Dhaka ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্বিতীয় দফায় দেশব্যাপী ৩৪ লাখ শিশুকে হামের টিকাদান শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে প্রথম দফায় টিকার বাইরে থাকা প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার আওতায় আনতে দ্বিতীয় দফার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। টিকাদানের এ ক্যাম্পেইন চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তির টিএনটি খেলার মাঠে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের পর নিয়মিত চার বছর পরপর পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও এমআর টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ ছিল। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ভাগ্যক্রমে কিংবা দুর্ভাগ্যবশত, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই চার বছরের খেসারত আমাদের ওপর এসে পড়েছে। আমাদের জাতিকে, আমাদের মায়েদের অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে, অনেক মায়ের বুক খালি হয়ে গেছে। এ জন্য আমি সত্যিই ব্যথিত।

বিভিন্ন মহামারিতে চিকিৎসকদের অবদানের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের চিকিৎসকেরা সব সংকট ও জরুরি পরিস্থিতিতে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা আমাদের ডাক্তারদের কাছে ঋণী। করোনাকালে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ ও প্রতিবেশী দেশের তুলনায় আমাদের চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং শতাধিক চিকিৎসকের আত্মত্যাগের কারণে বাংলাদেশে মৃত্যুহার তুলনামূলক কম ছিল। এটি আমাদের নিজস্ব চিকিৎসকদের অবদান ও প্রচেষ্টার ফল।

তিনি আরও বলেন, পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়ে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশীয় চিকিৎসকদের উদ্ভাবন ও সেবারও প্রশংসা করেন তিনি।

গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা গড়ে তোলা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। হাম ও অন্যান্য মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সমাজের সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ এমআর টিকাদান কর্মসূচিতে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। তবে ২৮ জুনের জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে একই বয়সী ২ কোটি ২৩ লাখ শিশু অংশ নেওয়ায় প্রায় ৪৩ লাখ শিশু টিকার বাইরে থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়। তাদের অন্তর্ভুক্ত করতেই দ্বিতীয় দফার এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

three + 5 =

About Author Information

দ্বিতীয় দফায় দেশব্যাপী ৩৪ লাখ শিশুকে হামের টিকাদান শুরু

Update Time : ০৭:১২:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে প্রথম দফায় টিকার বাইরে থাকা প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার আওতায় আনতে দ্বিতীয় দফার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। টিকাদানের এ ক্যাম্পেইন চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তির টিএনটি খেলার মাঠে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের পর নিয়মিত চার বছর পরপর পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও এমআর টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ ছিল। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ভাগ্যক্রমে কিংবা দুর্ভাগ্যবশত, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই চার বছরের খেসারত আমাদের ওপর এসে পড়েছে। আমাদের জাতিকে, আমাদের মায়েদের অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে, অনেক মায়ের বুক খালি হয়ে গেছে। এ জন্য আমি সত্যিই ব্যথিত।

বিভিন্ন মহামারিতে চিকিৎসকদের অবদানের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের চিকিৎসকেরা সব সংকট ও জরুরি পরিস্থিতিতে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা আমাদের ডাক্তারদের কাছে ঋণী। করোনাকালে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ ও প্রতিবেশী দেশের তুলনায় আমাদের চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং শতাধিক চিকিৎসকের আত্মত্যাগের কারণে বাংলাদেশে মৃত্যুহার তুলনামূলক কম ছিল। এটি আমাদের নিজস্ব চিকিৎসকদের অবদান ও প্রচেষ্টার ফল।

তিনি আরও বলেন, পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়ে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশীয় চিকিৎসকদের উদ্ভাবন ও সেবারও প্রশংসা করেন তিনি।

গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা গড়ে তোলা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। হাম ও অন্যান্য মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সমাজের সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ এমআর টিকাদান কর্মসূচিতে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। তবে ২৮ জুনের জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে একই বয়সী ২ কোটি ২৩ লাখ শিশু অংশ নেওয়ায় প্রায় ৪৩ লাখ শিশু টিকার বাইরে থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়। তাদের অন্তর্ভুক্ত করতেই দ্বিতীয় দফার এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।