Dhaka ০৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০ উপজেলায় নেই হামের নতুন রোগী

নিজেস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

দেশে হামের প্রকোপ বাড়লেও টিকাদান কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার পর সংক্রমণপ্রবণ এলাকাগুলোতে নতুন করে হামে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. চিরঞ্জিত দাস বলেন, ভ্যাকসিন কার্যকারিতা দেখাতে সাধারণত ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ৩০ উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কার্যক্রম চালুর পর বর্তমানে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে।

বিশেষ করে ১৭ এপ্রিলের পর থেকে ওইসব এলাকায় রোগীর সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে কমতে শুরু করেছে। এই ফলাফল টিকাদানের কার্যকারিতার স্পষ্ট প্রমাণ। একই প্রবণতা ৫টি সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেও দেখা যাচ্ছে। আশাকরি খুব শিগগিরই দেশব্যাপী টিকা দেওয়ার প্রভাব পড়তে শুরু করবে।

ইউনিসেফের হেলথ ম্যানেজার (ইমিউনাইজেশন) ডা. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, চলমান ক্যাম্পেইনের কাভারেজ সন্তোষজনক। তবে দীর্ঘমেয়াদে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রুটিন ইপিআই কার্যক্রম জোরদার করা।

এই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। জাতীয়ভাবে টিকার কাভারেজে ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত করা গেলে তখন আলাদা ক্যাম্পেইনের প্রয়োজন পড়বে না।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য টিকা যেমন বাচ্চাদের ৩/৪ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যায় তাই ওই টিকার কাভারেজও অনেক বেশি ধাকে। তবে হাম এর জন্য এমআর টিকা শুরুই হয় ৯ মাস থেকে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাসে তাই অনেক মা বাবা ভুলে যান সন্তানকে এ টিকা প্রদান করতে।

তাই আমার বিশেষ অনুরোধ থাকবে যদি মা বাবারা তাদের সন্তানদের দুই ডোজ টিকা প্রদান করেন ও মোট জাতীয় কাভারেজ ৯৫ শতাংশ হয় তাহলে হাম এর প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, প্রথম পর্যায়ে ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশন যুক্ত করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে বিনামূল্যে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬১ শতাংশ। প্রাথমিকভাবে যেসব এলাকায় ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে, সেখানে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

মহাপরিচালক আরও জানান, মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় টিকা ও সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। রুটিন ইপিআই কার্যক্রমের টিকাও পর্যাপ্ত রয়েছে এবং আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে নতুন চালান হাতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৩০ উপজেলায় নেই হামের নতুন রোগী

Update Time : ০৩:২০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

দেশে হামের প্রকোপ বাড়লেও টিকাদান কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার পর সংক্রমণপ্রবণ এলাকাগুলোতে নতুন করে হামে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. চিরঞ্জিত দাস বলেন, ভ্যাকসিন কার্যকারিতা দেখাতে সাধারণত ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ৩০ উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কার্যক্রম চালুর পর বর্তমানে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে।

বিশেষ করে ১৭ এপ্রিলের পর থেকে ওইসব এলাকায় রোগীর সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে কমতে শুরু করেছে। এই ফলাফল টিকাদানের কার্যকারিতার স্পষ্ট প্রমাণ। একই প্রবণতা ৫টি সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেও দেখা যাচ্ছে। আশাকরি খুব শিগগিরই দেশব্যাপী টিকা দেওয়ার প্রভাব পড়তে শুরু করবে।

ইউনিসেফের হেলথ ম্যানেজার (ইমিউনাইজেশন) ডা. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, চলমান ক্যাম্পেইনের কাভারেজ সন্তোষজনক। তবে দীর্ঘমেয়াদে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রুটিন ইপিআই কার্যক্রম জোরদার করা।

এই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। জাতীয়ভাবে টিকার কাভারেজে ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত করা গেলে তখন আলাদা ক্যাম্পেইনের প্রয়োজন পড়বে না।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য টিকা যেমন বাচ্চাদের ৩/৪ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যায় তাই ওই টিকার কাভারেজও অনেক বেশি ধাকে। তবে হাম এর জন্য এমআর টিকা শুরুই হয় ৯ মাস থেকে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাসে তাই অনেক মা বাবা ভুলে যান সন্তানকে এ টিকা প্রদান করতে।

তাই আমার বিশেষ অনুরোধ থাকবে যদি মা বাবারা তাদের সন্তানদের দুই ডোজ টিকা প্রদান করেন ও মোট জাতীয় কাভারেজ ৯৫ শতাংশ হয় তাহলে হাম এর প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, প্রথম পর্যায়ে ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশন যুক্ত করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে বিনামূল্যে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬১ শতাংশ। প্রাথমিকভাবে যেসব এলাকায় ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে, সেখানে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

মহাপরিচালক আরও জানান, মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় টিকা ও সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। রুটিন ইপিআই কার্যক্রমের টিকাও পর্যাপ্ত রয়েছে এবং আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে নতুন চালান হাতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।