রাজশাহীতে নৃত্যশিল্পীদের মিলনমেলায় জন্মজয়ন্তী পালন
রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী। নবগঠিত রাজশাহী নৃত্যশিল্পী ঐক্য জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নৃত্যশিল্পীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো মিলনায়তন। দুই শতাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নৃত্যসন্ধ্যা দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশে ভরে ওঠে পুরো অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার। তিনি উত্তরীয় পরিয়ে নৃত্যশিল্পী ঐক্য জোটের উপদেষ্টা ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের অভিষিক্ত করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ, রাজশাহীর অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শিখা সরকার এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি, রাজশাহীর জেলা কালচারাল অফিসার ড. মো. ফারুকুর রহমান ফয়সল।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই নৃত্যশিল্পী ঐক্য জোটের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা রবীন্দ্র ও নজরুল সংগীতের সমন্বয়ে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সোনিয়া পাল ওলি। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন খালেদ হাসান মিলু এবং এটিএন বাংলার স্টাফ রিপোর্টার সুজাউদ্দিন ছোটন।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন বিশ্বকবি, তেমনি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্বমানবতার কবি। তাঁদের সাহিত্য, দর্শন ও মানবিক চেতনা বাঙালি জাতিসত্তার অন্যতম ভিত্তি। রবীন্দ্র-নজরুলের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্বও তুলে ধরেন তারা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উত্তরাঞ্চলের নৃত্যশিল্পীদের অভিভাবকখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও নৃত্যগুরু হাসিব পান্না।
সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেয় রাজশাহীর বিভিন্ন নৃত্যপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ছিল— নিক্বণ নৃত্যশিল্পী গোষ্ঠী, স্পন্দন নৃত্যালয়, ঝংকার নৃত্যশিল্পী গোষ্ঠী, উৎপত্তি নৃত্যাশ্রম, রিমঝিম সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, নৃত্যকুঞ্জ, সোহাগ ডান্স গ্রুপ, চিত্রগীতি নৃত্য শিক্ষালয়, শাপলা কালচারাল একাডেমি এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, রাজশাহী নৃত্য বিভাগ।
প্রায় দুই শতাধিক নৃত্যশিল্পীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নৃত্যসন্ধ্যায় দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হন। মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা ও সৃজনশীল উপস্থাপনায় পুরো মিলনায়তন ছিল উৎসবমুখর।
অনুষ্ঠানে নগরীর সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করেন রাজশাহী জেলা মহিলা ভলিবল দলের খেলোয়াড়রা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী মনিরা রহমান মিঠি।
আয়োজকদের মতে, রাজশাহীর নৃত্যাঙ্গনের শিল্পীদের মধ্যে ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং রবীন্দ্র-নজরুলের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

























