Dhaka ০১:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫০ মেডেলের মাইলফলকে নাহিদ দা সুইফট

নিজস্ব প্রতিবেদক
13 / 100 SEO Score

দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ৫০তম মেডেল জয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তরুণ রানার নাহিদ, যিনি রানিং কমিউনিটিতে পরিচিত “নাহিদ দা সুইফট” নামে। ব্যাংকার পরিচয়ের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে দৌড়ের ট্র্যাকে নিজেকে অনুপ্রেরণার প্রতীকে পরিণত করেছেন তিনি।

নাহিদের দৌড়জীবনের শুরু ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের মাঠে। শুরুতে ফিটনেস ধরে রাখার জন্য দৌড়ালেও ধীরে ধীরে এটি তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। করোনা মহামারির সময় যখন সবকিছু স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখনও তিনি অনুশীলন চালিয়ে যান। ধানমন্ডি লেকের নির্জন ভোরে একাকী দৌড়ে নিজেকে আরও প্রস্তুত করে তোলেন তিনি।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সাব-ইনস্পেক্টর ট্রেনিংয়ের সময় দৌড় তার জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে। কঠোর শৃঙ্খলা, নিয়মিত অনুশীলন এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে যাওয়ার অভ্যাস তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। ঢাকার হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন ট্র্যাকে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি ধাপে ধাপে গড়ে তুলেছেন নিজের সক্ষমতা।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন স্বীকৃত এই রানার ২০২৫ সালে অর্জন করেন “নেপাল ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স” অ্যাওয়ার্ড। দৌড়ের মাধ্যমে ফিটনেস সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া এবং জনস্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এই সম্মাননা পান।

নাহিদ শুধু নিজে দৌড়ান না, নতুনদেরও দৌড়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে কাজ করছেন। জাতীয় পত্রিকায় লেখালেখি, সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার এবং নতুন রানারদের পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি ইতিবাচক একটি রানিং কমিউনিটি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখছেন।

সম্প্রতি একটিভ পালস বাংলাদেশের আয়োজিত আগারগাঁও নাইট রানে ১০ কিলোমিটার ক্যাটাগরিতে ৬০ মিনিটের অফিসিয়াল পেসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। নতুন রানারদের নির্ধারিত সময়ে রেস শেষ করতে সহায়তা করেন নাহিদ।

বর্তমানে তিনি আয়রনম্যান প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখছেন এই তরুণ রানার। তার বিশ্বাস, সঠিক স্পন্সর ও সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশের রানাররাও বিশ্বমঞ্চে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবেন।

দৌড়বিদ নাহিদের সঙ্গে কথা বলেছেন আমাদের দুর্নীতির বার্তার যুগ্ম সম্পাদক সুরাইয়া শারমিন।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৫০ মেডেলের মাইলফলকে নাহিদ দা সুইফট

Update Time : ০৩:৩৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
13 / 100 SEO Score

দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ৫০তম মেডেল জয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তরুণ রানার নাহিদ, যিনি রানিং কমিউনিটিতে পরিচিত “নাহিদ দা সুইফট” নামে। ব্যাংকার পরিচয়ের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে দৌড়ের ট্র্যাকে নিজেকে অনুপ্রেরণার প্রতীকে পরিণত করেছেন তিনি।

নাহিদের দৌড়জীবনের শুরু ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের মাঠে। শুরুতে ফিটনেস ধরে রাখার জন্য দৌড়ালেও ধীরে ধীরে এটি তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। করোনা মহামারির সময় যখন সবকিছু স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখনও তিনি অনুশীলন চালিয়ে যান। ধানমন্ডি লেকের নির্জন ভোরে একাকী দৌড়ে নিজেকে আরও প্রস্তুত করে তোলেন তিনি।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সাব-ইনস্পেক্টর ট্রেনিংয়ের সময় দৌড় তার জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে। কঠোর শৃঙ্খলা, নিয়মিত অনুশীলন এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে যাওয়ার অভ্যাস তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। ঢাকার হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন ট্র্যাকে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি ধাপে ধাপে গড়ে তুলেছেন নিজের সক্ষমতা।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন স্বীকৃত এই রানার ২০২৫ সালে অর্জন করেন “নেপাল ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স” অ্যাওয়ার্ড। দৌড়ের মাধ্যমে ফিটনেস সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া এবং জনস্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এই সম্মাননা পান।

নাহিদ শুধু নিজে দৌড়ান না, নতুনদেরও দৌড়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে কাজ করছেন। জাতীয় পত্রিকায় লেখালেখি, সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার এবং নতুন রানারদের পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি ইতিবাচক একটি রানিং কমিউনিটি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখছেন।

সম্প্রতি একটিভ পালস বাংলাদেশের আয়োজিত আগারগাঁও নাইট রানে ১০ কিলোমিটার ক্যাটাগরিতে ৬০ মিনিটের অফিসিয়াল পেসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। নতুন রানারদের নির্ধারিত সময়ে রেস শেষ করতে সহায়তা করেন নাহিদ।

বর্তমানে তিনি আয়রনম্যান প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখছেন এই তরুণ রানার। তার বিশ্বাস, সঠিক স্পন্সর ও সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশের রানাররাও বিশ্বমঞ্চে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবেন।

দৌড়বিদ নাহিদের সঙ্গে কথা বলেছেন আমাদের দুর্নীতির বার্তার যুগ্ম সম্পাদক সুরাইয়া শারমিন।