Dhaka ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমরাই সন্ত্রাসবাদের শিকার: জাতিসংঘে ইরানের প্রেসিডেন্ট

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

 

ভাষণে শুরুতে যুদ্ধের প্রথম দিকে ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী হামলার কথা তুলে ধরেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আমি এমন এক ইরান থেকে এসেছি, যেখানে বাচ্চাদের স্কুলে বোমা হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করেছেন। অথচ আমরাই সন্ত্রাসবাদের শিকার। খবর সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান।

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণের এ অভিযোগ করেন তিনি।

ভাষণে শুরুতে যুদ্ধের প্রথম দিকে ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী হামলার কথা তুলে ধরেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আমি এমন এক ইরান থেকে এসেছি, যেখানে বাচ্চাদের স্কুলে বোমা হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এই শিশুরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যবহৃত অস্ত্রের বোমার আঘাতে প্রাণ হারিয়েছে। তারা নিরপরাধ ছিল, কোনো অপরাধ করেনি।

পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান মাথা নত করেনি… জবাব দিয়েছে। তবে আমরা বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা চালাইনি। আমরা শুধু নিজেদের রক্ষা করেছি—আমরা সন্ত্রাসী নই।

পেজেশকিয়ান বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার সময় জাতিসংঘের অধিবেশনকক্ষ থেকে মার্কিন প্রতিনিধিদল বেরিয়ে যায়।

জাতিসংঘে ট্রাম্পের আগের দিনের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান সম্পর্কে দেয়া ওই বক্তব্যের সবকিছুই জাতিসংঘ সনদের মূল চেতনার পরিপন্থী।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মি. ট্রাম্প এবং যারা আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে চান, তাদের বুঝতে হবে—আমরা সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে শক্তি প্রয়োগের ভাষা আমরা গ্রহণ করব না।

তিনি আরো বলেন, তাকে (ট্রাম্পের) অবশ্যই জানতে হবে, নিষেধাজ্ঞা, বাড়তি চাপ ও ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে ইরানি জনগণের প্রতিরোধ আরও বাড়বে। আমরা কখনো মাথা নত করব না বা হাঁটু গেড়ে বসব না।

ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানো ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি কথা বলতে চান উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, তারা ইরানের শক্তি ও দৃঢ়তা পরীক্ষা করেছে এবং বুঝেছে যে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ইরান কখনোই আগ্রাসী ছিল না, কখনো যুদ্ধ শুরু করেনি এবং সবসময় আলোচনার টেবিলে থাকার প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, তারা আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি যে প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধ করতে আমরা ভয় পাই না। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমরা আমাদের প্রিয় ইরান ও মাতৃভূমিকে রক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকব।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র ইসরায়েলের কাছে রয়েছে, অথচ পরিদর্শকরা ইরানে। ইসরায়েল মানুষ হত্যা করে, অথচ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, কেউ একটি জলপথে অবাধে প্রবেশ করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করবে, আবার একই জলপথ ব্যবহার করে আমাদের ওপর আগ্রাসন ও নিরাপত্তাহীনতা চাপিয়ে দেবে এবং আমাদের নিজেদের জলপথ ব্যবহারে বাধা দেবে—এটি আমরা মেনে নিতে পারি না। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধের বিস্তার কোনোভাবেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না।

ফিলিস্তিন পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকের ওপর ক্ষত হিসেবে উল্লেখ করেন পেজেশকিয়ান। তার ভাষায়, এটি বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতীক।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনকে উপেক্ষা করে আমরা শান্তির কথা বলতে পারি না। ফিলিস্তিনের জন্য ন্যায়বিচার ছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়।

পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই ইরানকে সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করে। অথচ আমরা শুধু স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই। তিনি বলেন, যারা সন্ত্রাস চালাচ্ছে এবং অপরাধ করছে, তারা কি শান্তি ও স্থিতিশীলতার রক্ষক? তাদের কেউই আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলছে না।

গত দুই শতকে ইরান কোনো দেশ বা ভূখণ্ডে হামলা চালায়নি দাবি করে পেজেশকিয়ান বলেন, তার দেশ সামরিক সক্ষমতাকে মূলত প্রতিরক্ষার জন্য ব্যবহার করে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশটি জ্বালানি ও উন্নয়নের জন্য পারমাণবিক প্রযুক্তি চায়, সামরিক উদ্দেশ্যে নয়। তিনি বলেন, “আমরা মাথা নত করব না এবং আমাদের সহজাত অধিকার ছেড়ে দেব না। আমরা স্পষ্টভাবে বলছি—পারমাণবিক অস্ত্র নয়, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তিতে কোনো সীমাবদ্ধতাও নয়।

পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধের ময়দানে আমাদের শান্তি আসবে না। ইরানের জনগণ ও জাতির জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

thirteen + 20 =

About Author Information

আমরাই সন্ত্রাসবাদের শিকার: জাতিসংঘে ইরানের প্রেসিডেন্ট

Update Time : ০৭:০৫:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

 

ভাষণে শুরুতে যুদ্ধের প্রথম দিকে ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী হামলার কথা তুলে ধরেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আমি এমন এক ইরান থেকে এসেছি, যেখানে বাচ্চাদের স্কুলে বোমা হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করেছেন। অথচ আমরাই সন্ত্রাসবাদের শিকার। খবর সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান।

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণের এ অভিযোগ করেন তিনি।

ভাষণে শুরুতে যুদ্ধের প্রথম দিকে ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী হামলার কথা তুলে ধরেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আমি এমন এক ইরান থেকে এসেছি, যেখানে বাচ্চাদের স্কুলে বোমা হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এই শিশুরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যবহৃত অস্ত্রের বোমার আঘাতে প্রাণ হারিয়েছে। তারা নিরপরাধ ছিল, কোনো অপরাধ করেনি।

পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান মাথা নত করেনি… জবাব দিয়েছে। তবে আমরা বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা চালাইনি। আমরা শুধু নিজেদের রক্ষা করেছি—আমরা সন্ত্রাসী নই।

পেজেশকিয়ান বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার সময় জাতিসংঘের অধিবেশনকক্ষ থেকে মার্কিন প্রতিনিধিদল বেরিয়ে যায়।

জাতিসংঘে ট্রাম্পের আগের দিনের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান সম্পর্কে দেয়া ওই বক্তব্যের সবকিছুই জাতিসংঘ সনদের মূল চেতনার পরিপন্থী।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মি. ট্রাম্প এবং যারা আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে চান, তাদের বুঝতে হবে—আমরা সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে শক্তি প্রয়োগের ভাষা আমরা গ্রহণ করব না।

তিনি আরো বলেন, তাকে (ট্রাম্পের) অবশ্যই জানতে হবে, নিষেধাজ্ঞা, বাড়তি চাপ ও ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে ইরানি জনগণের প্রতিরোধ আরও বাড়বে। আমরা কখনো মাথা নত করব না বা হাঁটু গেড়ে বসব না।

ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানো ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি কথা বলতে চান উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, তারা ইরানের শক্তি ও দৃঢ়তা পরীক্ষা করেছে এবং বুঝেছে যে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ইরান কখনোই আগ্রাসী ছিল না, কখনো যুদ্ধ শুরু করেনি এবং সবসময় আলোচনার টেবিলে থাকার প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, তারা আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি যে প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধ করতে আমরা ভয় পাই না। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমরা আমাদের প্রিয় ইরান ও মাতৃভূমিকে রক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকব।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র ইসরায়েলের কাছে রয়েছে, অথচ পরিদর্শকরা ইরানে। ইসরায়েল মানুষ হত্যা করে, অথচ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, কেউ একটি জলপথে অবাধে প্রবেশ করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করবে, আবার একই জলপথ ব্যবহার করে আমাদের ওপর আগ্রাসন ও নিরাপত্তাহীনতা চাপিয়ে দেবে এবং আমাদের নিজেদের জলপথ ব্যবহারে বাধা দেবে—এটি আমরা মেনে নিতে পারি না। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধের বিস্তার কোনোভাবেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না।

ফিলিস্তিন পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকের ওপর ক্ষত হিসেবে উল্লেখ করেন পেজেশকিয়ান। তার ভাষায়, এটি বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতীক।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনকে উপেক্ষা করে আমরা শান্তির কথা বলতে পারি না। ফিলিস্তিনের জন্য ন্যায়বিচার ছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়।

পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই ইরানকে সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করে। অথচ আমরা শুধু স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই। তিনি বলেন, যারা সন্ত্রাস চালাচ্ছে এবং অপরাধ করছে, তারা কি শান্তি ও স্থিতিশীলতার রক্ষক? তাদের কেউই আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলছে না।

গত দুই শতকে ইরান কোনো দেশ বা ভূখণ্ডে হামলা চালায়নি দাবি করে পেজেশকিয়ান বলেন, তার দেশ সামরিক সক্ষমতাকে মূলত প্রতিরক্ষার জন্য ব্যবহার করে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশটি জ্বালানি ও উন্নয়নের জন্য পারমাণবিক প্রযুক্তি চায়, সামরিক উদ্দেশ্যে নয়। তিনি বলেন, “আমরা মাথা নত করব না এবং আমাদের সহজাত অধিকার ছেড়ে দেব না। আমরা স্পষ্টভাবে বলছি—পারমাণবিক অস্ত্র নয়, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তিতে কোনো সীমাবদ্ধতাও নয়।

পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধের ময়দানে আমাদের শান্তি আসবে না। ইরানের জনগণ ও জাতির জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।