Dhaka ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্য ডেল্টাগ্রামের জরিপ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সমর্থন দেশের ৭৫.৩ শতাংশ মানুষের

8 / 100 SEO Score

 

ক্ষমতা গ্রহণের চার মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজের প্রতি তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি বাংলাদেশি সন্তুষ্ট বলে উঠে এসেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্য ডেল্টাগ্রাম পরিচালিত নতুন এক জাতীয় জনমত জরিপে।

ডেল্টাগ্রামের জরিপে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনের ধরনকে সমর্থন করছেন দেশের ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা তার কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর ৭ দশমিক ২ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মতামত দেননি।

ডেল্টাগ্রাম জানায়, গত ১২ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত সারা দেশে ৩ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় চার মাস পর জনমতের এই মূল্যায়ন করা হয়েছে।

জরিপের ফল অনুযায়ী, বিভাগভিত্তিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাওয়া গেছে রংপুর বিভাগে, যেখানে অনুমোদনের হার ৮৩ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সমর্থন পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে এ হার ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ।

গ্রামাঞ্চলে সরকারের প্রতি সমর্থন শহরের তুলনায় বেশি। জরিপে গ্রামীণ এলাকার ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। শহরাঞ্চলে এ হার ৭০ দশমিক ১ শতাংশ।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সব বয়সী মানুষের মধ্যে সমর্থনের হার প্রায় একই রকম হলেও ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এটি তুলনামূলক কম, ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ।

ডেল্টাগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর দিকেই উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন অর্জন করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার মতো সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জরিপের পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় করা হয়েছে। কোনো বাহ্যিক জরিপ সংস্থার সহায়তা নেওয়া হয়নি। জরিপকারীদের প্রশ্নপত্র পরিচালনা ও নমুনা নির্বাচন বিষয়ে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হওয়া, অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি এবং যোগাযোগ ব্যর্থতার তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তবে বিভাগভিত্তিক ফলাফল ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। তাঁদের মতে, রংপুর ও ঢাকার মধ্যে সমর্থনের পার্থক্য পুরোপুরি জনমতের বাস্তব চিত্র নাও হতে পারে, কারণ বিভাগভিত্তিক নমুনা জাতীয় নমুনার তুলনায় ছোট হওয়ায় পরিসংখ্যানগত বিচ্যুতির সম্ভাবনা বেশি।

জরিপে ৭০ শতাংশ সাক্ষাৎকার সরাসরি এবং ৩০ শতাংশ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে। সরাসরি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ, আর ফোনে নেওয়া সাক্ষাৎকারে ছিল ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ। গবেষকদের মতে, এ পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ নয়।

ডেল্টাগ্রাম জানায়, দুই ধাপের স্তরভিত্তিক সম্ভাব্যতা নমুনা পদ্ধতিতে দেশের আট বিভাগের ১৫০টি প্রাথমিক নমুনা এলাকা থেকে প্রতিটিতে ২০টি করে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। মোট উত্তরদাতার সংখ্যা ছিল ৩ হাজার এবং সাড়া দেওয়ার হার ছিল ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

গবেষকদের হিসাবে, জাতীয় পর্যায়ে জরিপটির সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ৯৫ শতাংশ নির্ভরযোগ্যতায় প্রায় ±২ দশমিক ১ থেকে ±২ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে বিভাগভিত্তিক ফলাফলে এই ত্রুটির সীমা আরও বেশি হতে পারে।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

দ্য ডেল্টাগ্রামের জরিপ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সমর্থন দেশের ৭৫.৩ শতাংশ মানুষের

Update Time : ০৯:০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

ক্ষমতা গ্রহণের চার মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজের প্রতি তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি বাংলাদেশি সন্তুষ্ট বলে উঠে এসেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্য ডেল্টাগ্রাম পরিচালিত নতুন এক জাতীয় জনমত জরিপে।

ডেল্টাগ্রামের জরিপে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনের ধরনকে সমর্থন করছেন দেশের ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা তার কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর ৭ দশমিক ২ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মতামত দেননি।

ডেল্টাগ্রাম জানায়, গত ১২ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত সারা দেশে ৩ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় চার মাস পর জনমতের এই মূল্যায়ন করা হয়েছে।

জরিপের ফল অনুযায়ী, বিভাগভিত্তিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাওয়া গেছে রংপুর বিভাগে, যেখানে অনুমোদনের হার ৮৩ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সমর্থন পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে এ হার ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ।

গ্রামাঞ্চলে সরকারের প্রতি সমর্থন শহরের তুলনায় বেশি। জরিপে গ্রামীণ এলাকার ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। শহরাঞ্চলে এ হার ৭০ দশমিক ১ শতাংশ।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সব বয়সী মানুষের মধ্যে সমর্থনের হার প্রায় একই রকম হলেও ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এটি তুলনামূলক কম, ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ।

ডেল্টাগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর দিকেই উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন অর্জন করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার মতো সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জরিপের পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় করা হয়েছে। কোনো বাহ্যিক জরিপ সংস্থার সহায়তা নেওয়া হয়নি। জরিপকারীদের প্রশ্নপত্র পরিচালনা ও নমুনা নির্বাচন বিষয়ে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হওয়া, অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি এবং যোগাযোগ ব্যর্থতার তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তবে বিভাগভিত্তিক ফলাফল ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। তাঁদের মতে, রংপুর ও ঢাকার মধ্যে সমর্থনের পার্থক্য পুরোপুরি জনমতের বাস্তব চিত্র নাও হতে পারে, কারণ বিভাগভিত্তিক নমুনা জাতীয় নমুনার তুলনায় ছোট হওয়ায় পরিসংখ্যানগত বিচ্যুতির সম্ভাবনা বেশি।

জরিপে ৭০ শতাংশ সাক্ষাৎকার সরাসরি এবং ৩০ শতাংশ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে। সরাসরি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ, আর ফোনে নেওয়া সাক্ষাৎকারে ছিল ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ। গবেষকদের মতে, এ পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ নয়।

ডেল্টাগ্রাম জানায়, দুই ধাপের স্তরভিত্তিক সম্ভাব্যতা নমুনা পদ্ধতিতে দেশের আট বিভাগের ১৫০টি প্রাথমিক নমুনা এলাকা থেকে প্রতিটিতে ২০টি করে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। মোট উত্তরদাতার সংখ্যা ছিল ৩ হাজার এবং সাড়া দেওয়ার হার ছিল ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

গবেষকদের হিসাবে, জাতীয় পর্যায়ে জরিপটির সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ৯৫ শতাংশ নির্ভরযোগ্যতায় প্রায় ±২ দশমিক ১ থেকে ±২ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে বিভাগভিত্তিক ফলাফলে এই ত্রুটির সীমা আরও বেশি হতে পারে।