শেষ হচ্ছে না আধুনিকায়নের কাজ: শিশুদের হাসি ফিরবে কবে শাহবাগ পার্কে?
***সাত বছরেও শেষ হয়নি আধুনিকায়ন, বন্ধ পার্ক
***রাইডহীন শাহবাগ, বিনোদনবঞ্চিত এক প্রজন্ম
***প্রকল্পের জটিলতায় দীর্ঘ হচ্ছে শিশুদের অপেক্ষা
****২০২৭ সালে খোলার আশ্বাস, কাটছে না সংশয়
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা শাহবাগ। চারপাশে মানুষের ছুটে চলা, যানবাহনের শব্দ আর নগরজীবনের ব্যস্ততার মাঝেই একসময় শিশুদের হাসি-কোলাহলে মুখর থাকত শহীদ জিয়া শিশু পার্ক। ছুটির দিনে অভিভাবকদের হাত ধরে শিশুদের ভিড়, রাইডে ওঠার আনন্দ আর চারপাশজুড়ে উৎসবের আবহ সব মিলিয়ে এটি ছিল রাজধানীর শিশুদের অন্যতম আনন্দের ঠিকানা।
কিন্তু সেই পার্ক এখন নীরব। নেই আগের রাইড, নেই শিশুদের কোলাহল। আধুনিকায়নের জন্য বন্ধ হওয়া পার্কটির ফটক দীর্ঘ সময় ধরে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ। আর প্রশ্ন উঠছে শেষ হচ্ছে না আধুনিকায়নের কাজ, শিশুদের হাসি ফিরবে কবে শাহবাগ পার্কে?
এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা বলা হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রতিশ্রুতির মেয়াদও যেন হারিয়ে গেছে। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও আধুনিকায়নের কাজ শেষ হয়নি। ফলে রাজধানীর একটি প্রজন্মের শিশু এই পার্কের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
যে পার্ক ছিল সবার নাগালের বিনোদন: একসময় শাহবাগের এই শিশুপার্ক শুধু বিনোদনের জায়গা ছিল না, ছিল নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের জন্য সহজলভ্য আনন্দের একটি বড় ঠিকানা। অল্প খরচে বিভিন্ন রাইডে চড়ার সুযোগ থাকায় ছুটির দিনগুলোতে পার্কে ভিড় জমাতেন অভিভাবকরা।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে শিশুদের নিয়ে আসতেন পরিবারগুলো। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় নতুন প্রজন্মের অনেক শিশুই এখন আর সেই পার্কের পুরোনো রূপের সঙ্গে পরিচিত নয়।
নগরে যেখানে খেলার মাঠ ও শিশুদের বিনোদনের জায়গার সংকট রয়েছে, সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনোদনকেন্দ্র এত দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় প্রশ্ন উঠছে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে।
আধুনিকায়নের পথে দীর্ঘসূত্রতা: পার্কের আধুনিকায়ন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিক পরিকল্পনা ও প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের জটিলতা, প্রশাসনিক নানা ধাপ এবং নতুন রাইড সংগ্রহের প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন কারণে কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি।
পার্কের নিচে ভূগর্ভস্থ পার্কিং নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পর এখন মূলত শিশুদের জন্য নতুন রাইড স্থাপন ও আধুনিক বিনোদনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এবার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে আধুনিক রাইড সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে পার্কটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার আশা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। তবে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর নতুন এই সময়সীমা নিয়েও নগরবাসীর মনে রয়েছে সংশয়।
পার্কে গিয়ে হতাশ শিশু ও অভিভাবকরা: পার্ক বন্ধ থাকার বিষয়টি না জেনে এখনো ছুটির দিনে অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিয়ে শাহবাগে আসেন। কিন্তু বন্ধ ফটক দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয় তাদের।
একসময় যে জায়গায় শিশুদের আনন্দ আর কোলাহল ছিল, সেখানে এখন দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। পুরোনো রাইডগুলোর অস্তিত্ব নেই। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা পার্কের সামনে এসে অনেক শিশু জানতে চায় পার্কটি কবে খুলবে?
কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর এতদিনেও স্পষ্ট ছিল না। হারিয়ে যাচ্ছে এক প্রজন্মের স্মৃতি: শাহবাগ শিশু পার্কের দীর্ঘ বন্ধ থাকার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে শিশুদের ওপর। যারা সাত বছর আগে খুব ছোট ছিল, তাদের অনেকেই এখন বড় হয়ে গেছে। আর যারা পরে জন্মেছে, তাদের অনেকেরই এই পার্কে রাইডে চড়ার কোনো স্মৃতি নেই।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শিশুদের জন্য খোলা জায়গা, খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা শুধু আনন্দের বিষয় নয়; তাদের স্বাভাবিক বিকাশেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই দীর্ঘদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকা শিশুদের সুযোগ-সুবিধার সংকটকেই আরও স্পষ্ট করেছে।
এবার কি সত্যিই ফিরবে সেই কোলাহল: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কর্তৃপক্ষ এখন ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে পার্কটি খুলে দেওয়ার আশা দেখাচ্ছে। প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং আধুনিক রাইড স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
তবে নগরবাসীর প্রত্যাশা একটাই আর কোনো নতুন প্রতিশ্রুতি নয়, এবার কাজ শেষ হোক। বন্ধ ফটক খুলুক। আবারও শিশুদের পদচারণায় মুখর হোক শাহবাগের সেই চেনা প্রাঙ্গণ।




















