আশানুরূপ পর্যটক না আসায় হতাশ কুয়াকাটার ব্যবসায়ীরা
ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠার কথা থাকলেও আশানুরূপ পর্যটক আসেনি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটায়। বৈরী আবহাওয়া, যাতায়াতজনিত নানা প্রতিবন্ধকতা এবং পর্যটকদের অনাগ্রহের কারণে সৈকতজুড়ে বিরাজ করছে তুলনামূলক নিরবতা। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীরা। তবে সামনের দিকে পর্যটকদের সমাগম বাড়বে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকে কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট, তিন নদীর মোহনা, লেম্বুরবন, গঙ্গামতী সৈকতসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য বছরের ঈদ মৌসুমের তুলনায় পর্যটকের উপস্থিতি অনেক কম। সৈকতের বিস্তীর্ণ বালুচরে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু দর্শনার্থী ঘোরাফেরা করলেও কোথাও দেখা যায়নি প্রত্যাশিত জনসমাগম।
একই চিত্র আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউজগুলোতেও। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হলেও অধিকাংশ হোটেলের কক্ষ এখনো খালি পড়ে রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি উদ্বেগে রয়েছেন এই খাতের সঙ্গে জড়িত হাজারো কর্মচারী।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, পর্যটক কম হওয়ায় হোটেল খাতের কর্মচারীরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কুয়াকাটার অর্থনীতি মূলত পর্যটননির্ভর। পর্যটক না থাকলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসা—সবখানেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তিনি বলেন, কুয়াকাটার ২৩০টিরও বেশি আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউজের বেশিরভাগেই আশানুরূপ বুকিং হয়নি। কোথাও ২০ শতাংশ, কোথাও ৪০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। অনেক হোটেলের অর্ধেকেরও বেশি কক্ষ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। ফলে ঈদকে ঘিরে বড় ধরনের বিনিয়োগ করা ব্যবসায়ীরা লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
কুয়াকাটা প্রেসিডেন্ট পার্ক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের জেনারেল ম্যানেজার মোরশেদ খান বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আমাদের হোটেল শতভাগ সমুদ্রদৃশ্য উপভোগের সুযোগ থাকায় সবসময় পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় থাকে। কিন্তু এবার প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটক আসেননি। এখনো অনেক কক্ষ খালি রয়েছে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে এবার পর্যটকের সংখ্যা বেশি হবে বলে আমরা আশা করেছিলাম। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে ছুটির বাকি দিনগুলোতে পর্যটকের চাপ বাড়তে পারে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকত এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌপুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ জয়ন্ত কুমার বলেন, পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াতে পারেন, সেজন্য সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।



















