Dhaka ০৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রী ও দুই শিশুকে হত্যার পর পুলিশে ফোন দিলেন প্রবাসী বাংলাদেশি

4 / 100 SEO Score

 

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানকে হত্যার অভিযোগে ৪৭ বছর বয়সী এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ। নিহত দুই শিশুর বয়স ১২ ও ৫ বছর। তারা দুজনই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় জরুরি নম্বরে ফোন করে ঘটনার কথা জানান। পরে পুলিশ ক্যাম্পবেল টাউন এলাকার ওই বাসায় গিয়ে তার ৪৬ বছর বয়সী স্ত্রী ও দুই শিশুপুত্রের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের অ্যাক্টিং সুপারিনটেনডেন্ট মাইকেল মরোনি বলেন, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও সহিংস। নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে, তবে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি।

জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার পরিবার প্রায় এক দশক আগে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। পরিবারটির ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা যায়, তিনি ঘরে থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দুই সন্তানের দেখাশোনা করতেন। অন্যদিকে, তার স্ত্রী চাকরি করে পরিবারের ব্যয় বহন করতেন।

গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতাজনিত তিনটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার ক্যাম্পবেল টাউন আদালতে তাকে হাজির করা হয়। আদালতে তার পক্ষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন আইনজীবী জাওয়াদ হোসাইন।

আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তার মক্কেল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তবে অভিযুক্তের অতীতে পারিবারিক সহিংসতা, মাদকাসক্তি বা মানসিক অসুস্থতার কোনো ইতিহাস ছিল কি না—সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে পরিবারটির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পারিবারিক সহিংসতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এমনকি সমাজকল্যাণ বা শিশু সুরক্ষা সংস্থার সঙ্গেও তাদের কোনো পূর্ব যোগাযোগ ছিল না।

ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পবেল টাউন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের বাড়ির সামনে ফুল রেখে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এক প্রতিবেশী বলেন, শিশুদুটিকে প্রায়ই বাইরে খেলতে দেখা যেত। এমন নির্মম ঘটনা বিশ্বাস করা কঠিন।

এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস। তিনি বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো সমাজের মতো তিনিও গভীরভাবে ব্যথিত। একই সঙ্গে তিনি পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ জোরদারের ইঙ্গিত দেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ ‘অপারেশন আমারক’ নামে পারিবারিক সহিংসতাবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় এক হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যেই ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ড অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী সমাজে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।

ভুক্তভোগী শিশুদের সুরক্ষার স্বার্থে আইনি কারণে অভিযুক্ত ও নিহতদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

সূত্র: সিডনি মর্নিং হেরাল্ড

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

স্ত্রী ও দুই শিশুকে হত্যার পর পুলিশে ফোন দিলেন প্রবাসী বাংলাদেশি

Update Time : ০৬:৩৪:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
4 / 100 SEO Score

 

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানকে হত্যার অভিযোগে ৪৭ বছর বয়সী এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ। নিহত দুই শিশুর বয়স ১২ ও ৫ বছর। তারা দুজনই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় জরুরি নম্বরে ফোন করে ঘটনার কথা জানান। পরে পুলিশ ক্যাম্পবেল টাউন এলাকার ওই বাসায় গিয়ে তার ৪৬ বছর বয়সী স্ত্রী ও দুই শিশুপুত্রের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের অ্যাক্টিং সুপারিনটেনডেন্ট মাইকেল মরোনি বলেন, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও সহিংস। নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে, তবে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি।

জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার পরিবার প্রায় এক দশক আগে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। পরিবারটির ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা যায়, তিনি ঘরে থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দুই সন্তানের দেখাশোনা করতেন। অন্যদিকে, তার স্ত্রী চাকরি করে পরিবারের ব্যয় বহন করতেন।

গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতাজনিত তিনটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার ক্যাম্পবেল টাউন আদালতে তাকে হাজির করা হয়। আদালতে তার পক্ষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন আইনজীবী জাওয়াদ হোসাইন।

আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তার মক্কেল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তবে অভিযুক্তের অতীতে পারিবারিক সহিংসতা, মাদকাসক্তি বা মানসিক অসুস্থতার কোনো ইতিহাস ছিল কি না—সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে পরিবারটির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পারিবারিক সহিংসতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এমনকি সমাজকল্যাণ বা শিশু সুরক্ষা সংস্থার সঙ্গেও তাদের কোনো পূর্ব যোগাযোগ ছিল না।

ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পবেল টাউন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের বাড়ির সামনে ফুল রেখে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এক প্রতিবেশী বলেন, শিশুদুটিকে প্রায়ই বাইরে খেলতে দেখা যেত। এমন নির্মম ঘটনা বিশ্বাস করা কঠিন।

এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস। তিনি বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো সমাজের মতো তিনিও গভীরভাবে ব্যথিত। একই সঙ্গে তিনি পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ জোরদারের ইঙ্গিত দেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ ‘অপারেশন আমারক’ নামে পারিবারিক সহিংসতাবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় এক হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যেই ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ড অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী সমাজে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।

ভুক্তভোগী শিশুদের সুরক্ষার স্বার্থে আইনি কারণে অভিযুক্ত ও নিহতদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

সূত্র: সিডনি মর্নিং হেরাল্ড