Dhaka ০৩:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেঁপে-কুমড়া ছাড়া সবজির দাম চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
5 / 100 SEO Score

 

রাজধানীর কাঁচাবাজারে পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া ছাড়া অধিকাংশ সবজির দাম চড়া। শীতের আগাম সবজি বাজারে উঠতে শুরু করলেও তা কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, আর আগাম শিমের দাম ১৬০ টাকা। এ ছাড়া বেশির ভাগ সবজির কেজি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না। তবে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ডিমের বাজারে। গত সপ্তাহের তুলনায় ডজনপ্রতি ১০ টাকা কমে ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। মাছ ও মাংসের দাম রয়েছে আগের মতোই।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখি ও পটোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বেগুন ও কাঁকরোলের কেজি ১০০ টাকা। শীতের আগাম জাতের মুলা ও ঢ্যাঁড়সের দামও কেজিপ্রতি ৮০ টাকা। তবে আগাম শিম কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিতে ১৬০ টাকা। আর প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। বর্তমানে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ফুলকপি পিচে ৭০ টাকা বিক্রি হয়।

এদিকে সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে একমাত্র স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। এখন মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতি পিচ ৪০ থেকে ৬০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।

সবজি ক্রেতা রবিউল আলম বলেন, বাজারে টমেটো প্রতিকেজি ১৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। দেশি শসা কিনেছি ১০০ টাকা কেজি। সিম ১৬০ টাকা কেজি কিনেছি।

বাজারে আরো ঘুরে দেখা যায়, মুরগির বাজারেও দামে তেমন পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দামও আগের চেয়ে ১০ টাকা ডজনে কমেছে। প্রতি ডজন ১৪০ টাকা ও চারটি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিম বিক্রেতা মাসুম আল হাসান বলেন, এখন ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৪০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।

এদিকে গরুর মাংসের দাম আগের মতোই আছে। ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা যায়।

ব্রয়লার মুরগী বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মুরগির দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে আছে। ১০ টাকা কমে আবার অন্য সপ্তাহে ১০ টাকা বাড়ে। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ২০০ টাকা আশেপাশে দাম থাকে। আর সোনালি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্য থাকে। আজকে ৩১০ টাকা কেজি বিক্রি করছি।

এদিকে মাছের বাজারেরও একই চিত্র। তেলাপিয়া ২৫০-২৬০, পাঙাশ ২২০- ২৩০, রুই-কাতল ৩৮০-৪২০ এবং চিংড়ি ১,০০০-১,৩০০ টাকা কেজি। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মিগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং সইল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে। তবে মাছের সাইজ ও জীবিত ও মৃত উপর দাম নির্ভর করে। প্রতিটি বাজারে ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিপ্রতি কম বেশি হতে পারে।

মাছ বিক্রেতা আযাদ বলেন, মাছের দাম আগের মতোই আছে। আজকে রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২৫০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ টাকা বিক্রি করছি। শুক্রবার দাম একটু বেশি থাকে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

9 + 6 =

About Author Information

পেঁপে-কুমড়া ছাড়া সবজির দাম চড়া

Update Time : ০৬:১১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
5 / 100 SEO Score

 

রাজধানীর কাঁচাবাজারে পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া ছাড়া অধিকাংশ সবজির দাম চড়া। শীতের আগাম সবজি বাজারে উঠতে শুরু করলেও তা কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, আর আগাম শিমের দাম ১৬০ টাকা। এ ছাড়া বেশির ভাগ সবজির কেজি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না। তবে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ডিমের বাজারে। গত সপ্তাহের তুলনায় ডজনপ্রতি ১০ টাকা কমে ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। মাছ ও মাংসের দাম রয়েছে আগের মতোই।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখি ও পটোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বেগুন ও কাঁকরোলের কেজি ১০০ টাকা। শীতের আগাম জাতের মুলা ও ঢ্যাঁড়সের দামও কেজিপ্রতি ৮০ টাকা। তবে আগাম শিম কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিতে ১৬০ টাকা। আর প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। বর্তমানে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ফুলকপি পিচে ৭০ টাকা বিক্রি হয়।

এদিকে সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে একমাত্র স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। এখন মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতি পিচ ৪০ থেকে ৬০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।

সবজি ক্রেতা রবিউল আলম বলেন, বাজারে টমেটো প্রতিকেজি ১৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। দেশি শসা কিনেছি ১০০ টাকা কেজি। সিম ১৬০ টাকা কেজি কিনেছি।

বাজারে আরো ঘুরে দেখা যায়, মুরগির বাজারেও দামে তেমন পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দামও আগের চেয়ে ১০ টাকা ডজনে কমেছে। প্রতি ডজন ১৪০ টাকা ও চারটি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিম বিক্রেতা মাসুম আল হাসান বলেন, এখন ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৪০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।

এদিকে গরুর মাংসের দাম আগের মতোই আছে। ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা যায়।

ব্রয়লার মুরগী বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মুরগির দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে আছে। ১০ টাকা কমে আবার অন্য সপ্তাহে ১০ টাকা বাড়ে। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ২০০ টাকা আশেপাশে দাম থাকে। আর সোনালি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্য থাকে। আজকে ৩১০ টাকা কেজি বিক্রি করছি।

এদিকে মাছের বাজারেরও একই চিত্র। তেলাপিয়া ২৫০-২৬০, পাঙাশ ২২০- ২৩০, রুই-কাতল ৩৮০-৪২০ এবং চিংড়ি ১,০০০-১,৩০০ টাকা কেজি। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মিগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং সইল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে। তবে মাছের সাইজ ও জীবিত ও মৃত উপর দাম নির্ভর করে। প্রতিটি বাজারে ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিপ্রতি কম বেশি হতে পারে।

মাছ বিক্রেতা আযাদ বলেন, মাছের দাম আগের মতোই আছে। আজকে রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২৫০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ টাকা বিক্রি করছি। শুক্রবার দাম একটু বেশি থাকে।