Dhaka ০২:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাওনা আদায়ের নামে ‘মামলা-বাণিজ্য’, আল মোস্তফা গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ ফেসবুকে ফ্রি ভেরিফায়েড ব্যাজ পাবেন না যারা মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ব্যাখ্যা দিলেন ইশরাক হোসেন প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে মেসির জোড়া গোল, জিতলো মায়ামি নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফ হত্যায় যুবক গ্রেফতার কানাডায় সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বহু হতাহতের শঙ্কা মালয়েশিয়ায় চলতি বছরে বাংলাদেশিসহ ৬৫ হাজারের বেশি বিদেশি আটক কক্সবাজারে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, একই পরিবারের ছয়জন ‘জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব’ ত্রিদেশীয় সিরিজে হার দিয়ে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু

হানিফসহ চারজনের মামলায় যেকোনো দিন রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। বুধবার আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের পর রাষ্ট্রপক্ষের খণ্ডন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ফলে যেকোনো দিন রায় ঘোষণা হতে পারে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২-এ আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে উভয় পক্ষের যুক্তি শেষ হয়। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তি তুলে ধরেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিপক্ষের যুক্তি খণ্ডন করে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং সাবেক সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই পলাতক রয়েছেন।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেদিন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তে হানিফ সমর্থন দেন এবং অধীনস্থদের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করেন। এছাড়া তিনি একজন বেসামরিক রাজনৈতিক নেতা হিসেবে অধীনস্থদের নির্দেশনা এবং টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে আন্দোলন দমনে ভূমিকা রাখেন।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম যুক্তিতে বলেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকগুলোতে উপস্থিত থেকে হানিফ আন্দোলন দমনের সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে টেলিফোনে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যাযজ্ঞ চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এসব টেলিফোন কথোপকথনের রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয়েছে।

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিমকে একই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়েছে। একই সাংগঠনিক অবস্থানে থেকে হানিফও সর্বোচ্চ শাস্তি পাবেন বলে আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।

মামলায় হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় বা ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে উসকানি এবং কুষ্টিয়ায় আন্দোলন চলাকালে ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

eighteen + eleven =

About Author Information

হানিফসহ চারজনের মামলায় যেকোনো দিন রায়

Update Time : ১১:১৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। বুধবার আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের পর রাষ্ট্রপক্ষের খণ্ডন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ফলে যেকোনো দিন রায় ঘোষণা হতে পারে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২-এ আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে উভয় পক্ষের যুক্তি শেষ হয়। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তি তুলে ধরেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিপক্ষের যুক্তি খণ্ডন করে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং সাবেক সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই পলাতক রয়েছেন।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেদিন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তে হানিফ সমর্থন দেন এবং অধীনস্থদের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করেন। এছাড়া তিনি একজন বেসামরিক রাজনৈতিক নেতা হিসেবে অধীনস্থদের নির্দেশনা এবং টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে আন্দোলন দমনে ভূমিকা রাখেন।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম যুক্তিতে বলেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকগুলোতে উপস্থিত থেকে হানিফ আন্দোলন দমনের সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে টেলিফোনে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যাযজ্ঞ চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এসব টেলিফোন কথোপকথনের রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয়েছে।

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিমকে একই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়েছে। একই সাংগঠনিক অবস্থানে থেকে হানিফও সর্বোচ্চ শাস্তি পাবেন বলে আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।

মামলায় হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় বা ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে উসকানি এবং কুষ্টিয়ায় আন্দোলন চলাকালে ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ।