Dhaka ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিমান ছিনতাই চেষ্টায় ইরানের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন নেতানিয়াহুর

8 / 100 SEO Score

 

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইটে পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে বিমান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার ঘটনায় ইরানের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বুধবারের ওই ঘটনায় যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে কাবু করে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।

বুধবার ফ্লাইটটি উড্ডয়নের দুই ঘণ্টা পর আকস্মিকভাবে দ্রুতগতিতে ১৭ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। পরবর্তীতে যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে বলপ্রয়োগ করে নিবৃত্ত করেন এবং পুনরায় বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে ওই বিমান।

হামলায় আহত ভারতীয় নাগরিক ক্যাপ্টেইন স্মিত মাচ্ছার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাকে ‘‘প্রকৃত বীর’’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ইয়ানিভ হায়ুন নামের এক যাত্রী বলেছেন, বিমানটি অকার্যকর করার চেষ্টা করা হামলাকারীকে তিনি ঘাড় চেপে ধরেন। পরে অন্যান্য যাত্রীরা তাকে চেপে ধরে আটকে ফেলেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছেন, সৌদি আরবে গ্রেপ্তার ওই সন্দেহভাজন হামলাকারীকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হস্তান্তর করা হতে পারে; যেখান থেকে ফ্লাইটটি যাত্রা শুরু করেছিল।

এতে ইরানের সম্পৃক্ততার কোনো ইঙ্গিত রয়েছে কি না; এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখনই এটা বলা খুব কঠিন। ওই পাইলটকে বর্তমানে সৌদি আরবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার আমিরাতের প্রধান প্রসিকিউটর বলেছেন, কোনো সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা জানতে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ছুরিকাহত পাইলট মাচ্ছারকে ‘‘বীর’’ বলে প্রশংসা করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে নেতানিয়াহু লিখেছেন, ছুরিকাহত ও গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি লড়াই করেছেন, প্রতিরোধ গড়েছেন, ককপিটের দরজা খুলে দিয়েছেন এবং যাত্রী ও ক্রুদের হামলাকারীকে কাবু করতে সুযোগ করে দিয়েছেন। যার ফলে আকাশে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করে এক্সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘চরম বিপদের মুখে পড়া এবং গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি অন্যের জীবন বাঁচাতে অসীম সাহস ও দৃঢ় সংকল্পের পরিচয় দিয়েছেন।’’

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ বিবিসিকে বলেন, এটি ছিল সংগ্রামী মানুষের ঐক্যের এক অনন্য ও বীরত্বপূর্ণ ঘটনা।

বৃহস্পতিবার বিবিসি রেডিও ৪-এর টুডে অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এটি এক বিশাল অলৌকিক ঘটনা এবং অসীম সাহসিকতার পরিচয়। আমরা এই বীর ভারতীয় পাইলটের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞ।

সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছেন, ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে উড্ডয়ন করা ওই বিমানের এ ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলের কাছে কোনো আগাম সতর্কতা বা গোয়েন্দা তথ্য ছিল না।

বিবিসি অ্যারাবিককে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, পৃথক ইসরায়েলি তদন্তে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্ত হামলাকারীর বিমানটি ধ্বংস করার পরিকল্পনা ছিল।

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নেতৃত্বে চালিত এই তদন্তে বিমানটিতে আসলে কী ঘটেছিল তা নিশ্চিত হতে তেল আবিবে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় ৭ টা ৫ মিনিটে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

দুই ঘণ্টা পর বিমান ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এ বিমানটি ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। কয়েক মিনিট পরই বিমানটি জরুরি বার্তা পাঠায় এবং এর পরপরই বিমানটি ছিনতাই চেষ্টার সতর্ক বার্তা সংক্রান্ত ৭৫০০ কোড সংকেত পাঠিয়ে দেয়।

সংকেত দেওয়ার প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে বিমানটি সৌদি আরবে অবতরণের জন্য স্বয়ংক্রিয় মাধ্যম ছেড়ে ম্যানুয়ালি নিচে নামতে শুরু করে। এর ঘণ্টাখানেক পর পুনরায় ৭৭০০ কোডে ফিরে আসে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

4 × 4 =

About Author Information

বিমান ছিনতাই চেষ্টায় ইরানের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন নেতানিয়াহুর

Update Time : ০৫:৪৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইটে পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে বিমান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার ঘটনায় ইরানের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বুধবারের ওই ঘটনায় যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে কাবু করে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।

বুধবার ফ্লাইটটি উড্ডয়নের দুই ঘণ্টা পর আকস্মিকভাবে দ্রুতগতিতে ১৭ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। পরবর্তীতে যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে বলপ্রয়োগ করে নিবৃত্ত করেন এবং পুনরায় বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে ওই বিমান।

হামলায় আহত ভারতীয় নাগরিক ক্যাপ্টেইন স্মিত মাচ্ছার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাকে ‘‘প্রকৃত বীর’’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ইয়ানিভ হায়ুন নামের এক যাত্রী বলেছেন, বিমানটি অকার্যকর করার চেষ্টা করা হামলাকারীকে তিনি ঘাড় চেপে ধরেন। পরে অন্যান্য যাত্রীরা তাকে চেপে ধরে আটকে ফেলেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছেন, সৌদি আরবে গ্রেপ্তার ওই সন্দেহভাজন হামলাকারীকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হস্তান্তর করা হতে পারে; যেখান থেকে ফ্লাইটটি যাত্রা শুরু করেছিল।

এতে ইরানের সম্পৃক্ততার কোনো ইঙ্গিত রয়েছে কি না; এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখনই এটা বলা খুব কঠিন। ওই পাইলটকে বর্তমানে সৌদি আরবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার আমিরাতের প্রধান প্রসিকিউটর বলেছেন, কোনো সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা জানতে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ছুরিকাহত পাইলট মাচ্ছারকে ‘‘বীর’’ বলে প্রশংসা করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে নেতানিয়াহু লিখেছেন, ছুরিকাহত ও গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি লড়াই করেছেন, প্রতিরোধ গড়েছেন, ককপিটের দরজা খুলে দিয়েছেন এবং যাত্রী ও ক্রুদের হামলাকারীকে কাবু করতে সুযোগ করে দিয়েছেন। যার ফলে আকাশে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করে এক্সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘চরম বিপদের মুখে পড়া এবং গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি অন্যের জীবন বাঁচাতে অসীম সাহস ও দৃঢ় সংকল্পের পরিচয় দিয়েছেন।’’

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ বিবিসিকে বলেন, এটি ছিল সংগ্রামী মানুষের ঐক্যের এক অনন্য ও বীরত্বপূর্ণ ঘটনা।

বৃহস্পতিবার বিবিসি রেডিও ৪-এর টুডে অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এটি এক বিশাল অলৌকিক ঘটনা এবং অসীম সাহসিকতার পরিচয়। আমরা এই বীর ভারতীয় পাইলটের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞ।

সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছেন, ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে উড্ডয়ন করা ওই বিমানের এ ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলের কাছে কোনো আগাম সতর্কতা বা গোয়েন্দা তথ্য ছিল না।

বিবিসি অ্যারাবিককে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, পৃথক ইসরায়েলি তদন্তে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্ত হামলাকারীর বিমানটি ধ্বংস করার পরিকল্পনা ছিল।

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নেতৃত্বে চালিত এই তদন্তে বিমানটিতে আসলে কী ঘটেছিল তা নিশ্চিত হতে তেল আবিবে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় ৭ টা ৫ মিনিটে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

দুই ঘণ্টা পর বিমান ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এ বিমানটি ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। কয়েক মিনিট পরই বিমানটি জরুরি বার্তা পাঠায় এবং এর পরপরই বিমানটি ছিনতাই চেষ্টার সতর্ক বার্তা সংক্রান্ত ৭৫০০ কোড সংকেত পাঠিয়ে দেয়।

সংকেত দেওয়ার প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে বিমানটি সৌদি আরবে অবতরণের জন্য স্বয়ংক্রিয় মাধ্যম ছেড়ে ম্যানুয়ালি নিচে নামতে শুরু করে। এর ঘণ্টাখানেক পর পুনরায় ৭৭০০ কোডে ফিরে আসে।