Dhaka ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিমে আগুন, পেঁপেতে স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
7 / 100 SEO Score

 

রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির দামে নেই স্বস্তি। শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২০০ টাকায়, বিপরীতে সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, ৩০ টাকা কেজি। বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়সসহ বেশির ভাগ সবজির দামও ৭০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। তবে সবজির চড়া দামের বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে কাঁচা মরিচে, যা সরবরাহ বাড়ায় নেমে এসেছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়।

নিম্ন ও মধ্যবিত্তের পরিবারের নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী আমিষের অন্যতম উৎস ডিম। মাছ-মাংসের বাড়তি দামের সময়ে অনেকের ভরসা ছিল এই খাবারটিই।

কিন্তু সেই ডিমের দামও এখন বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এক বছরের ব্যবধানে ঢাকার বাজারে ফার্মের লাল বা বাদামি ডিমের ডজনপ্রতি দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা।

২০২৫ সালের ১ অক্টোবর যে ডজন ডিমের দাম ছিল ১৩৫ টাকা, চলতি বছরের একই দিনে তা বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। ফলে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের পুষ্টির এই সহজ উৎসটিও এখন অনেকের কাছে হয়ে উঠছে ‘বিলাসী’ খাবার।

এদিকে রাজধানীর কাঁচামালের বাজারে সবচেয়ে দামি সবজি শিম আর সবচেয়ে কমদামি সবজি পেঁপে। শিমের কেজি ২০০ টাকা আর পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজিতে। অন্যান্য সবজি কিনতে হলে কেজি প্রতি গুনতে হবে কমপক্ষে ৭০ টাকা। এদিকে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ টাকা। প্রতি কেজি মাছের দাম রাজধানীর বাজারভেদে কোথাও ২০ টাকা কম আবার কোথাও ১০ টাকা বেশি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। শসা তুলনামূলক কিছুটা কম দামে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। ৩০ টাকা কেজিতে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে।

এদিকে সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে একমাত্র স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। কয়েক সপ্তাহ আগে যে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় ঠেকেছিল, সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা এখন মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দাম সবচেয়ে বেশি এমন সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা ও টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার কেজি ৮০ টাকা। লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি বিক্রি করা হচ্ছে ৮০ টাকায়।

সবজি ক্রেতা আবুল মিয়া বলেন, আজ বেগুন কিনেছি ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ছোট লাউ ৫০ টাকা ও এক পোয়া মরিচ কিনেছি ৪০ টাকায়। সব কিছুর দাম বেশি।

বাজার ঘুরে আরও দেখা যায়, মুরগির বাজারেও দামে তেমন পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দামও আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি ডজন ১৫৫ টাকা ও চারটি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিম বিক্রেতা হাসান বলেন, এখন ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৫৫ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।

এদিকে মাছের বাজারেরও একই চিত্র। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে। তবে মাছের সাইজ এবং মাছ জীবিত বা মৃত হওয়ার উপরও দাম নির্ভর করে। প্রতিটি বাজারে ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিপ্রতি কম বেশি হতে পারে।

মাছ বিক্রেতা আবির ইসলাম বলেন, মাছের দাম আগের মতোই আছে। আজকে তেলাপিয়া ২৫০ টাকা আর পাঙাশ ২২০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। মাছের দাম সরবরাহের উপর নির্ভর করে। এখন এক দাম, বিকেলে আরেক দাম। আবার মাছ বেশি আসলেও দাম কমে যায়। আবার ক্রেতা বেশি আসলেও দাম বেড়ে যায়।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

17 − six =

About Author Information

শিমে আগুন, পেঁপেতে স্বস্তি

Update Time : ০৫:২৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
7 / 100 SEO Score

 

রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির দামে নেই স্বস্তি। শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২০০ টাকায়, বিপরীতে সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, ৩০ টাকা কেজি। বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়সসহ বেশির ভাগ সবজির দামও ৭০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। তবে সবজির চড়া দামের বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে কাঁচা মরিচে, যা সরবরাহ বাড়ায় নেমে এসেছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়।

নিম্ন ও মধ্যবিত্তের পরিবারের নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী আমিষের অন্যতম উৎস ডিম। মাছ-মাংসের বাড়তি দামের সময়ে অনেকের ভরসা ছিল এই খাবারটিই।

কিন্তু সেই ডিমের দামও এখন বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এক বছরের ব্যবধানে ঢাকার বাজারে ফার্মের লাল বা বাদামি ডিমের ডজনপ্রতি দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা।

২০২৫ সালের ১ অক্টোবর যে ডজন ডিমের দাম ছিল ১৩৫ টাকা, চলতি বছরের একই দিনে তা বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। ফলে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের পুষ্টির এই সহজ উৎসটিও এখন অনেকের কাছে হয়ে উঠছে ‘বিলাসী’ খাবার।

এদিকে রাজধানীর কাঁচামালের বাজারে সবচেয়ে দামি সবজি শিম আর সবচেয়ে কমদামি সবজি পেঁপে। শিমের কেজি ২০০ টাকা আর পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজিতে। অন্যান্য সবজি কিনতে হলে কেজি প্রতি গুনতে হবে কমপক্ষে ৭০ টাকা। এদিকে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ টাকা। প্রতি কেজি মাছের দাম রাজধানীর বাজারভেদে কোথাও ২০ টাকা কম আবার কোথাও ১০ টাকা বেশি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। শসা তুলনামূলক কিছুটা কম দামে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। ৩০ টাকা কেজিতে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে।

এদিকে সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে একমাত্র স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। কয়েক সপ্তাহ আগে যে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় ঠেকেছিল, সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা এখন মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দাম সবচেয়ে বেশি এমন সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা ও টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার কেজি ৮০ টাকা। লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি বিক্রি করা হচ্ছে ৮০ টাকায়।

সবজি ক্রেতা আবুল মিয়া বলেন, আজ বেগুন কিনেছি ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ছোট লাউ ৫০ টাকা ও এক পোয়া মরিচ কিনেছি ৪০ টাকায়। সব কিছুর দাম বেশি।

বাজার ঘুরে আরও দেখা যায়, মুরগির বাজারেও দামে তেমন পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দামও আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি ডজন ১৫৫ টাকা ও চারটি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিম বিক্রেতা হাসান বলেন, এখন ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৫৫ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।

এদিকে মাছের বাজারেরও একই চিত্র। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে। তবে মাছের সাইজ এবং মাছ জীবিত বা মৃত হওয়ার উপরও দাম নির্ভর করে। প্রতিটি বাজারে ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিপ্রতি কম বেশি হতে পারে।

মাছ বিক্রেতা আবির ইসলাম বলেন, মাছের দাম আগের মতোই আছে। আজকে তেলাপিয়া ২৫০ টাকা আর পাঙাশ ২২০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। মাছের দাম সরবরাহের উপর নির্ভর করে। এখন এক দাম, বিকেলে আরেক দাম। আবার মাছ বেশি আসলেও দাম কমে যায়। আবার ক্রেতা বেশি আসলেও দাম বেড়ে যায়।