Dhaka ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন কমিশন ঘেরাও, রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটক

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতারা। মঙ্গলবার দিনভর অবস্থান ও বিক্ষোভের পর রাতে পুলিশ লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ বিরোধী নেতাকে আটক করে। প্রায় আট ঘণ্টা ধরে চলা এই কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে পার্লামেন্ট ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় অভিমুখে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সংসদ সদস্যদের এক বিশাল পদযাত্রা শুরু হলে রাজধানী দিল্লির কেন্দ্রস্থলের বিস্তীর্ণ এলাকায় কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়। নিরাপত্তা বিবেচনায় মোতায়েন করা কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য ব্যারিকেড দিয়ে বেশিরভাগ সংসদ সদস্যকে পথেই আটকে ও গ্রেপ্তার করে অন্যত্র সরিয়ে দেয়। তবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা নির্বাচন কমিশনের ঠিক উল্টো পাশে অবস্থিত আকাশবাণী ভবনের মূল ফটকের ভেতরে প্রবেশ করে অবস্থান নেন।

টানা প্রায় আট ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি শেষে রাত আটটার দিকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাসহ অন্য নেতাদের আটক করে বাসে তোলে পুলিশ। আটক অন্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য পবন খেরা, কে সি বেনুগোপাল, ইমরান প্রতাপগড়ি ও কে সুরেশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, তাদের সবাইকে বাসে করে উত্তর দিল্লির কিংসওয়ে ক্যাম্প থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আটকের আগে বেলা পৌনে তিনটার দিকে আকাশবাণী ভবনের লোহার ফটকের ফাঁক দিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন রাহুল গান্ধী। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের প্রায় ৩০০ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যেতে চেয়েছিলেন। এটি আমাদের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল; কিন্তু পুলিশ আমাদের পথ আটকে দেয়। দেশের সচেতন জনগণই এই অন্যায়ের চূড়ান্ত বিচার করবে।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের নাম উল্লেখ করে তোপ দেগে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘তারা ভোট চুরি করে জোরপূর্বক ক্ষমতা ধরে রেখেছেন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাদের এই অগণতান্ত্রিক কাজে প্রত্যক্ষ মদদ জুগিয়েছেন। তাদের কেউ ছাড় পাবেন না, সবার বিচার হবে। আমরা ভারতের বিপন্ন গণতন্ত্রকে বাঁচাতে লড়ছি। মোদি, শাহ, ভাগবত ও জ্ঞানেশরা দেশের গণতন্ত্রপ্রিয় নাগরিকদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করছেন।’

এদিকে ঘটনার তীব্রতার মুখে মঙ্গলবার রাতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে দাবি করা হয়, মঙ্গলবার বিকেল চারটা পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেই কমিশনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়নি। পরবর্তীতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ২৪০ জন সংসদ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করলেও বৈঠকের জন্য তারা ‘সংসদ ভবন অ্যানেক্স’ ভবনের প্রস্তাব দেয়, যা নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রটোকল-বহির্ভূত। এমন পরিস্থিতিতে সংসদ ভবনে কমিশনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে বিরোধী দলের স্মারকলিপি গ্রহণের বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিরোধী সংসদ সদস্যরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

উল্লেখ্য, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ গত ২ অক্টোবর গান্ধীজয়ন্তীর দিন থেকে ‘জ্ঞানেশ হটাও’ আন্দোলনের সূচনা করে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী নেতারা প্রতিদিনই ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ জানানোর কর্মসূচি পালন করে আসছেন এবং আজকের এই কমিশন ঘেরাও অভিযান ছিল সেই ধারাবাহিক আন্দোলনেরই বড় একটি ধাপ।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

seventeen − 13 =

About Author Information

নির্বাচন কমিশন ঘেরাও, রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটক

Update Time : ০৬:৪৯:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতারা। মঙ্গলবার দিনভর অবস্থান ও বিক্ষোভের পর রাতে পুলিশ লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ বিরোধী নেতাকে আটক করে। প্রায় আট ঘণ্টা ধরে চলা এই কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে পার্লামেন্ট ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় অভিমুখে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সংসদ সদস্যদের এক বিশাল পদযাত্রা শুরু হলে রাজধানী দিল্লির কেন্দ্রস্থলের বিস্তীর্ণ এলাকায় কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়। নিরাপত্তা বিবেচনায় মোতায়েন করা কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য ব্যারিকেড দিয়ে বেশিরভাগ সংসদ সদস্যকে পথেই আটকে ও গ্রেপ্তার করে অন্যত্র সরিয়ে দেয়। তবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা নির্বাচন কমিশনের ঠিক উল্টো পাশে অবস্থিত আকাশবাণী ভবনের মূল ফটকের ভেতরে প্রবেশ করে অবস্থান নেন।

টানা প্রায় আট ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি শেষে রাত আটটার দিকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাসহ অন্য নেতাদের আটক করে বাসে তোলে পুলিশ। আটক অন্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য পবন খেরা, কে সি বেনুগোপাল, ইমরান প্রতাপগড়ি ও কে সুরেশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, তাদের সবাইকে বাসে করে উত্তর দিল্লির কিংসওয়ে ক্যাম্প থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আটকের আগে বেলা পৌনে তিনটার দিকে আকাশবাণী ভবনের লোহার ফটকের ফাঁক দিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন রাহুল গান্ধী। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের প্রায় ৩০০ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যেতে চেয়েছিলেন। এটি আমাদের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল; কিন্তু পুলিশ আমাদের পথ আটকে দেয়। দেশের সচেতন জনগণই এই অন্যায়ের চূড়ান্ত বিচার করবে।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের নাম উল্লেখ করে তোপ দেগে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘তারা ভোট চুরি করে জোরপূর্বক ক্ষমতা ধরে রেখেছেন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাদের এই অগণতান্ত্রিক কাজে প্রত্যক্ষ মদদ জুগিয়েছেন। তাদের কেউ ছাড় পাবেন না, সবার বিচার হবে। আমরা ভারতের বিপন্ন গণতন্ত্রকে বাঁচাতে লড়ছি। মোদি, শাহ, ভাগবত ও জ্ঞানেশরা দেশের গণতন্ত্রপ্রিয় নাগরিকদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করছেন।’

এদিকে ঘটনার তীব্রতার মুখে মঙ্গলবার রাতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে দাবি করা হয়, মঙ্গলবার বিকেল চারটা পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেই কমিশনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়নি। পরবর্তীতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ২৪০ জন সংসদ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করলেও বৈঠকের জন্য তারা ‘সংসদ ভবন অ্যানেক্স’ ভবনের প্রস্তাব দেয়, যা নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রটোকল-বহির্ভূত। এমন পরিস্থিতিতে সংসদ ভবনে কমিশনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে বিরোধী দলের স্মারকলিপি গ্রহণের বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিরোধী সংসদ সদস্যরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

উল্লেখ্য, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ গত ২ অক্টোবর গান্ধীজয়ন্তীর দিন থেকে ‘জ্ঞানেশ হটাও’ আন্দোলনের সূচনা করে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী নেতারা প্রতিদিনই ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ জানানোর কর্মসূচি পালন করে আসছেন এবং আজকের এই কমিশন ঘেরাও অভিযান ছিল সেই ধারাবাহিক আন্দোলনেরই বড় একটি ধাপ।