Dhaka ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্দেহভাজন হিসেবেই জেলে কেটে গেল সাড়ে ১৩ বছর!

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদকে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেফতার করা হয়। একজন সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতারের পর তার জীবনের সাড়ে ১৩ বছর কারাগারে কেটে গেলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তাই অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেছে তার পরিবার। নিহত সাংবাদিক মেহেরুন রুনির ভাই মামলার বাদী নওশের আলম রোমানও চান, এনামকে জামিন দিয়ে মুক্তি দেওয়া হোক এবং তার চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হোক।

নওশের রোমান বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কাউকে যেন হয়রানি করা না হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এনামকে জামিন দিয়ে মুক্তি দেওয়া হোক। তার সুচিকিত্সার ব্যবস্থা করা হোক।’

সম্প্রতি এই মামলার সর্বশেষ তদন্ত সংস্থা পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর বিভাগের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকালে এখন পর্যন্ত এনাম আহমেদের বিরুদ্ধে সাগর-রুনি হত্যায় জড়িত থাকার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আদালতের আদেশের আলোকে গত ২২ এপ্রিল কাশিমপুর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি কোনো প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। অনেক কিছু মনে করতে পারছিলেন না। তার উত্তরও ছিল এলোমেলো। তদন্ত কর্মকর্তার পর্যবেক্ষণে তাকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বলে মনে হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন বন্দি থাকার কারণে এনাম বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। তাকে সাধারণ বন্দিদের থেকে আলাদা একটি ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে এবং প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। তার দ্রুত সুচিকিত্সা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনাম আহমেদের মা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে যদি দোষী হয়ে থাকে, আমরা তখন তার বিচার চেয়েছিলাম। কিন্তু এত বছর ধরে তদন্ত চলার পরও তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ পাওয়া গেল না। শুধু সন্দেহের কারণে আমার ছেলে আর আমাদের পরিবারটাকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা তার মুক্তি চাই।’ সে নির্দোষ হলে তাকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জনিয়েছেন এনামের বড় ভাই শাহিন আহমদ। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ৫৮/এ/২ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাট থেকে সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় এ পর্যন্ত ১১২ বার পিছিয়েছে।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

fourteen − twelve =

About Author Information

সন্দেহভাজন হিসেবেই জেলে কেটে গেল সাড়ে ১৩ বছর!

Update Time : ০৫:১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদকে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেফতার করা হয়। একজন সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতারের পর তার জীবনের সাড়ে ১৩ বছর কারাগারে কেটে গেলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তাই অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেছে তার পরিবার। নিহত সাংবাদিক মেহেরুন রুনির ভাই মামলার বাদী নওশের আলম রোমানও চান, এনামকে জামিন দিয়ে মুক্তি দেওয়া হোক এবং তার চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হোক।

নওশের রোমান বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কাউকে যেন হয়রানি করা না হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এনামকে জামিন দিয়ে মুক্তি দেওয়া হোক। তার সুচিকিত্সার ব্যবস্থা করা হোক।’

সম্প্রতি এই মামলার সর্বশেষ তদন্ত সংস্থা পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর বিভাগের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকালে এখন পর্যন্ত এনাম আহমেদের বিরুদ্ধে সাগর-রুনি হত্যায় জড়িত থাকার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আদালতের আদেশের আলোকে গত ২২ এপ্রিল কাশিমপুর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি কোনো প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। অনেক কিছু মনে করতে পারছিলেন না। তার উত্তরও ছিল এলোমেলো। তদন্ত কর্মকর্তার পর্যবেক্ষণে তাকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বলে মনে হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন বন্দি থাকার কারণে এনাম বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। তাকে সাধারণ বন্দিদের থেকে আলাদা একটি ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে এবং প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। তার দ্রুত সুচিকিত্সা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনাম আহমেদের মা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে যদি দোষী হয়ে থাকে, আমরা তখন তার বিচার চেয়েছিলাম। কিন্তু এত বছর ধরে তদন্ত চলার পরও তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ পাওয়া গেল না। শুধু সন্দেহের কারণে আমার ছেলে আর আমাদের পরিবারটাকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা তার মুক্তি চাই।’ সে নির্দোষ হলে তাকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জনিয়েছেন এনামের বড় ভাই শাহিন আহমদ। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ৫৮/এ/২ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাট থেকে সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় এ পর্যন্ত ১১২ বার পিছিয়েছে।