Dhaka ০৩:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঋণ সংকটে নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে সতর্ক করল আইএমএফ

8 / 100 SEO Score

 

ঋণ পরিশোধে নিজেদের রাজস্বের ৮ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে। বৈশ্বিক সুদহার বৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যুদ্ধ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে এসব দেশের অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঋণ সংকট মোকাবিলায় নিম্ন আয়ের দেশগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।

ব্যাংককে আইএমএফের বার্ষিক সভা শেষ হওয়ার পর জর্জিয়েভা বলেন, বৈশ্বিক নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনায় ‘আশাবাদ ও উদ্বেগ’—দুইয়েরই প্রতিফলন ঘটেছে।

জর্জিয়েভা সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাবনা এবং এশিয়ার গতিশীলতা থেকে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তবে এআইকে উদ্বেগের উৎস হিসেবেও দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি, ঋণের উচ্চ বোঝা, যুদ্ধ এবং জলবায়ু ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ধনী দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখা এআই খাতে বিনিয়োগের উত্থানের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো। একই সময়ে এসব দেশকে উচ্চ ঋণ ব্যয়ের চাপও সামলাতে হচ্ছে।

জর্জিয়েভা বলেন, বৈশ্বিক সুদহার বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে এখন ঋণ পরিশোধে তাদের রাজস্বের ৮ থেকে ১৪ শতাংশ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি।

তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারি, সব জায়গার মানুষই মূল্যস্ফীতি পছন্দ করে না। তবে দরিদ্র দেশগুলোর মানুষ এর কারণে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। মূল্যস্ফীতি দরিদ্র মানুষের ওপর একধরনের করের মতো।’

বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে নিম্ন আয়ের জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশগুলো। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা ও আর্থিক কমিটি (আইএমএফসি)-র চেয়ারম্যান ও সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সংঘাত ও বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়তে থাকলে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে। এতে পরিশোধিত জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের দামের ওপর চাপ বাড়বে এবং জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।’

১৯১ সদস্যের আইএমএফের প্রধান নীতিনির্ধারণী কমিটি হলো আইএমএফসি।

জর্জিয়েভা বলেন, প্রয়োজন হলে দেশগুলোর ঋণ পুনর্গঠনে সহায়তা করা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বাড়ানো, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন আকৃষ্ট করা এবং বেসরকারি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতা করার দায়িত্ব আইএমএফের রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব দেশের ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা এমনভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য আরও বেশি সম্পদ নিশ্চিত করতে আইএমএফ নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

জর্জিয়েভা বলেন, ‘আমরা যখন যথাসাধ্য চেষ্টা করি, তখন তার সুফল মানুষের জীবনমানের উন্নতির মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

five × 4 =

About Author Information

ঋণ সংকটে নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে সতর্ক করল আইএমএফ

Update Time : ০৩:৩০:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

ঋণ পরিশোধে নিজেদের রাজস্বের ৮ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে। বৈশ্বিক সুদহার বৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যুদ্ধ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে এসব দেশের অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঋণ সংকট মোকাবিলায় নিম্ন আয়ের দেশগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।

ব্যাংককে আইএমএফের বার্ষিক সভা শেষ হওয়ার পর জর্জিয়েভা বলেন, বৈশ্বিক নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনায় ‘আশাবাদ ও উদ্বেগ’—দুইয়েরই প্রতিফলন ঘটেছে।

জর্জিয়েভা সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাবনা এবং এশিয়ার গতিশীলতা থেকে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তবে এআইকে উদ্বেগের উৎস হিসেবেও দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি, ঋণের উচ্চ বোঝা, যুদ্ধ এবং জলবায়ু ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ধনী দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখা এআই খাতে বিনিয়োগের উত্থানের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো। একই সময়ে এসব দেশকে উচ্চ ঋণ ব্যয়ের চাপও সামলাতে হচ্ছে।

জর্জিয়েভা বলেন, বৈশ্বিক সুদহার বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে এখন ঋণ পরিশোধে তাদের রাজস্বের ৮ থেকে ১৪ শতাংশ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি।

তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারি, সব জায়গার মানুষই মূল্যস্ফীতি পছন্দ করে না। তবে দরিদ্র দেশগুলোর মানুষ এর কারণে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। মূল্যস্ফীতি দরিদ্র মানুষের ওপর একধরনের করের মতো।’

বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে নিম্ন আয়ের জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশগুলো। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা ও আর্থিক কমিটি (আইএমএফসি)-র চেয়ারম্যান ও সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সংঘাত ও বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়তে থাকলে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে। এতে পরিশোধিত জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের দামের ওপর চাপ বাড়বে এবং জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।’

১৯১ সদস্যের আইএমএফের প্রধান নীতিনির্ধারণী কমিটি হলো আইএমএফসি।

জর্জিয়েভা বলেন, প্রয়োজন হলে দেশগুলোর ঋণ পুনর্গঠনে সহায়তা করা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বাড়ানো, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন আকৃষ্ট করা এবং বেসরকারি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতা করার দায়িত্ব আইএমএফের রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব দেশের ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা এমনভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য আরও বেশি সম্পদ নিশ্চিত করতে আইএমএফ নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

জর্জিয়েভা বলেন, ‘আমরা যখন যথাসাধ্য চেষ্টা করি, তখন তার সুফল মানুষের জীবনমানের উন্নতির মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়।