Dhaka ০৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ায় চলতি বছরে বাংলাদেশিসহ ৬৫ হাজারের বেশি বিদেশি আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
10 / 100 SEO Score

 

মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২৮৭ দিনে ৬৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এ সময়ে দেশজুড়ে ১১ হাজারের বেশি অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি বিদেশির নথিপত্র যাচাই করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫ হাজারেরও বেশি জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

অভিবাসন বিভাগের উপমহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ২৮৭ দিনে প্রতিদিন গড়ে ৩৮টির বেশি অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় দৈনিক গড়ে ৫১১ জন বিদেশির নথিপত্র যাচাই এবং ২২৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

লোকমান এফেন্দির ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় অভিবাসন আইন লঙ্ঘন ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে বৈধ ভ্রমণ নথি বা অবস্থানের অনুমতিপত্র না থাকা, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান এবং পাস বা ওয়ার্ক পারমিটের অপব্যবহারের মতো অপরাধ শনাক্ত হচ্ছে। আটক ও দেশে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারের নাগরিক উল্লেখযোগ্য।

সম্প্রতি কেলান্তান রাজ্যের কুবাং কেরিয়ানে ইউনিভার্সিটি সায়েন্স মালয়েশিয়ার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের নির্মাণস্থলে অভিযান চালায় অভিবাসন বিভাগ। সেখানে ৫৭ জন বিদেশির কাগজপত্র যাচাই করে ৫৫ জনকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে আটক করা হয়। পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে মালয়েশিয়া থেকে অবৈধ পথে বিদেশি নাগরিকদের বের করে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথাও জানিয়েছে অভিবাসন বিভাগ। এ ঘটনায় মিয়ানমারের ১১ নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে বাকি ১০ জনকে অবৈধভাবে দেশ ছাড়তে সহায়তার অভিযোগে পরিবহনকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াকাফ চে ইয়ে এলাকার একটি হোটেলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ২০ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে। বাকি ১০ জন জোহর বাহরু ও কুয়ালালামপুর থেকে এসে ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লোকমান এফেন্দি জানান, মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আটক করা হয়। এই কর্মকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের কারণে দেশটির অভিবাসন ডিপোগুলোতে ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল। তার তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে অভিবাসন ডিপোগুলোর মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার জন। নিয়মিত অভিযানে আটক ব্যক্তিদের সেখানে রাখার কারণে বিভিন্ন ডিপোতে চাপ বাড়ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিশেষ এলাকাভিত্তিক মানচিত্র তৈরি করেছে অভিবাসন বিভাগ। এর মাধ্যমে বিদেশিরা কোথায় বসবাস করেন, অবস্থান করেন বা একত্র হন, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বৈধ নথিবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ পাস ব্যবহারকারী, অনুমতিপত্রের অপব্যবহারকারী এবং শরণার্থী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। প্রত্যেকের আইনগত অবস্থান বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযানে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষও অংশ নিচ্ছে।

একই সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার কারাগারগুলোতে বন্দির সংখ্যা ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের চিত্র তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশটির ৪১টি কারাগারে বর্তমানে প্রায় ৯০ হাজার বন্দি রয়েছেন। তাদের আনুমানিক ৭৫ শতাংশ মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত। বন্দিদের বড় একটি অংশ বিপজ্জনক মাদক আইন, ১৯৫২-এর বিভিন্ন ধারায় সংশ্লিষ্ট অপরাধে দণ্ডিত বা আটক রয়েছেন। কেলান্তানের কোটা ভারুর পেঙ্গকালান চেপা কারাগার অতিরিক্ত বন্দির চাপে থাকা কারাগারগুলোর একটি।

বয়সভিত্তিক তথ্য তুলে ধরে সাইফুদ্দিন নাসুতিওন বলেন, ১৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সীরা বন্দিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী। ১৫ বছরের কম বয়সীদের মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িয়ে পড়াও উদ্বেগের বিষয়। বেকার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদকের অপব্যবহারের প্রবণতা বেশি বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে কৃত্রিম মাদকের ব্যবহার বেশি। পশ্চিম উপকূলে কৃত্রিম ও অ-কৃত্রিম—দুই ধরনের মাদকের ব্যবহারই দেখা যাচ্ছে। সহজলভ্যতার কারণে কৃত্রিম মাদকের ব্যবহার বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কেলান্তান, কেদাহ, পারলিস ও তেরেঙ্গানু রাজ্যে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি। কেদাহর পেনদাং জেলায় এ হার সর্বোচ্চ, এরপর রয়েছে কেলান্তানের কুয়ালা ক্রাই। এ ছাড়া কেলান্তানের তুমপাত, তানাহ মেরাহ ও বাচোক এবং তেরেঙ্গানুর বেসুত জেলায় প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে এ হার এক হাজার ছাড়িয়েছে।

সাইফুদ্দিন নাসুতিওন বলেন, এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে মাদক প্রতিরোধ ও আইন প্রয়োগের কার্যক্রম আরও সুনির্দিষ্ট করা হবে। এ জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় মাদকবিরোধী সংস্থা, পুলিশ ও রাজ্য সরকারগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের রাখার ব্যবস্থা এবং কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ সামলানো এখন মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

11 + 1 =

About Author Information

মালয়েশিয়ায় চলতি বছরে বাংলাদেশিসহ ৬৫ হাজারের বেশি বিদেশি আটক

Update Time : ০৬:২১:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
10 / 100 SEO Score

 

মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২৮৭ দিনে ৬৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এ সময়ে দেশজুড়ে ১১ হাজারের বেশি অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি বিদেশির নথিপত্র যাচাই করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫ হাজারেরও বেশি জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

অভিবাসন বিভাগের উপমহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ২৮৭ দিনে প্রতিদিন গড়ে ৩৮টির বেশি অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় দৈনিক গড়ে ৫১১ জন বিদেশির নথিপত্র যাচাই এবং ২২৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

লোকমান এফেন্দির ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় অভিবাসন আইন লঙ্ঘন ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে বৈধ ভ্রমণ নথি বা অবস্থানের অনুমতিপত্র না থাকা, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান এবং পাস বা ওয়ার্ক পারমিটের অপব্যবহারের মতো অপরাধ শনাক্ত হচ্ছে। আটক ও দেশে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারের নাগরিক উল্লেখযোগ্য।

সম্প্রতি কেলান্তান রাজ্যের কুবাং কেরিয়ানে ইউনিভার্সিটি সায়েন্স মালয়েশিয়ার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের নির্মাণস্থলে অভিযান চালায় অভিবাসন বিভাগ। সেখানে ৫৭ জন বিদেশির কাগজপত্র যাচাই করে ৫৫ জনকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে আটক করা হয়। পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে মালয়েশিয়া থেকে অবৈধ পথে বিদেশি নাগরিকদের বের করে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথাও জানিয়েছে অভিবাসন বিভাগ। এ ঘটনায় মিয়ানমারের ১১ নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে বাকি ১০ জনকে অবৈধভাবে দেশ ছাড়তে সহায়তার অভিযোগে পরিবহনকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াকাফ চে ইয়ে এলাকার একটি হোটেলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ২০ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে। বাকি ১০ জন জোহর বাহরু ও কুয়ালালামপুর থেকে এসে ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লোকমান এফেন্দি জানান, মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আটক করা হয়। এই কর্মকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের কারণে দেশটির অভিবাসন ডিপোগুলোতে ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল। তার তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে অভিবাসন ডিপোগুলোর মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার জন। নিয়মিত অভিযানে আটক ব্যক্তিদের সেখানে রাখার কারণে বিভিন্ন ডিপোতে চাপ বাড়ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিশেষ এলাকাভিত্তিক মানচিত্র তৈরি করেছে অভিবাসন বিভাগ। এর মাধ্যমে বিদেশিরা কোথায় বসবাস করেন, অবস্থান করেন বা একত্র হন, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বৈধ নথিবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ পাস ব্যবহারকারী, অনুমতিপত্রের অপব্যবহারকারী এবং শরণার্থী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। প্রত্যেকের আইনগত অবস্থান বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযানে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষও অংশ নিচ্ছে।

একই সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার কারাগারগুলোতে বন্দির সংখ্যা ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের চিত্র তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশটির ৪১টি কারাগারে বর্তমানে প্রায় ৯০ হাজার বন্দি রয়েছেন। তাদের আনুমানিক ৭৫ শতাংশ মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত। বন্দিদের বড় একটি অংশ বিপজ্জনক মাদক আইন, ১৯৫২-এর বিভিন্ন ধারায় সংশ্লিষ্ট অপরাধে দণ্ডিত বা আটক রয়েছেন। কেলান্তানের কোটা ভারুর পেঙ্গকালান চেপা কারাগার অতিরিক্ত বন্দির চাপে থাকা কারাগারগুলোর একটি।

বয়সভিত্তিক তথ্য তুলে ধরে সাইফুদ্দিন নাসুতিওন বলেন, ১৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সীরা বন্দিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী। ১৫ বছরের কম বয়সীদের মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িয়ে পড়াও উদ্বেগের বিষয়। বেকার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদকের অপব্যবহারের প্রবণতা বেশি বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে কৃত্রিম মাদকের ব্যবহার বেশি। পশ্চিম উপকূলে কৃত্রিম ও অ-কৃত্রিম—দুই ধরনের মাদকের ব্যবহারই দেখা যাচ্ছে। সহজলভ্যতার কারণে কৃত্রিম মাদকের ব্যবহার বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কেলান্তান, কেদাহ, পারলিস ও তেরেঙ্গানু রাজ্যে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি। কেদাহর পেনদাং জেলায় এ হার সর্বোচ্চ, এরপর রয়েছে কেলান্তানের কুয়ালা ক্রাই। এ ছাড়া কেলান্তানের তুমপাত, তানাহ মেরাহ ও বাচোক এবং তেরেঙ্গানুর বেসুত জেলায় প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে এ হার এক হাজার ছাড়িয়েছে।

সাইফুদ্দিন নাসুতিওন বলেন, এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে মাদক প্রতিরোধ ও আইন প্রয়োগের কার্যক্রম আরও সুনির্দিষ্ট করা হবে। এ জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় মাদকবিরোধী সংস্থা, পুলিশ ও রাজ্য সরকারগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের রাখার ব্যবস্থা এবং কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ সামলানো এখন মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।