Dhaka ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপের সেই ম্যাচের আগে কী হয়েছিল আর্জেন্টিনা দলে, মুখ খুললেন লাউতারো

স্পোর্টস ডেস্ক
10 / 100 SEO Score

 

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পেছনে শুধু ফুটবলীয় লড়াই নয়, কাজ করেছিল ইতিহাসের স্মৃতিও। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধ ম্যাচটিকে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের কাছে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছিল। এবার সেই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেজ। তার ভাষ্য, প্রকাশ্যে ম্যাচটিকে কেবল ফুটবল হিসেবেই দেখানোর চেষ্টা করলেও দলের ভেতরে আবেগটা ছিল ভিন্ন।

আর্জেন্টিনার হয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন ইন্টার মিলানের এই ফরোয়ার্ড। ১৫ জুলাই আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা। ৯২ মিনিটে লাউতারোর গোলেই নিশ্চিত হয় ফাইনালের টিকিট। সেই গোল তিনি উৎসর্গ করেন ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের আর্জেন্টাইন সেনাদের।

এএফএ স্টুডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের গোলের তাৎপর্য তুলে ধরেন লাউতারো। এ সময় তাকে একটি ভিডিও দেখানো হয়, যেখানে গোল উদ্‌যাপনের দৃশ্য দেখে ফকল্যান্ড যুদ্ধের এক সেনাকে কাঁদতে দেখা যায়। দৃশ্যটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আর্জেন্টাইন এই তারকা।

লাউতারো বলেন, ‘এটা তাদের জন্যই সম্ভব হয়েছে (ফকল্যান্ড যুদ্ধের আর্জেন্টাইন সৈনিক), সে সময় তারা যেভাবে আমাদের দেশকে তুলে ধরেছিলেন তার জন্য। আজ অন্তত আমি এই গোলটা তাদের উৎসর্গ করতে পারি। তারা আজ জাতীয় দলের সঙ্গে নিজেদের মেলাতে পারছেন, এটা আমরা এই সময়ে যা গড়েছি তারই প্রমাণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যত পুরস্কার, স্বীকৃতি ও প্রশংসা পাচ্ছি, সবই তাদের কারণে। কীভাবে লড়তে হয়, তা তারাই আমাদের শিখিয়েছেন।’

ম্যাচের আগে অবশ্য বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বেশি আলোচনা করতে চাননি আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি চেয়েছিলেন, খেলাটিকে যুদ্ধের স্মৃতি কিংবা রাজনৈতিক বিরোধের সঙ্গে না মিলিয়ে ফুটবল হিসেবেই দেখা হোক। তবে লাউতারোর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দলের ভেতরে বিষয়টি আলাদা আবেগ তৈরি করেছিল।

লাউতারোর ভাষায়, ‘ক্যামেরার সামনে আমাদের অন্যভাবে চলতে হয়েছে, কারণ এটা একটা ফুটবল ম্যাচ। কিন্তু ভেতরে এটা অন্য ম্যাচের মতো ছিল না। পুরো ইতিহাসের কারণে এটা বিশেষ ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফকল্যান্ডস ইস্যু ছিল একটি বিশেষ উপাদান।’ তার মতে, এটি দলকে ‘বাড়তি শক্তি ও সেই ইতিবাচক ইতিবাচক উদ্দীপনা’ দিয়েছে, যা এ ধরনের ম্যাচ খেলতে দরকার।

দুই দেশের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার শিকড় অনেক গভীরে। আর্জেন্টিনায় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ‘ইসলাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত। ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জটি দখলকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ৭৪ দিন ধরে যুদ্ধ চলে। ওই সংঘাতে ৬৫৫ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। প্রাণ হারান দ্বীপের তিন বাসিন্দাও। একই বছরের জুনে ব্রিটিশ বাহিনী দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। তবে দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই দেশের বিরোধ এখনো রয়েছে।

ইংল্যান্ডকে হারানোর পরও ফকল্যান্ড প্রসঙ্গ আলোচনায় আসে। উদ্‌যাপনের সময় আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও জিওভানি লো চেলসো গ্যালারির সামনে একটি ব্যানার তুলে ধরেন। তাতে লেখা ছিল, ‘লাস মালভিনাস সন আর্হেন্তিনাস’, যার অর্থ ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’। ব্যানারটি কোথা থেকে এসেছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে এ ঘটনায় ফিফা তদন্ত শুরু করে। স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন সংস্থাটির নিয়মের পরিপন্থী হতে পারে।

নিজের গোলের গুরুত্ব অবশ্য সঙ্গে সঙ্গেই পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেননি লাউতারো। বিশ্বকাপের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ফাইনালের প্রস্তুতির ব্যস্ততায় মুহূর্তটির তাৎপর্য তখন তার কাছে স্পষ্ট ছিল না। পরে দেশে ফিরে সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া থেকে তিনি গোলটির আবেগীয় মূল্য বুঝতে পারেন।

লাউতারো বলেন, ‘এটা এমন এক স্মৃতি, যা আমি চিরদিন আগলে রাখব।’ টুর্নামেন্টের তীব্রতা আর কয়েক দিন পরের ফাইনালের কারণে তিনি ‘গোলটা যে করেছি, সেটা পুরোপুরি টের পাননি’ বলে স্বীকার করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে ফিরে যখন আর্জেন্টাইনদের সঙ্গে দেখা হলো, তখন আমি এটা অনুভব করলাম। গোলটার অর্থ বোঝাতে মানুষ আমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছিল। তখনই আমি এর গুরুত্ব বুঝলাম।’

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠলেও শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন পূরণ হয়নি আর্জেন্টিনার। ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় লিওনেল মেসির দল। ম্যাচটিতে স্পেনের আধিপত্য থাকলেও লাউতারোর দাবি, শিরোপা জয়ের জন্য আর্জেন্টিনা নিজেদের সর্বোচ্চটাই দিয়েছিল।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি শারীরিক ও মানসিকভাবে দলকে ক্লান্ত করে দিয়েছিল বলে জানান এই স্ট্রাইকার। তার মতে, ফাইনালেও খেলোয়াড়েরা নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিলেন। কয়েকজন খেলোয়াড়ের পক্ষে শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল, তবু তারা লড়াই চালিয়ে গেছেন।

ফাইনাল নিয়ে সমালোচনার জবাবে লাউতারো বলেন, ‘শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের সুযোগ ছিল। মানুষ যখন ওই সব তত্ত্ব নিয়ে কথা বলে, তখন বিরক্ত লাগে। কারণ এটা পরিষ্কার যে আমরা সবকিছু দিয়েছি। এতে আমাদের মন শান্ত থাকে। প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ১৫ জুলাইকে জাতীয় ফুটবল দিবস ঘোষণা করেছে। ম্যাচটি ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের স্মৃতিও ফিরিয়ে আনে। সেই ম্যাচে দিয়েগো মারাদোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং একক প্রচেষ্টায় করা বিখ্যাত গোলটি ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।

পুরো বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা নিয়ে লাউতারো বলেন, প্রতিটি ম্যাচই ছিল কঠিন এবং টুর্নামেন্টজুড়ে সমর্থকদের সঙ্গে দলের গভীর সংযোগ তৈরি হয়েছিল। তার মতে, আর্জেন্টিনা এমন একটি দল, যারা কখনো হাল ছাড়ে না এবং সব সময় আরও ভালো করার চেষ্টা করে। দলের নেতা লিওনেল মেসিও তাদের প্রতিকূলতার মুখে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

seven + fifteen =

About Author Information

বিশ্বকাপের সেই ম্যাচের আগে কী হয়েছিল আর্জেন্টিনা দলে, মুখ খুললেন লাউতারো

Update Time : ০৬:৩০:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
10 / 100 SEO Score

 

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পেছনে শুধু ফুটবলীয় লড়াই নয়, কাজ করেছিল ইতিহাসের স্মৃতিও। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধ ম্যাচটিকে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের কাছে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছিল। এবার সেই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেজ। তার ভাষ্য, প্রকাশ্যে ম্যাচটিকে কেবল ফুটবল হিসেবেই দেখানোর চেষ্টা করলেও দলের ভেতরে আবেগটা ছিল ভিন্ন।

আর্জেন্টিনার হয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন ইন্টার মিলানের এই ফরোয়ার্ড। ১৫ জুলাই আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা। ৯২ মিনিটে লাউতারোর গোলেই নিশ্চিত হয় ফাইনালের টিকিট। সেই গোল তিনি উৎসর্গ করেন ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের আর্জেন্টাইন সেনাদের।

এএফএ স্টুডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের গোলের তাৎপর্য তুলে ধরেন লাউতারো। এ সময় তাকে একটি ভিডিও দেখানো হয়, যেখানে গোল উদ্‌যাপনের দৃশ্য দেখে ফকল্যান্ড যুদ্ধের এক সেনাকে কাঁদতে দেখা যায়। দৃশ্যটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আর্জেন্টাইন এই তারকা।

লাউতারো বলেন, ‘এটা তাদের জন্যই সম্ভব হয়েছে (ফকল্যান্ড যুদ্ধের আর্জেন্টাইন সৈনিক), সে সময় তারা যেভাবে আমাদের দেশকে তুলে ধরেছিলেন তার জন্য। আজ অন্তত আমি এই গোলটা তাদের উৎসর্গ করতে পারি। তারা আজ জাতীয় দলের সঙ্গে নিজেদের মেলাতে পারছেন, এটা আমরা এই সময়ে যা গড়েছি তারই প্রমাণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যত পুরস্কার, স্বীকৃতি ও প্রশংসা পাচ্ছি, সবই তাদের কারণে। কীভাবে লড়তে হয়, তা তারাই আমাদের শিখিয়েছেন।’

ম্যাচের আগে অবশ্য বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বেশি আলোচনা করতে চাননি আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি চেয়েছিলেন, খেলাটিকে যুদ্ধের স্মৃতি কিংবা রাজনৈতিক বিরোধের সঙ্গে না মিলিয়ে ফুটবল হিসেবেই দেখা হোক। তবে লাউতারোর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দলের ভেতরে বিষয়টি আলাদা আবেগ তৈরি করেছিল।

লাউতারোর ভাষায়, ‘ক্যামেরার সামনে আমাদের অন্যভাবে চলতে হয়েছে, কারণ এটা একটা ফুটবল ম্যাচ। কিন্তু ভেতরে এটা অন্য ম্যাচের মতো ছিল না। পুরো ইতিহাসের কারণে এটা বিশেষ ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফকল্যান্ডস ইস্যু ছিল একটি বিশেষ উপাদান।’ তার মতে, এটি দলকে ‘বাড়তি শক্তি ও সেই ইতিবাচক ইতিবাচক উদ্দীপনা’ দিয়েছে, যা এ ধরনের ম্যাচ খেলতে দরকার।

দুই দেশের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার শিকড় অনেক গভীরে। আর্জেন্টিনায় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ‘ইসলাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত। ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জটি দখলকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ৭৪ দিন ধরে যুদ্ধ চলে। ওই সংঘাতে ৬৫৫ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। প্রাণ হারান দ্বীপের তিন বাসিন্দাও। একই বছরের জুনে ব্রিটিশ বাহিনী দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। তবে দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই দেশের বিরোধ এখনো রয়েছে।

ইংল্যান্ডকে হারানোর পরও ফকল্যান্ড প্রসঙ্গ আলোচনায় আসে। উদ্‌যাপনের সময় আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও জিওভানি লো চেলসো গ্যালারির সামনে একটি ব্যানার তুলে ধরেন। তাতে লেখা ছিল, ‘লাস মালভিনাস সন আর্হেন্তিনাস’, যার অর্থ ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’। ব্যানারটি কোথা থেকে এসেছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে এ ঘটনায় ফিফা তদন্ত শুরু করে। স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন সংস্থাটির নিয়মের পরিপন্থী হতে পারে।

নিজের গোলের গুরুত্ব অবশ্য সঙ্গে সঙ্গেই পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেননি লাউতারো। বিশ্বকাপের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ফাইনালের প্রস্তুতির ব্যস্ততায় মুহূর্তটির তাৎপর্য তখন তার কাছে স্পষ্ট ছিল না। পরে দেশে ফিরে সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া থেকে তিনি গোলটির আবেগীয় মূল্য বুঝতে পারেন।

লাউতারো বলেন, ‘এটা এমন এক স্মৃতি, যা আমি চিরদিন আগলে রাখব।’ টুর্নামেন্টের তীব্রতা আর কয়েক দিন পরের ফাইনালের কারণে তিনি ‘গোলটা যে করেছি, সেটা পুরোপুরি টের পাননি’ বলে স্বীকার করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে ফিরে যখন আর্জেন্টাইনদের সঙ্গে দেখা হলো, তখন আমি এটা অনুভব করলাম। গোলটার অর্থ বোঝাতে মানুষ আমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছিল। তখনই আমি এর গুরুত্ব বুঝলাম।’

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠলেও শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন পূরণ হয়নি আর্জেন্টিনার। ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় লিওনেল মেসির দল। ম্যাচটিতে স্পেনের আধিপত্য থাকলেও লাউতারোর দাবি, শিরোপা জয়ের জন্য আর্জেন্টিনা নিজেদের সর্বোচ্চটাই দিয়েছিল।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি শারীরিক ও মানসিকভাবে দলকে ক্লান্ত করে দিয়েছিল বলে জানান এই স্ট্রাইকার। তার মতে, ফাইনালেও খেলোয়াড়েরা নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিলেন। কয়েকজন খেলোয়াড়ের পক্ষে শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল, তবু তারা লড়াই চালিয়ে গেছেন।

ফাইনাল নিয়ে সমালোচনার জবাবে লাউতারো বলেন, ‘শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের সুযোগ ছিল। মানুষ যখন ওই সব তত্ত্ব নিয়ে কথা বলে, তখন বিরক্ত লাগে। কারণ এটা পরিষ্কার যে আমরা সবকিছু দিয়েছি। এতে আমাদের মন শান্ত থাকে। প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ১৫ জুলাইকে জাতীয় ফুটবল দিবস ঘোষণা করেছে। ম্যাচটি ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের স্মৃতিও ফিরিয়ে আনে। সেই ম্যাচে দিয়েগো মারাদোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং একক প্রচেষ্টায় করা বিখ্যাত গোলটি ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।

পুরো বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা নিয়ে লাউতারো বলেন, প্রতিটি ম্যাচই ছিল কঠিন এবং টুর্নামেন্টজুড়ে সমর্থকদের সঙ্গে দলের গভীর সংযোগ তৈরি হয়েছিল। তার মতে, আর্জেন্টিনা এমন একটি দল, যারা কখনো হাল ছাড়ে না এবং সব সময় আরও ভালো করার চেষ্টা করে। দলের নেতা লিওনেল মেসিও তাদের প্রতিকূলতার মুখে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।