ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়তে বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান
ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সহযোগিতায় শনিবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘গভর্নরের সঙ্গে মতবিনিময়’ সভায় তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে বাংলা কিউআরের ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ইনচার্জ) ড. জি.এম. মুজিবর রহমান এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. এহতেশামুল হক খান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং অন্যান্য পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি মাত্র কিউআর কোড ব্যবহার করে নিরাপদ, সহজ ও আন্তঃপরিচালনযোগ্য ডিজিটাল লেনদেন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, বাংলা কিউআর দেশে একটি ক্যাশলেস ও গতিশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সহজে ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সেবার পরিধিও আরও বিস্তৃত হবে।
গভর্নর বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে, নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা তত কমবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে দেশে ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ইনচার্জ) ড. জি.এম. মুজিবর রহমান বাংলা কিউআর বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংককে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহার সম্প্রসারণেও এ ধরনের কর্মসূচি সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. এহতেশামুল হক খান বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে সময় ও অর্থ—দুটিই সাশ্রয় করা সম্ভব। প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন ব্যবস্থার ব্যাপক প্রসারের পাশাপাশি মানুষের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সুবিধা সম্পর্কে মানুষকে আরও বেশি জানানো এবং দৈনন্দিন লেনদেনে এর ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের বাংলা কিউআরের ব্যবহার, সুবিধা এবং আন্তঃপরিচালনযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বাংলা কিউআর সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজলভ্য করার মাধ্যমে ক্যাশলেস বাংলাদেশ গঠনের উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়াই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য




















