Dhaka ০৮:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধুমতির ভাঙনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ১০ হাজার মানুষের

জেলা প্রতিনিধি
12 / 100 SEO Score

 

মাগুরার মহম্মদপুরে মধুমতি নদীর তীব্র ভাঙনে একটি কার্পেটিং সড়কের প্রায় ৫০ গজ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় অন্তত ১০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে একটি মসজিদ ও গোরস্তান।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, দেউলী এলাকায় সড়কের বড় একটি অংশ ধসে মধুমতি নদীতে চলে গেছে। যেখানে একসময় ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করত, সেখানে এখন মানুষ সাইকেল কাঁধে নিয়ে কিংবা হেঁটে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন। যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পাটক্ষেতের জমে থাকা পানির প্রবল স্রোত সড়কের ওপর দিয়ে নদীতে নেমে যায়। এর সঙ্গে মধুমতির তীব্র ভাঙন যুক্ত হয়ে সড়কের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে।

ধসে যাওয়া অংশের পাশ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ঝামা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দেউলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঝামা বরকাতুল উলুম কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। সামান্য অসতর্ক হলেই নদীতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবছর নদীভাঙনে একই এলাকায় সড়ক ও আবাদি জমির ক্ষতি হলেও স্থায়ী কোনো তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। তাই সাময়িক সংস্কারের পরিবর্তে টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর নদীভাঙনে একই এলাকায় সড়ক ও আবাদি জমির ক্ষতি হলেও স্থায়ী কোনো তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। তাই সাময়িক সংস্কারের পরিবর্তে টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, সড়কটির ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে মানুষের দুর্ভোগ কমানো যায়।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মধুমতির ভাঙনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ১০ হাজার মানুষের

Update Time : ১২:০৬:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

মাগুরার মহম্মদপুরে মধুমতি নদীর তীব্র ভাঙনে একটি কার্পেটিং সড়কের প্রায় ৫০ গজ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় অন্তত ১০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে একটি মসজিদ ও গোরস্তান।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, দেউলী এলাকায় সড়কের বড় একটি অংশ ধসে মধুমতি নদীতে চলে গেছে। যেখানে একসময় ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করত, সেখানে এখন মানুষ সাইকেল কাঁধে নিয়ে কিংবা হেঁটে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন। যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পাটক্ষেতের জমে থাকা পানির প্রবল স্রোত সড়কের ওপর দিয়ে নদীতে নেমে যায়। এর সঙ্গে মধুমতির তীব্র ভাঙন যুক্ত হয়ে সড়কের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে।

ধসে যাওয়া অংশের পাশ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ঝামা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দেউলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঝামা বরকাতুল উলুম কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। সামান্য অসতর্ক হলেই নদীতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবছর নদীভাঙনে একই এলাকায় সড়ক ও আবাদি জমির ক্ষতি হলেও স্থায়ী কোনো তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। তাই সাময়িক সংস্কারের পরিবর্তে টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর নদীভাঙনে একই এলাকায় সড়ক ও আবাদি জমির ক্ষতি হলেও স্থায়ী কোনো তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। তাই সাময়িক সংস্কারের পরিবর্তে টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, সড়কটির ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে মানুষের দুর্ভোগ কমানো যায়।