Dhaka ০৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশি বিনিয়োগে আস্থা গড়েছেন নাফিজ সরাফাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতাদের আস্থা অর্জনকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়। ব্যাংকিং খাতে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে সেই আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের ভূমিকা আলোচনায় এসেছে।

ব্যাংকিং খাতে কর্মজীবন শুরু করা নাফিজ সরাফাত বড় প্রকল্পের আর্থিক ঝুঁকি, ঋণ কাঠামো ও বিনিয়োগকারীদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। পরবর্তী সময়ে উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত করেন।

এর অন্যতম উদাহরণ ইউনিক মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রকল্পটিতে যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই) প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণচুক্তির মাধ্যমে যুক্ত হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পের শেয়ারধারী হিসেবেও অংশ নেয়। কাতার সরকারের মালিকানাধীন নেব্রাস পাওয়ার প্রকল্পটির ২৪ শতাংশ শেয়ার নেয়।

প্রকল্পটির জন্য প্রায় ১৫ বছর মেয়াদি ৪৬৩ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ সংগ্রহ করা হয়। অর্থায়নে যুক্ত ছিল যুক্তরাজ্যের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, জার্মানির ডিইজি, সুইজারল্যান্ডের সার্ভ ও ওপেক ফান্ড। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর এ অর্থায়ন পাওয়া প্রকল্পটির আর্থিক কাঠামোর গ্রহণযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হয়।

এ বিষয়ে একজন অর্থনীতি ও বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা কোনো একটি প্রকল্পে শুধু সম্ভাবনা দেখেই অর্থ বিনিয়োগ করেন না। তারা উদ্যোক্তার সক্ষমতা, প্রকল্পের আর্থিক কাঠামো, অংশীদারদের গ্রহণযোগ্যতা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা যাচাই করেন। একটি প্রকল্পে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে যুক্ত করতে পারা উদ্যোক্তার সমন্বয় ও আস্থা তৈরির সক্ষমতার পরিচয় দেয়। নাফিজ সরাফাতের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

করোনা মহামারির সময় বিশ্বজুড়ে সরবরাহব্যবস্থা ও নির্মাণকাজে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলেও প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত উৎপাদনে আসে। প্রকল্পটির উৎপাদনক্ষমতা প্রায় সাত লাখ পরিবারের বিদ্যুৎ চাহিদার সমপরিমাণ বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নাফিজ সরাফাতের কাজের আরেকটি দিক হলো পেশাদার ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করা। তার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিজ্ঞ ব্যাংকার, হিসাববিদ, নিরীক্ষক, অর্থনীতিবিদ, আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক পরামর্শকদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। গ্র্যান্ট থর্নটনের মতো আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানও সংশ্লিষ্ট ছিল।

বিদ্যুৎ খাতের পাশাপাশি ডিজিটাল অবকাঠামোতেও তার উদ্যোগের কথা উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ইউএসটিডিএ) সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেডকে প্রস্তাবিত ‘বাঘা-১’ আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেবলের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য অনুদান দেয়। প্রকল্পটির লক্ষ্য বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ সক্ষমতা বাড়ানো এবং ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কেবল সম্ভাবনাময় প্রকল্প থাকাই যথেষ্ট নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে তা বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতার প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা, বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে উদ্যোগের মাধ্যমে নাফিজ সরাফাত দেশের বিনিয়োগ পরিবেশে আস্থা তৈরিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিদেশি বিনিয়োগে আস্থা গড়েছেন নাফিজ সরাফাত

Update Time : ০৪:৫৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতাদের আস্থা অর্জনকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়। ব্যাংকিং খাতে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে সেই আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের ভূমিকা আলোচনায় এসেছে।

ব্যাংকিং খাতে কর্মজীবন শুরু করা নাফিজ সরাফাত বড় প্রকল্পের আর্থিক ঝুঁকি, ঋণ কাঠামো ও বিনিয়োগকারীদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। পরবর্তী সময়ে উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত করেন।

এর অন্যতম উদাহরণ ইউনিক মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রকল্পটিতে যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই) প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণচুক্তির মাধ্যমে যুক্ত হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পের শেয়ারধারী হিসেবেও অংশ নেয়। কাতার সরকারের মালিকানাধীন নেব্রাস পাওয়ার প্রকল্পটির ২৪ শতাংশ শেয়ার নেয়।

প্রকল্পটির জন্য প্রায় ১৫ বছর মেয়াদি ৪৬৩ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ সংগ্রহ করা হয়। অর্থায়নে যুক্ত ছিল যুক্তরাজ্যের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, জার্মানির ডিইজি, সুইজারল্যান্ডের সার্ভ ও ওপেক ফান্ড। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর এ অর্থায়ন পাওয়া প্রকল্পটির আর্থিক কাঠামোর গ্রহণযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হয়।

এ বিষয়ে একজন অর্থনীতি ও বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা কোনো একটি প্রকল্পে শুধু সম্ভাবনা দেখেই অর্থ বিনিয়োগ করেন না। তারা উদ্যোক্তার সক্ষমতা, প্রকল্পের আর্থিক কাঠামো, অংশীদারদের গ্রহণযোগ্যতা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা যাচাই করেন। একটি প্রকল্পে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে যুক্ত করতে পারা উদ্যোক্তার সমন্বয় ও আস্থা তৈরির সক্ষমতার পরিচয় দেয়। নাফিজ সরাফাতের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

করোনা মহামারির সময় বিশ্বজুড়ে সরবরাহব্যবস্থা ও নির্মাণকাজে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলেও প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত উৎপাদনে আসে। প্রকল্পটির উৎপাদনক্ষমতা প্রায় সাত লাখ পরিবারের বিদ্যুৎ চাহিদার সমপরিমাণ বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নাফিজ সরাফাতের কাজের আরেকটি দিক হলো পেশাদার ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করা। তার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিজ্ঞ ব্যাংকার, হিসাববিদ, নিরীক্ষক, অর্থনীতিবিদ, আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক পরামর্শকদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। গ্র্যান্ট থর্নটনের মতো আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানও সংশ্লিষ্ট ছিল।

বিদ্যুৎ খাতের পাশাপাশি ডিজিটাল অবকাঠামোতেও তার উদ্যোগের কথা উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ইউএসটিডিএ) সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেডকে প্রস্তাবিত ‘বাঘা-১’ আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেবলের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য অনুদান দেয়। প্রকল্পটির লক্ষ্য বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ সক্ষমতা বাড়ানো এবং ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কেবল সম্ভাবনাময় প্রকল্প থাকাই যথেষ্ট নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে তা বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতার প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা, বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে উদ্যোগের মাধ্যমে নাফিজ সরাফাত দেশের বিনিয়োগ পরিবেশে আস্থা তৈরিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।