Dhaka ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ দল

ক্রীড়া প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

বাংলাদেশ-মিয়ানমার ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করে এক পয়েন্ট নিয়েই এশিয়ান গেমসে মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশের লাল সবুজের দলকে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাপানে ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।

গত বছর মিয়ানমারকে তাদের ঘরের মাঠে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপে খেলে বাংলাদেশ। দেড় বছর পর সেই মিয়ানমারের বিপক্ষে খেলতে নেমে কোনো গোল করতে পারেনি বাংলাদেশ।

এশিয়া কাপের চলতি আসরে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য ছিল। মিয়ানমারের অবস্থাও একই ছিল। তারাও আগের দুই ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে ৮-০ গোলে হেরেছিল।

প্রথমার্ধে আক্রমণের দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে ছিল মিয়ানমার। ম্যাচের ২৭তম মিনিটে মিয়ানমারের একটি দুর্দান্ত শট গোলের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠলেও বাংলাদেশের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা তা আটকে দেন। রুপনার পাশাপাশি শিউলি আজিম ও শামসুন্নাহার সিনিয়রদের রক্ষণও মিয়ানমারের আক্রমণ সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশের আক্রমণে ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা ও তহুরা খাতুনকে সামনে রেখে সুযোগ তৈরির চেষ্টা ছিল। অন্যদিকে মিয়ানমারের আক্রমণে উইন থেইঙ্গি তুনকে ঘিরে ছিল তাদের অন্যতম প্রধান হুমকি। মিয়ানমার দুই প্রান্ত ব্যবহার করে বাংলাদেশের রক্ষণে জায়গা তৈরির চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশ সুযোগ পেলেই দ্রুত বল সামনে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

বিরতির পরও ম্যাচের চিত্র খুব বেশি বদলায়নি। মিয়ানমার তুলনামূলক বেশি আক্রমণ তৈরি করতে থাকে। বাংলাদেশের রক্ষণকে বারবার পরীক্ষা দিতে হলেও রুপনা চাকমার দৃঢ়তায় গোলের দেখা পায়নি মিয়ানমার।

ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে বাংলাদেশের মৌমিতা একটি ফাউলে জড়ান। ম্যাচের ৮১তম মিনিটে বাংলাদেশের গোলমুখে আক্রমণ তৈরি করে মিয়ানমার। তাদের আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও বাংলাদেশের একজন ডিফেন্ডার সময়মতো সেটি রুখে দেন। ফলে মিয়ানমারের আরেকটি সম্ভাব্য গোলের সুযোগ নষ্ট হয়।

ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে বাংলাদেশও একটি কর্নার আদায় করে নেয়। অধিনায়ক মারিয়া মান্দা সেই কর্নার থেকে কাঙ্ক্ষিত গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ।

৮৬ মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ তৈরি করে মিয়ানমার। তবে আক্রমণটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় তারা। পরের মিনিটেই অর্থাৎ ৮৭ মিনিটে বাংলাদেশ আবারও ফাউল করে। এতে মিয়ানমার একটি ফ্রি কিক পায়। ফ্রি কিক থেকে নেওয়া শটও জালে জড়াতে পারেনি মিয়ানমার।

ম্যাচের ৯১তম মিনিটে মিয়ানমারের স্ট্রাইকার দুর্দান্ত একটি আক্রমণ তৈরি করেন। গোলবারের খুব কাছ থেকে নেওয়া সেই প্রচেষ্টা বাংলাদেশের জন্য বিপদ তৈরি করলেও আবারও সামনে দাঁড়িয়ে যান রুপনা চাকমা। তার দুর্দান্ত সেভে মিয়ানমারের গোলের সুযোগ নষ্ট হয় এবং বাংলাদেশ গোলশূন্য অবস্থান ধরে রাখে।

মিয়ানমার পুরো ম্যাচে আক্রমণ ও শটের সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের রক্ষণ এবং গোলরক্ষক রুপনা চাকমাকে পরাস্ত করতে পারেনি। বাংলাদেশও আক্রমণে কাঙ্ক্ষিত ধার তৈরি করতে পারেনি। ফলে ৯০ মিনিট ও যোগ করা সময় মিলিয়ে গোলশূন্য ড্রতেই শেষ হয় বাংলাদেশ-মিয়ানমার ম্যাচ।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

twenty + twelve =

About Author Information

গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ দল

Update Time : ০৫:১৫:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

বাংলাদেশ-মিয়ানমার ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করে এক পয়েন্ট নিয়েই এশিয়ান গেমসে মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশের লাল সবুজের দলকে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাপানে ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।

গত বছর মিয়ানমারকে তাদের ঘরের মাঠে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপে খেলে বাংলাদেশ। দেড় বছর পর সেই মিয়ানমারের বিপক্ষে খেলতে নেমে কোনো গোল করতে পারেনি বাংলাদেশ।

এশিয়া কাপের চলতি আসরে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য ছিল। মিয়ানমারের অবস্থাও একই ছিল। তারাও আগের দুই ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে ৮-০ গোলে হেরেছিল।

প্রথমার্ধে আক্রমণের দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে ছিল মিয়ানমার। ম্যাচের ২৭তম মিনিটে মিয়ানমারের একটি দুর্দান্ত শট গোলের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠলেও বাংলাদেশের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা তা আটকে দেন। রুপনার পাশাপাশি শিউলি আজিম ও শামসুন্নাহার সিনিয়রদের রক্ষণও মিয়ানমারের আক্রমণ সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশের আক্রমণে ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা ও তহুরা খাতুনকে সামনে রেখে সুযোগ তৈরির চেষ্টা ছিল। অন্যদিকে মিয়ানমারের আক্রমণে উইন থেইঙ্গি তুনকে ঘিরে ছিল তাদের অন্যতম প্রধান হুমকি। মিয়ানমার দুই প্রান্ত ব্যবহার করে বাংলাদেশের রক্ষণে জায়গা তৈরির চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশ সুযোগ পেলেই দ্রুত বল সামনে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

বিরতির পরও ম্যাচের চিত্র খুব বেশি বদলায়নি। মিয়ানমার তুলনামূলক বেশি আক্রমণ তৈরি করতে থাকে। বাংলাদেশের রক্ষণকে বারবার পরীক্ষা দিতে হলেও রুপনা চাকমার দৃঢ়তায় গোলের দেখা পায়নি মিয়ানমার।

ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে বাংলাদেশের মৌমিতা একটি ফাউলে জড়ান। ম্যাচের ৮১তম মিনিটে বাংলাদেশের গোলমুখে আক্রমণ তৈরি করে মিয়ানমার। তাদের আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও বাংলাদেশের একজন ডিফেন্ডার সময়মতো সেটি রুখে দেন। ফলে মিয়ানমারের আরেকটি সম্ভাব্য গোলের সুযোগ নষ্ট হয়।

ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে বাংলাদেশও একটি কর্নার আদায় করে নেয়। অধিনায়ক মারিয়া মান্দা সেই কর্নার থেকে কাঙ্ক্ষিত গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ।

৮৬ মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ তৈরি করে মিয়ানমার। তবে আক্রমণটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় তারা। পরের মিনিটেই অর্থাৎ ৮৭ মিনিটে বাংলাদেশ আবারও ফাউল করে। এতে মিয়ানমার একটি ফ্রি কিক পায়। ফ্রি কিক থেকে নেওয়া শটও জালে জড়াতে পারেনি মিয়ানমার।

ম্যাচের ৯১তম মিনিটে মিয়ানমারের স্ট্রাইকার দুর্দান্ত একটি আক্রমণ তৈরি করেন। গোলবারের খুব কাছ থেকে নেওয়া সেই প্রচেষ্টা বাংলাদেশের জন্য বিপদ তৈরি করলেও আবারও সামনে দাঁড়িয়ে যান রুপনা চাকমা। তার দুর্দান্ত সেভে মিয়ানমারের গোলের সুযোগ নষ্ট হয় এবং বাংলাদেশ গোলশূন্য অবস্থান ধরে রাখে।

মিয়ানমার পুরো ম্যাচে আক্রমণ ও শটের সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের রক্ষণ এবং গোলরক্ষক রুপনা চাকমাকে পরাস্ত করতে পারেনি। বাংলাদেশও আক্রমণে কাঙ্ক্ষিত ধার তৈরি করতে পারেনি। ফলে ৯০ মিনিট ও যোগ করা সময় মিলিয়ে গোলশূন্য ড্রতেই শেষ হয় বাংলাদেশ-মিয়ানমার ম্যাচ।