Dhaka ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমিরাতকে কূটনৈতিকভাবে বয়কট করল আলজেরিয়া

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে ‘উসকানিমূলক ও বৈরী কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ তুলে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে আলজেরিয়া। বৃহস্পতিবার আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয় আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আলজেরিয়ার ওই ঘোষণার পরপরই আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক কোনও ধাঁধা কিংবা সঙ্কেত সমাধানের বিষয় নয়, বরং তা যৌক্তিকতা, যোগাযোগ এবং স্বার্থের স্পষ্টতার ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন দেখা যায়। আলজেরীয় গণমাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তীব্র সমালোচনা করে দেশটির বিরুদ্ধে আঞ্চলিক কোন্দল উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।

আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকাণ্ড এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আর সহ্য করার মতো নয় এবং দেশটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রক্ষার শেষ চেষ্টাও করে ফেলেছে।

এক্সে দেওয়া পোস্টে গারগাশ সরাসরি আলজেরিয়ার নাম উল্লেখ করেননি বা তার মন্তব্যকে আলজেরিয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেননি। তিনি বলেছেন, সফল কূটনীতি মূলত স্পষ্ট অবস্থান তৈরি এবং স্বার্থ ও মতপার্থক্যগুলোর কার্যকর নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করে।

আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশ ছাড়তে তাকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলজেরিয়া ও আমিরাতের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কঠোর বিরোধী আলজেরিয়া। অন্যদিকে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’র অধীনে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং আলজেরিয়ার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী মরক্কো; উভয়ই ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

কয়েক দশক ধরে চলতে থাকা পশ্চিম সাহারা বিতর্ক নিয়েও দুই দেশ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। পশ্চিম সাহারায় একটি কনস্যুলেট খোলার মাধ্যমে ওই অঞ্চলের ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্বের দাবিকে সমর্থন দিয়ে আসছে আমিরাত। বিপরীতে আলজেরিয়া সমর্থন দিচ্ছে পোলিসারিও ফ্রন্টকে; যারা পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে।

আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলেও দুই দেশের স্বার্থের মিল নেই। বিগত বছরগুলোতে অঞ্চলটির একাধিক সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে আমিরাত। অন্যদিকে একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থানের পর দক্ষিণের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলজেরিয়ার সম্পর্কে চিড় ধরেছে।

গত বছর আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আব্দেল মাজিদ তাবুন বলেছিলেন, একটি দেশ ছাড়া পারস্য উপসাগরীয় সব দেশের সঙ্গেই আলজেরিয়ার উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে; যা ছিল আমিরাতের প্রতি এক পরোক্ষ ইঙ্গিত।

সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতারের সঙ্গে সম্পর্ককে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে নাম না উল্লেখ করা ওই দেশটিকে আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টার দায়ে অভিযুক্ত করেন তিনি।

এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ২০১৩ সালের মে মাসে আবুধাবিতে স্বাক্ষরিত একটি বিমান পরিষেবা চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করে আলজেরিয়া।

সূত্র: রয়টার্স।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

seven + 2 =

About Author Information

আমিরাতকে কূটনৈতিকভাবে বয়কট করল আলজেরিয়া

Update Time : ০৬:৪৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে ‘উসকানিমূলক ও বৈরী কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ তুলে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে আলজেরিয়া। বৃহস্পতিবার আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয় আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আলজেরিয়ার ওই ঘোষণার পরপরই আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক কোনও ধাঁধা কিংবা সঙ্কেত সমাধানের বিষয় নয়, বরং তা যৌক্তিকতা, যোগাযোগ এবং স্বার্থের স্পষ্টতার ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন দেখা যায়। আলজেরীয় গণমাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তীব্র সমালোচনা করে দেশটির বিরুদ্ধে আঞ্চলিক কোন্দল উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।

আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকাণ্ড এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আর সহ্য করার মতো নয় এবং দেশটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রক্ষার শেষ চেষ্টাও করে ফেলেছে।

এক্সে দেওয়া পোস্টে গারগাশ সরাসরি আলজেরিয়ার নাম উল্লেখ করেননি বা তার মন্তব্যকে আলজেরিয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেননি। তিনি বলেছেন, সফল কূটনীতি মূলত স্পষ্ট অবস্থান তৈরি এবং স্বার্থ ও মতপার্থক্যগুলোর কার্যকর নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করে।

আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশ ছাড়তে তাকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলজেরিয়া ও আমিরাতের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কঠোর বিরোধী আলজেরিয়া। অন্যদিকে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’র অধীনে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং আলজেরিয়ার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী মরক্কো; উভয়ই ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

কয়েক দশক ধরে চলতে থাকা পশ্চিম সাহারা বিতর্ক নিয়েও দুই দেশ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। পশ্চিম সাহারায় একটি কনস্যুলেট খোলার মাধ্যমে ওই অঞ্চলের ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্বের দাবিকে সমর্থন দিয়ে আসছে আমিরাত। বিপরীতে আলজেরিয়া সমর্থন দিচ্ছে পোলিসারিও ফ্রন্টকে; যারা পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে।

আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলেও দুই দেশের স্বার্থের মিল নেই। বিগত বছরগুলোতে অঞ্চলটির একাধিক সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে আমিরাত। অন্যদিকে একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থানের পর দক্ষিণের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলজেরিয়ার সম্পর্কে চিড় ধরেছে।

গত বছর আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আব্দেল মাজিদ তাবুন বলেছিলেন, একটি দেশ ছাড়া পারস্য উপসাগরীয় সব দেশের সঙ্গেই আলজেরিয়ার উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে; যা ছিল আমিরাতের প্রতি এক পরোক্ষ ইঙ্গিত।

সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতারের সঙ্গে সম্পর্ককে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে নাম না উল্লেখ করা ওই দেশটিকে আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টার দায়ে অভিযুক্ত করেন তিনি।

এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ২০১৩ সালের মে মাসে আবুধাবিতে স্বাক্ষরিত একটি বিমান পরিষেবা চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করে আলজেরিয়া।

সূত্র: রয়টার্স।