Dhaka ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তিন বছরেও কাটেনি অনাগ্রহ: বড় সংস্কারের পথে সর্বজনীন পেনশন আজ রাতে একাদশে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়ার পথে মির্জা আব্বাস সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষিকার মৃত্যু: ছিনতাইকৃত মালামালসহ ২ আসামি গ্রেপ্তার পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা শুরু, উঠছে ৬৫ হাজার কোটি টাকার ১৬ প্রকল্প মেয়র পদে ত্রিমুখী লড়াইয়ের পথে ঢাকা: তিন দলের ভিন্ন সমীকরণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়: ইসি আনোয়ারুল ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারের সাক্ষাৎ, আর্থিক সহায়তা

মুরগির পেটের ডিমে স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা

8 / 100 SEO Score

 

মুরগি কাটার সময় পেটের ভেতর আস্ত বা আধা-গঠিত ডিম পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। অনেকেই এসব ডিম রান্না করে খান, আবার কেউ স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় ফেলে দেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমটি অক্ষত ও দূষণমুক্ত থাকলে এবং সঠিকভাবে রান্না করা হলে খাওয়া যেতে পারে। তবে মুরগির নাড়িভুঁড়ি বা বর্জ্য লেগে গেলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

মুরগি কাটার সময় পেটের ডিম যদি খোলস বা পাতলা আবরণের ভেতরে সুন্দরভাবে থাকে, তাহলে খাওয়া যাবে। তবে ডিমটা মুরগির পেট থেকে বের করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে ভেঙে না যায় বা মুরগির পেটের ময়লা লেগে না যায়। বের করার সময় ডিমটির যে স্বাভাবিক আকৃতি ছিল, তা যদি নষ্ট হয়ে যায় অর্থাৎ ডিম ভেঙে যায়, তাহলে খাওয়া উচিত হবে না।

মুরগি কাটার সময় যদি পিত্তথলি বা নাড়িভুঁড়ি ফেটে বর্জ্য বেরিয়ে ডিমের গায়ে লেগে যায়, তবে তা থেকে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটতে পারে। এ ধরনের বর্জ্য দিয়ে ডিম যদি অনেক বেশি দূষিত হয়ে যায়, তবে স্বাভাবিক আকৃতি অক্ষুণ্ন থাকলেও না খাওয়াই নিরাপদ।

ধোয়ার প্রয়োজন নেই। খোলস বা পাতলা আবরণ যেটিই থাকুক না কেন, তাতে যদি দৃশ্যমান ময়লা থাকে, টিস্যু দিয়ে হালকাভাবে মুছে ফেলুন। ফ্রিজে সংরক্ষণ না করে তখনই রান্না করে ফেলুন।

যে পদই করুন না কেন, ডিম খুব ভালোভাবে সেদ্ধ করতে হবে। উচ্চ তাপমাত্রায় অল্প রান্না করলে ভেতরটা কাঁচা রয়ে যেতে পারে। তাই মাঝারি আঁচে পর্যাপ্ত সময় ধরে রান্না করুন, যাতে ভেতরটা পুরোপুরি জমাট বাঁধে। সেদ্ধ হয়ে গেছে মনে হলেও একটি ডিম তুলে নিয়ে আলাদা প্লেট কিংবা বাটিতে রাখুন।

একটা চামচ বা ছুরি দিয়ে ডিমের মাঝখানের অংশ কেটে দেখুন, নরম হয়ে আছে কি না। নরম থাকলে বুঝতে হবে, ডিম ভালোভাবে সেদ্ধ হয়নি। তখন আরও সেদ্ধ করুন। পরে আবার একইভাবে পরীক্ষা করে দেখুন, সেদ্ধ হয়েছে কি না। সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রান্নার ধরন বুঝে প্রয়োজন অনুযায়ী তাতে পানি বা তেল যোগ করতে পারেন, যাতে পাত্রের তলার দিকে পুড়ে বা লেগে না যায়।

মুরগির পেট থেকে নিরাপদভাবে বের করে নেওয়া ডিম ওপরের এসব নিয়ম মেনে রান্না করা হলে মানবস্বাস্থ্যের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ। যেকোনো বয়সী মানুষেরই তাতে কোনো ক্ষতি হয় না। তবে ওপরের কোনো শর্তের ব্যত্যয় হলে ডিমের মাধ্যমে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে (বিশেষত সালমোনেলা নামের জীবাণু, যা ফুড পয়জনিংয়ের কারণ)।

মুরগির পেটে থাকা এসব ডিম সঠিক নিয়মে খাওয়া হলে আপনি ডিমের নানা পুষ্টিও পাবেন। এই ডিমে আমিষ, অতি প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, আয়রন, ভিটামিন বি১২সহ নানান পুষ্টি উপাদান থাকে।

কোনো রোগের কারণে যাদের আমিষ বা আয়রন গ্রহণে বিধিনিষেধ আছে, তাদের ক্ষেত্রে রোজকার নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি কোনো ডিমই খাওয়া উচিত নয়। এই ডিমে বেশ উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল থাকে।

তাই যাদের রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস বা হৃদ্‌রোগ রয়েছে, তাদের অতিরিক্ত কুসুম খাওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। যাদের এ ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, এই বাড়তি ডিম তাদের দিয়ে দিতে পারেন।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

4 × three =

About Author Information

মুরগির পেটের ডিমে স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা

Update Time : ০৩:৫০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

মুরগি কাটার সময় পেটের ভেতর আস্ত বা আধা-গঠিত ডিম পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। অনেকেই এসব ডিম রান্না করে খান, আবার কেউ স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় ফেলে দেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমটি অক্ষত ও দূষণমুক্ত থাকলে এবং সঠিকভাবে রান্না করা হলে খাওয়া যেতে পারে। তবে মুরগির নাড়িভুঁড়ি বা বর্জ্য লেগে গেলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

মুরগি কাটার সময় পেটের ডিম যদি খোলস বা পাতলা আবরণের ভেতরে সুন্দরভাবে থাকে, তাহলে খাওয়া যাবে। তবে ডিমটা মুরগির পেট থেকে বের করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে ভেঙে না যায় বা মুরগির পেটের ময়লা লেগে না যায়। বের করার সময় ডিমটির যে স্বাভাবিক আকৃতি ছিল, তা যদি নষ্ট হয়ে যায় অর্থাৎ ডিম ভেঙে যায়, তাহলে খাওয়া উচিত হবে না।

মুরগি কাটার সময় যদি পিত্তথলি বা নাড়িভুঁড়ি ফেটে বর্জ্য বেরিয়ে ডিমের গায়ে লেগে যায়, তবে তা থেকে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটতে পারে। এ ধরনের বর্জ্য দিয়ে ডিম যদি অনেক বেশি দূষিত হয়ে যায়, তবে স্বাভাবিক আকৃতি অক্ষুণ্ন থাকলেও না খাওয়াই নিরাপদ।

ধোয়ার প্রয়োজন নেই। খোলস বা পাতলা আবরণ যেটিই থাকুক না কেন, তাতে যদি দৃশ্যমান ময়লা থাকে, টিস্যু দিয়ে হালকাভাবে মুছে ফেলুন। ফ্রিজে সংরক্ষণ না করে তখনই রান্না করে ফেলুন।

যে পদই করুন না কেন, ডিম খুব ভালোভাবে সেদ্ধ করতে হবে। উচ্চ তাপমাত্রায় অল্প রান্না করলে ভেতরটা কাঁচা রয়ে যেতে পারে। তাই মাঝারি আঁচে পর্যাপ্ত সময় ধরে রান্না করুন, যাতে ভেতরটা পুরোপুরি জমাট বাঁধে। সেদ্ধ হয়ে গেছে মনে হলেও একটি ডিম তুলে নিয়ে আলাদা প্লেট কিংবা বাটিতে রাখুন।

একটা চামচ বা ছুরি দিয়ে ডিমের মাঝখানের অংশ কেটে দেখুন, নরম হয়ে আছে কি না। নরম থাকলে বুঝতে হবে, ডিম ভালোভাবে সেদ্ধ হয়নি। তখন আরও সেদ্ধ করুন। পরে আবার একইভাবে পরীক্ষা করে দেখুন, সেদ্ধ হয়েছে কি না। সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রান্নার ধরন বুঝে প্রয়োজন অনুযায়ী তাতে পানি বা তেল যোগ করতে পারেন, যাতে পাত্রের তলার দিকে পুড়ে বা লেগে না যায়।

মুরগির পেট থেকে নিরাপদভাবে বের করে নেওয়া ডিম ওপরের এসব নিয়ম মেনে রান্না করা হলে মানবস্বাস্থ্যের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ। যেকোনো বয়সী মানুষেরই তাতে কোনো ক্ষতি হয় না। তবে ওপরের কোনো শর্তের ব্যত্যয় হলে ডিমের মাধ্যমে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে (বিশেষত সালমোনেলা নামের জীবাণু, যা ফুড পয়জনিংয়ের কারণ)।

মুরগির পেটে থাকা এসব ডিম সঠিক নিয়মে খাওয়া হলে আপনি ডিমের নানা পুষ্টিও পাবেন। এই ডিমে আমিষ, অতি প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, আয়রন, ভিটামিন বি১২সহ নানান পুষ্টি উপাদান থাকে।

কোনো রোগের কারণে যাদের আমিষ বা আয়রন গ্রহণে বিধিনিষেধ আছে, তাদের ক্ষেত্রে রোজকার নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি কোনো ডিমই খাওয়া উচিত নয়। এই ডিমে বেশ উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল থাকে।

তাই যাদের রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস বা হৃদ্‌রোগ রয়েছে, তাদের অতিরিক্ত কুসুম খাওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। যাদের এ ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, এই বাড়তি ডিম তাদের দিয়ে দিতে পারেন।