Dhaka ০৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা দিল্লির যন্তর মন্তর, প্রস্তুত ২০ হাজার পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককোরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) পূর্বঘোষিত আন্দোলন ঘিরে দিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে কেন্দ্র সরকার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২০ হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে।

এই বিক্ষোভ কর্মসূচি রোধ করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে প্রশাসন ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজীব চক, নতুন দিল্লি ও কাশ্মীরি গেটসহ দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং নতুন দিল্লি ও হযরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকা ২৫০টিরও বেশি দূরপাল্লার ও স্থানীয় ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার রাত ১০টা থেকে জনপথ-কর্তব্য পথ ক্রসিংয়ের চারপাশে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধ জুড়ে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রাখা হয়েছে।

সিজিপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানান, এসব বিধিনিষেধ সত্ত্বেও তাদের স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকেরা যন্তর মন্তরে পূর্ব নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। প্রশাসন কেন একদিকে চলাচলের পথ বন্ধ করে অন্যদিকে জনভোগান্তির কথা বলছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর ঘিরে দেড় কিলোমিটার এলাকাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে। যন্তর মন্তরগামী রাস্তায় সাত স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, যার শেষ অংশগুলো ঝালাই করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুরো এলাকায় অডিও রেকর্ডিং সুবিধা সংবলিত ৩০০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যাতে কেউ জমায়েত না হয় সেজন্য মাইকে প্রচার চালানোর পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার এবং হোটেল বা এয়ারবিএনবি মালিকদের কোনো আন্দোলনকারীকে রুম না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আগের আন্দোলনের ভুলত্রুটি ও সহিংসতার অভিযোগ এড়াতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে এবং পুরো পরিস্থিতি রেকর্ড করার জন্য শত শত ফটোগ্রাফার নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দিল্লি পুলিশ এক খোলা চিঠিতে মানবিকতা ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

14 + five =

About Author Information

নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা দিল্লির যন্তর মন্তর, প্রস্তুত ২০ হাজার পুলিশ

Update Time : ০৬:১০:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককোরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) পূর্বঘোষিত আন্দোলন ঘিরে দিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে কেন্দ্র সরকার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২০ হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে।

এই বিক্ষোভ কর্মসূচি রোধ করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে প্রশাসন ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজীব চক, নতুন দিল্লি ও কাশ্মীরি গেটসহ দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং নতুন দিল্লি ও হযরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকা ২৫০টিরও বেশি দূরপাল্লার ও স্থানীয় ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার রাত ১০টা থেকে জনপথ-কর্তব্য পথ ক্রসিংয়ের চারপাশে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধ জুড়ে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রাখা হয়েছে।

সিজিপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানান, এসব বিধিনিষেধ সত্ত্বেও তাদের স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকেরা যন্তর মন্তরে পূর্ব নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। প্রশাসন কেন একদিকে চলাচলের পথ বন্ধ করে অন্যদিকে জনভোগান্তির কথা বলছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর ঘিরে দেড় কিলোমিটার এলাকাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে। যন্তর মন্তরগামী রাস্তায় সাত স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, যার শেষ অংশগুলো ঝালাই করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুরো এলাকায় অডিও রেকর্ডিং সুবিধা সংবলিত ৩০০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যাতে কেউ জমায়েত না হয় সেজন্য মাইকে প্রচার চালানোর পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার এবং হোটেল বা এয়ারবিএনবি মালিকদের কোনো আন্দোলনকারীকে রুম না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আগের আন্দোলনের ভুলত্রুটি ও সহিংসতার অভিযোগ এড়াতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে এবং পুরো পরিস্থিতি রেকর্ড করার জন্য শত শত ফটোগ্রাফার নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দিল্লি পুলিশ এক খোলা চিঠিতে মানবিকতা ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।