍্যাংকের কার্যক্রম দেখেছি। নারীরা কীভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছে, তা অভূতপূর্ব। শুধু বাংলাদেশের নারীরা নয়, ড. ইউনূস তার কাজ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন।’

ড. ইউনূস তার বক্তৃতায় বলেন, ‘এখানে আপনারা যে আয়োজন করেছেন, তা বাংলাদেশে একটি বড় বার্তা পৌঁছে দেবে। গ্রামীণ পরিবারকে অনুপ্রাণিত করবে। তাদের উৎসাহিত করার জন্য আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা নারীদের দিকে মনোযোগ দিয়েছি। তারা যেন নিজেদের শক্তি কাজে লাগাতে পারেন, নিজের জীবনের দায়িত্ব নিতে পারেন এবং পরিবারের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেন। এভাবে একটির পর একটি পরিবারে পরিবর্তন এসেছে। শুধু কয়েকটি পরিবারে নয়, লাখ লাখ পরিবারে।’

ড. ইউনুস বলেন, ‘এই দীর্ঘ যাত্রায় আরেকটি নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে—নতুন উদ্যোক্তা। ঋণগ্রহীতাদের সন্তানরা বড় হচ্ছে, কিন্তু তারাও চাকরি খুঁজছে। আমরা তাদের বলেছি, কথাটি বারবার বলো, “আমরা চাকরিপ্রার্থী নই, আমরা চাকরিদাতা।” কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে তোমাকে একটি ধারণা নিয়ে আসতে হবে। তুমি কী ধরনের ব্যবসা করতে চাও? নিজের ব্যবসা গড়ে তোলো।’

বক্তব্যে সামাজিক ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে উদ্যোগ, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন তিনি।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

one × five =

About Author Information

যুক্তরাষ্ট্রে হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড পেলেন ড. ইউনূস

Update Time : ০৬:৩৬:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

যুক্তরাষ্ট্রে ‘হিলারি রোডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। নারীর ক্ষমতায়ন, আর্থিক স্বাবলম্বিতা ও উদ্যোক্তা তৈরিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

এবছর চারজনকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ভারতের ‘সেলফ-এমপ্লয়েড উইমেনস অ্যাসোসিয়েশন’ (এসইডব্লিউএ)-এর পরিচালক রিমা নানাবতী এবং ফ্যাশন ডিজাইনার ও ‘টোরি বার্চ ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা টোরি বার্চ। জর্ডানের ‘মাইক্রোফান্ড ফর উইমেন’-এর বোর্ড চেয়ার মুনা সুখতিয়ানকে বিশেষ ‘জর্জি টাউন অ্যাম্বাসেডরস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।

জর্জ টাউন বিশ্ববিদ‍্যালয়ের গ‍্যাসটন হলরুমে প্রায় ২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত, উদ‍্যোক্তা, বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকসহ ৪০০ দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

ড. ইউনূসের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকরা দাঁড়িয়ে করতালির মাধ‍্যমে সম্মান জানান।

এসময় হিলারি ক্নিনটন বলেন, ‘আমি নিজে গ্রামীণ ব‍্যাংকের কার্যক্রম দেখেছি। নারীরা কীভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছে, তা অভূতপূর্ব। শুধু বাংলাদেশের নারীরা নয়, ড. ইউনূস তার কাজ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন।’

ড. ইউনূস তার বক্তৃতায় বলেন, ‘এখানে আপনারা যে আয়োজন করেছেন, তা বাংলাদেশে একটি বড় বার্তা পৌঁছে দেবে। গ্রামীণ পরিবারকে অনুপ্রাণিত করবে। তাদের উৎসাহিত করার জন্য আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা নারীদের দিকে মনোযোগ দিয়েছি। তারা যেন নিজেদের শক্তি কাজে লাগাতে পারেন, নিজের জীবনের দায়িত্ব নিতে পারেন এবং পরিবারের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেন। এভাবে একটির পর একটি পরিবারে পরিবর্তন এসেছে। শুধু কয়েকটি পরিবারে নয়, লাখ লাখ পরিবারে।’

ড. ইউনুস বলেন, ‘এই দীর্ঘ যাত্রায় আরেকটি নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে—নতুন উদ্যোক্তা। ঋণগ্রহীতাদের সন্তানরা বড় হচ্ছে, কিন্তু তারাও চাকরি খুঁজছে। আমরা তাদের বলেছি, কথাটি বারবার বলো, “আমরা চাকরিপ্রার্থী নই, আমরা চাকরিদাতা।” কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে তোমাকে একটি ধারণা নিয়ে আসতে হবে। তুমি কী ধরনের ব্যবসা করতে চাও? নিজের ব্যবসা গড়ে তোলো।’

বক্তব্যে সামাজিক ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে উদ্যোগ, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন তিনি।