Dhaka ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেষ ম্যাচে মেসিকে লাল-হলুদ দুই কার্ডই দিলেন রেফারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

যে দুটি কার্ড ফুটবল মাঠে সাধারণত শাস্তির প্রতীক, মেসির বিদায়ের রাতে সেই লাল ও হলুদ কার্ডই হয়ে উঠলো ভালোবাসা আর স্মৃতির বিশেষ উপহার। শেষ বাঁশি বাজার পর চিলির রেফারি ফার্নান্দো ভেখার নিজের ব্যবহৃত দুই কার্ডই তুলে দিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির হাতে।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ। মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়, একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্টে আরও একবার নিজের শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রেখে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকা। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ঘটে গেল এমন এক দৃশ্য, যা কোনো ম্যাচের পরিসংখ্যানের খাতায় লেখা থাকবে না, থেকে যাবে স্মৃতি হয়ে।

শেষ বাঁশি বাজার পর মেসিকে ঘিরে তখন সতীর্থ, প্রতিপক্ষ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড়। ঠিক সেই সময় আর্জেন্টিনার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটির দায়িত্বে থাকা চিলিয়ান রেফারি ফার্নান্দো ভেখার এগিয়ে যান মেসির কাছে। হাতে ছিল ম্যাচে ব্যবহৃত তার হলুদ ও লাল কার্ড।

কার্ড দুটি মেসির হাতে তুলে দেন ভেখার শাস্তি হিসেবে নয়, বরং মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্মারক হিসেবে। ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়তেই মুহূর্তটি ছড়িয়ে পড়ে।

ইতালির লা গেজেটা ডেলো স্পোর্ট-ও জানিয়েছে, ম্যাচ শেষে রেফারি মেসিকে হলুদ ও লাল কার্ড দুটি স্মারক হিসেবে দেন। অর্থাৎ মাঠে মেসিকে কোনো কার্ড দেখানো হয়নি; বরং ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই এগুলো উপহার হিসেবে তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এই উপহারের সঙ্গে আরও একটি স্মরণীয় জিনিস যোগ হয়, ম্যাচের বলও মেসির হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর বেনিনের খেলোয়াড়েরা একে একে তার কাছে এসে শুভেচ্ছা জানান। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষের কাছ থেকেও এমন সম্মানই যেন মেসির ক্যারিয়ারের সারাংশ হয়ে উঠেছিল।

মেসির বিদায়ী অনুষ্ঠানে পরে গায়িকা সোলেদাদ পাস্তোরুত্তিকে সেই কার্ড হাতে দেখা যায়। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিএন জানিয়েছে, রেফারির দেওয়া কার্ড দুটি পরে মেসি সোলেদাদের হাতে তুলে দেন। তিনি সেদিন মেসির সম্মানে গানও পরিবেশন করেন।

সব মিলিয়ে একটি অদ্ভুত সুন্দর প্রতীক তৈরি হয়েছে। ফুটবলে লাল কার্ড মানে বিদায়, হলুদ কার্ড মানে সতর্কতা; কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে শেষ রাতে এই দুই কার্ডের অর্থ হয়ে গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এগুলো আর শাস্তির প্রতীক নয়; বরং হয়ে গেল তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্মৃতি।

বেনিনের বিপক্ষে সেই ম্যাচে মেসি করেন একটি গোল এবং দুটি অ্যাসিস্ট। ২০৮তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১২৬, সঙ্গে ৭০টি অ্যাসিস্ট।

আর তাই মনুমেন্টালে শেষ বাঁশির পর মেসির হাতে উঠে আসা সেই লাল-হলুদ কার্ড যেন বলে গেল অন্য এক গল্প। যে কার্ড দিয়ে ফুটবলারকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়, মেসির ক্ষেত্রে সেই কার্ডই শেষ পর্যন্ত হয়ে রইল ভালোবাসায় মোড়া বিদায়ের স্মারক।

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

19 + 17 =

About Author Information

শেষ ম্যাচে মেসিকে লাল-হলুদ দুই কার্ডই দিলেন রেফারি

Update Time : ০৭:১৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

যে দুটি কার্ড ফুটবল মাঠে সাধারণত শাস্তির প্রতীক, মেসির বিদায়ের রাতে সেই লাল ও হলুদ কার্ডই হয়ে উঠলো ভালোবাসা আর স্মৃতির বিশেষ উপহার। শেষ বাঁশি বাজার পর চিলির রেফারি ফার্নান্দো ভেখার নিজের ব্যবহৃত দুই কার্ডই তুলে দিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির হাতে।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ। মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়, একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্টে আরও একবার নিজের শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রেখে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকা। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ঘটে গেল এমন এক দৃশ্য, যা কোনো ম্যাচের পরিসংখ্যানের খাতায় লেখা থাকবে না, থেকে যাবে স্মৃতি হয়ে।

শেষ বাঁশি বাজার পর মেসিকে ঘিরে তখন সতীর্থ, প্রতিপক্ষ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড়। ঠিক সেই সময় আর্জেন্টিনার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটির দায়িত্বে থাকা চিলিয়ান রেফারি ফার্নান্দো ভেখার এগিয়ে যান মেসির কাছে। হাতে ছিল ম্যাচে ব্যবহৃত তার হলুদ ও লাল কার্ড।

কার্ড দুটি মেসির হাতে তুলে দেন ভেখার শাস্তি হিসেবে নয়, বরং মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্মারক হিসেবে। ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়তেই মুহূর্তটি ছড়িয়ে পড়ে।

ইতালির লা গেজেটা ডেলো স্পোর্ট-ও জানিয়েছে, ম্যাচ শেষে রেফারি মেসিকে হলুদ ও লাল কার্ড দুটি স্মারক হিসেবে দেন। অর্থাৎ মাঠে মেসিকে কোনো কার্ড দেখানো হয়নি; বরং ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই এগুলো উপহার হিসেবে তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এই উপহারের সঙ্গে আরও একটি স্মরণীয় জিনিস যোগ হয়, ম্যাচের বলও মেসির হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর বেনিনের খেলোয়াড়েরা একে একে তার কাছে এসে শুভেচ্ছা জানান। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষের কাছ থেকেও এমন সম্মানই যেন মেসির ক্যারিয়ারের সারাংশ হয়ে উঠেছিল।

মেসির বিদায়ী অনুষ্ঠানে পরে গায়িকা সোলেদাদ পাস্তোরুত্তিকে সেই কার্ড হাতে দেখা যায়। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিএন জানিয়েছে, রেফারির দেওয়া কার্ড দুটি পরে মেসি সোলেদাদের হাতে তুলে দেন। তিনি সেদিন মেসির সম্মানে গানও পরিবেশন করেন।

সব মিলিয়ে একটি অদ্ভুত সুন্দর প্রতীক তৈরি হয়েছে। ফুটবলে লাল কার্ড মানে বিদায়, হলুদ কার্ড মানে সতর্কতা; কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে শেষ রাতে এই দুই কার্ডের অর্থ হয়ে গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এগুলো আর শাস্তির প্রতীক নয়; বরং হয়ে গেল তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্মৃতি।

বেনিনের বিপক্ষে সেই ম্যাচে মেসি করেন একটি গোল এবং দুটি অ্যাসিস্ট। ২০৮তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১২৬, সঙ্গে ৭০টি অ্যাসিস্ট।

আর তাই মনুমেন্টালে শেষ বাঁশির পর মেসির হাতে উঠে আসা সেই লাল-হলুদ কার্ড যেন বলে গেল অন্য এক গল্প। যে কার্ড দিয়ে ফুটবলারকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়, মেসির ক্ষেত্রে সেই কার্ডই শেষ পর্যন্ত হয়ে রইল ভালোবাসায় মোড়া বিদায়ের স্মারক।