Dhaka ০২:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাওনা আদায়ের নামে ‘মামলা-বাণিজ্য’, আল মোস্তফা গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ ফেসবুকে ফ্রি ভেরিফায়েড ব্যাজ পাবেন না যারা মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ব্যাখ্যা দিলেন ইশরাক হোসেন প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে মেসির জোড়া গোল, জিতলো মায়ামি নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফ হত্যায় যুবক গ্রেফতার কানাডায় সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বহু হতাহতের শঙ্কা মালয়েশিয়ায় চলতি বছরে বাংলাদেশিসহ ৬৫ হাজারের বেশি বিদেশি আটক কক্সবাজারে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, একই পরিবারের ছয়জন ‘জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব’ ত্রিদেশীয় সিরিজে হার দিয়ে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু

ত্রিদেশীয় সিরিজে হার দিয়ে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু

10 / 100 SEO Score

 

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩.৪ ওভারে মাত্র ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় তাওহীদ হৃদয়ের দল।

রান তাড়ায় ঝড়ো শুরু করেছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। তবে আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার সুবিধা করতে পারেননি। ১৭ বলে মাত্র ৯ রান করে মুজারাবানির বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সৌম্য। ৪৭ রানের প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর তানজিদ তামিমও বেশিক্ষণ টেকেননি। মিস করেন ফিফটি। ৩৮ বলে ৯ চার আর ১ ছক্কায় ৪৬ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এক বল পর নাজমুল হোসেন শান্তকেও হারায় বাংলাদেশ। ৪ রান করে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি।

তাওহীদ হৃদয় দেখেশুনে শুরু করেছিলেন। কিন্তু ২১ বলে ১৩ করে সিকান্দার রাজার এলবিডব্লিউর শিকার হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। একশর আগে (৯৭ রানে) ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর কিছুটা সময় ধরে রেখেছিলেন সাইফ হাসান আর মোসাদ্দেক হোসেন। কিন্তু আরেকটি এলবিডব্লিউ দেখে দল। এবার মাসাকাদজার বলে ফিরে যান মোসাদ্দেক, ১৮ বলে ১১ করে। নুরুল হাসান সোহান করেন ৮ বলে ৫।

১২৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে হার নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। সেখান থেকে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন লোয়ার অর্ডারের তাসকিন আহমেদ আর রিশাদ হোসেন।

তবে রিশাদ হোসেন ৩৩ বলে ২৩ করে ফেরার পর আর বেশিদূর এগোতে পারেনি বাংলাদেশ। তাসকিন ১৩ বলে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন। ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের ব্র্যাড ইভান্স ৪টি, সিকান্দার রাজা ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা নেন ২টি করে উইকেট।

এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ২৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে।

আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নামে জিম্বাবুয়ে। প্রথম ওভারের শেষ বলে কট বিহাইন্ডের জোরালো আবেদন করেন বাংলাদেশের বোলার ও ফিল্ডাররা। আম্পায়ার আঙুল তুলতে যেন অনন্তকাল সময় নিলেন! বলটি ছিল দারুণ একটি ডেলিভারি। একটু খাটো লেংথে পড়েই ভেতরের দিকে সুইং করে মিডল স্টাম্পের দিকে ঢুকে আসে। নড়াচড়া করা বলের গতিপথ খুঁজতে গিয়ে বেনেট (০) বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং ভুল লাইনে ব্যাট চালান। জোরালো আবেদন ওঠে, আম্পায়ারও সময় নিয়ে আঙ্গুল তোলেন।

তবে ডিআরএস নেওয়ার নির্ধারিত সময় প্রায় শেষ হওয়ার মুহূর্তে রিভিউ নেন বেনেট। আল্ট্রা-এজে কোনো স্পাইক ধরা পড়েনি। বলটি কেবল বাঁ উরুর প্যাডের ওপরের অংশে লেগেছে। এবার দেখা হলো এলবিডব্লিউর আবেদন। বল পিচ করেছে অফ স্ট্যাম্পের বাইরে। উইকেটে আঘাত করার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত আম্পায়ার্স কল, আর বলটি মিডল স্ট্যাম্পের একেবারে ওপরের অংশে সামান্য ছুঁয়ে যাচ্ছিল। অতি সামান্য ব্যবধানে এলবিডব্লিউ আউট হয়ে গেলেন বেনেট। আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত বহাল রাখতেই হতাশায় চিৎকার করে ওঠেন তিনি।

অসাধারণ একটি প্রথম ওভার! দুর্দান্তভাবে ব্যাটারকে সেটআপ করে শেষ পর্যন্ত ভেতরের দিকে ঢোকা এই ডেলিভারিতে উইকেট তুলে নিলেন তাসকিন।

এরপর পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে দ্বিতীয় উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন করেন তাসকিন। আম্পায়ারও দ্রুত আঙ্গুল তুলে দিলেন। আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন তাসকিন!

তবে আরেকবার যাচাই করে দেখতে চান কারান। তিনি রিভিউ নেন। দেখা গেলো, ওভার দ্য উইকেট থেকে করা লেংথ ডেলিভারিটি ভেতরের দিকে ঢুকে সরাসরি তার প্যাডে আঘাত করে। বলটি তার বাঁ-পায়ের হাঁটুর ঠিক ওপরের অংশে লাগে। ব্যাটে বল লাগেনি। বাংলাদেশের সমর্থকেরা তখন উৎকণ্ঠা নিয়ে রিভিউয়ের ফল দেখার অপেক্ষায় ছিল।

রিপ্লেতে দেখা গেল, বল পিচ করেছে স্টাম্পের লাইনে, আঘাতও লেগেছে স্টাম্পের লাইনে এবং পায়ে না লাগলে বলটি মিডল স্টাম্পে আঘাত করত। ফলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকল। আউট হয়ে যান কারান (৬)!

সপ্তম ওভারের শেষ বলটি শর্ট ডেলিভারি ছিল তাসকিনের। অফ স্ট্যাম্প বরাবর অস্বস্তিকর লাইন বজায় রাখলেন তিনি। রান তোলার গতি বাড়াতে ব্যাটার মিডউইকেট ও লং-অনের মাঝ দিয়ে জোরালো পুল শট খেলতে চেয়েছিলেন তেফাদজাওয়া (১৬)। কিন্তু বলটি তার ধারণার চেয়ে বেশি লাফিয়ে ওঠে। ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে বল উঠে যায় শূন্যে। সহজ ক্যাচটি তালুবন্দি করেন নুরুল হাসান।

২৪ রানে জিম্বাবুয়ের ৩ উইকেট তুলে নিয়ে রীতিমত উড়ছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেলর আর ক্রেইগ আরভিনের ব্যাটে প্রতিরোধ। এমনভাবে ক্রিজে জমে যান তারা, কোনো বোলারেই কাজ হচ্ছিল না।

দেখেশুনে খেলে চতুর্থ উইকেটে ১৫০ রানের বড় জুটি গড়ে ফেলেন এই দুজন। অবশেষে ইনিংসের ৩৭তম ওভারে পার্টটাইম অফস্পিনার সাইফ হাসানের হাতে বল তুলে দেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। ওই এক সিদ্ধান্তেই মিললো ফল।

বল হাতে নিয়ে নিজের প্রথম ওভারেই জুটি ভেঙেছেন সাইফ। রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দেন টেলর। ১০১ বলে ১০ বাউন্ডারিতে ৮১ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

পরের ওভারে আরও এক উইকেট সাইফের। এবার তার শিকার জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা (৪)। সুইপ খেলতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের ক্যাচ হন তিনি।

১৫ বলে ১৭ করা ভেসলে মাদভেরের উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। তিনিও সুইপ করতে গিয়েই আউট, ডিপ স্কয়ার বাউন্ডারিতে সহজ ক্যাচ তুলে দেন সৌম্য সরকারের হাতে।

সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে ছিলেন আরভিন। তার সেই আশা পূরণ হতে দেননি শরিফুল ইসলাম। টাইগার পেসারের সুইংয়ে ব্যাট চালিয়ে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে ধরা পড়েছেন আরভিন। ১০৬ বলে ৯ বাউন্ডারিতে তার ইনিংসটি থামে ৯৩ রানে। ২২৪ রানে ৭ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।

সেখান থেকে লোয়ার অর্ডারের নিয়ামহুরির ১৭ বলে ২১ আর ওয়েলিংটন মাসাকাদজার ১৫ বলে ২১ রানের ইনিংসে ৮ উইকেটে ২৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের তাসকিন আহমেদ ৩টি, সাইফ হাসান আর শরিফুল ইসলাম নেন ২টি করে উইকেট।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

4 + four =

About Author Information

ত্রিদেশীয় সিরিজে হার দিয়ে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু

Update Time : ০৬:৫৭:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
10 / 100 SEO Score

 

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩.৪ ওভারে মাত্র ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় তাওহীদ হৃদয়ের দল।

রান তাড়ায় ঝড়ো শুরু করেছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। তবে আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার সুবিধা করতে পারেননি। ১৭ বলে মাত্র ৯ রান করে মুজারাবানির বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সৌম্য। ৪৭ রানের প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর তানজিদ তামিমও বেশিক্ষণ টেকেননি। মিস করেন ফিফটি। ৩৮ বলে ৯ চার আর ১ ছক্কায় ৪৬ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এক বল পর নাজমুল হোসেন শান্তকেও হারায় বাংলাদেশ। ৪ রান করে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি।

তাওহীদ হৃদয় দেখেশুনে শুরু করেছিলেন। কিন্তু ২১ বলে ১৩ করে সিকান্দার রাজার এলবিডব্লিউর শিকার হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। একশর আগে (৯৭ রানে) ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর কিছুটা সময় ধরে রেখেছিলেন সাইফ হাসান আর মোসাদ্দেক হোসেন। কিন্তু আরেকটি এলবিডব্লিউ দেখে দল। এবার মাসাকাদজার বলে ফিরে যান মোসাদ্দেক, ১৮ বলে ১১ করে। নুরুল হাসান সোহান করেন ৮ বলে ৫।

১২৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে হার নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। সেখান থেকে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন লোয়ার অর্ডারের তাসকিন আহমেদ আর রিশাদ হোসেন।

তবে রিশাদ হোসেন ৩৩ বলে ২৩ করে ফেরার পর আর বেশিদূর এগোতে পারেনি বাংলাদেশ। তাসকিন ১৩ বলে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন। ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের ব্র্যাড ইভান্স ৪টি, সিকান্দার রাজা ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা নেন ২টি করে উইকেট।

এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ২৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে।

আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নামে জিম্বাবুয়ে। প্রথম ওভারের শেষ বলে কট বিহাইন্ডের জোরালো আবেদন করেন বাংলাদেশের বোলার ও ফিল্ডাররা। আম্পায়ার আঙুল তুলতে যেন অনন্তকাল সময় নিলেন! বলটি ছিল দারুণ একটি ডেলিভারি। একটু খাটো লেংথে পড়েই ভেতরের দিকে সুইং করে মিডল স্টাম্পের দিকে ঢুকে আসে। নড়াচড়া করা বলের গতিপথ খুঁজতে গিয়ে বেনেট (০) বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং ভুল লাইনে ব্যাট চালান। জোরালো আবেদন ওঠে, আম্পায়ারও সময় নিয়ে আঙ্গুল তোলেন।

তবে ডিআরএস নেওয়ার নির্ধারিত সময় প্রায় শেষ হওয়ার মুহূর্তে রিভিউ নেন বেনেট। আল্ট্রা-এজে কোনো স্পাইক ধরা পড়েনি। বলটি কেবল বাঁ উরুর প্যাডের ওপরের অংশে লেগেছে। এবার দেখা হলো এলবিডব্লিউর আবেদন। বল পিচ করেছে অফ স্ট্যাম্পের বাইরে। উইকেটে আঘাত করার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত আম্পায়ার্স কল, আর বলটি মিডল স্ট্যাম্পের একেবারে ওপরের অংশে সামান্য ছুঁয়ে যাচ্ছিল। অতি সামান্য ব্যবধানে এলবিডব্লিউ আউট হয়ে গেলেন বেনেট। আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত বহাল রাখতেই হতাশায় চিৎকার করে ওঠেন তিনি।

অসাধারণ একটি প্রথম ওভার! দুর্দান্তভাবে ব্যাটারকে সেটআপ করে শেষ পর্যন্ত ভেতরের দিকে ঢোকা এই ডেলিভারিতে উইকেট তুলে নিলেন তাসকিন।

এরপর পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে দ্বিতীয় উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন করেন তাসকিন। আম্পায়ারও দ্রুত আঙ্গুল তুলে দিলেন। আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন তাসকিন!

তবে আরেকবার যাচাই করে দেখতে চান কারান। তিনি রিভিউ নেন। দেখা গেলো, ওভার দ্য উইকেট থেকে করা লেংথ ডেলিভারিটি ভেতরের দিকে ঢুকে সরাসরি তার প্যাডে আঘাত করে। বলটি তার বাঁ-পায়ের হাঁটুর ঠিক ওপরের অংশে লাগে। ব্যাটে বল লাগেনি। বাংলাদেশের সমর্থকেরা তখন উৎকণ্ঠা নিয়ে রিভিউয়ের ফল দেখার অপেক্ষায় ছিল।

রিপ্লেতে দেখা গেল, বল পিচ করেছে স্টাম্পের লাইনে, আঘাতও লেগেছে স্টাম্পের লাইনে এবং পায়ে না লাগলে বলটি মিডল স্টাম্পে আঘাত করত। ফলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকল। আউট হয়ে যান কারান (৬)!

সপ্তম ওভারের শেষ বলটি শর্ট ডেলিভারি ছিল তাসকিনের। অফ স্ট্যাম্প বরাবর অস্বস্তিকর লাইন বজায় রাখলেন তিনি। রান তোলার গতি বাড়াতে ব্যাটার মিডউইকেট ও লং-অনের মাঝ দিয়ে জোরালো পুল শট খেলতে চেয়েছিলেন তেফাদজাওয়া (১৬)। কিন্তু বলটি তার ধারণার চেয়ে বেশি লাফিয়ে ওঠে। ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে বল উঠে যায় শূন্যে। সহজ ক্যাচটি তালুবন্দি করেন নুরুল হাসান।

২৪ রানে জিম্বাবুয়ের ৩ উইকেট তুলে নিয়ে রীতিমত উড়ছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেলর আর ক্রেইগ আরভিনের ব্যাটে প্রতিরোধ। এমনভাবে ক্রিজে জমে যান তারা, কোনো বোলারেই কাজ হচ্ছিল না।

দেখেশুনে খেলে চতুর্থ উইকেটে ১৫০ রানের বড় জুটি গড়ে ফেলেন এই দুজন। অবশেষে ইনিংসের ৩৭তম ওভারে পার্টটাইম অফস্পিনার সাইফ হাসানের হাতে বল তুলে দেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। ওই এক সিদ্ধান্তেই মিললো ফল।

বল হাতে নিয়ে নিজের প্রথম ওভারেই জুটি ভেঙেছেন সাইফ। রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দেন টেলর। ১০১ বলে ১০ বাউন্ডারিতে ৮১ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

পরের ওভারে আরও এক উইকেট সাইফের। এবার তার শিকার জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা (৪)। সুইপ খেলতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের ক্যাচ হন তিনি।

১৫ বলে ১৭ করা ভেসলে মাদভেরের উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। তিনিও সুইপ করতে গিয়েই আউট, ডিপ স্কয়ার বাউন্ডারিতে সহজ ক্যাচ তুলে দেন সৌম্য সরকারের হাতে।

সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে ছিলেন আরভিন। তার সেই আশা পূরণ হতে দেননি শরিফুল ইসলাম। টাইগার পেসারের সুইংয়ে ব্যাট চালিয়ে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে ধরা পড়েছেন আরভিন। ১০৬ বলে ৯ বাউন্ডারিতে তার ইনিংসটি থামে ৯৩ রানে। ২২৪ রানে ৭ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।

সেখান থেকে লোয়ার অর্ডারের নিয়ামহুরির ১৭ বলে ২১ আর ওয়েলিংটন মাসাকাদজার ১৫ বলে ২১ রানের ইনিংসে ৮ উইকেটে ২৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের তাসকিন আহমেদ ৩টি, সাইফ হাসান আর শরিফুল ইসলাম নেন ২টি করে উইকেট।