Dhaka ০৮:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাত হলেই তার চুরির আতঙ্ক

জেলা প্রতিনিধি
8 / 100 SEO Score

 

রাত হলেই বিদ্যুতের সার্ভিস তার চুরির আতঙ্কে থাকছেন বরগুনার বাসিন্দারা। গত দুই মাসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত দুই শতাধিক বাড়ির বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। এমনকি চোরের হাত থেকে রক্ষা পায়নি বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সরকারি বাসার সার্ভিস তারও।

পুলিশ বলছে, এরই মধ্যে চোর চক্রকে শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে একজনকে। চোর চক্র ধরতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সরেজমিনে বরগুনা সদর উপজেলার ক্রোক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে সদর উপজেলার ক্রোক এলাকার বাসিন্দা বিধবা মোরশেদা বেগমের চায়ের দোকান ও বাসার প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের সার্ভিস তার চুরি করে নিয়ে যায় চোর চক্র। এরপর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে তার। অর্থাভাবে নতুন তার কিনে সংযোগ নিতে না পারায় অন্ধকারে দিন কাটছে ওই নারীর। বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানে ফ্যান ও বৈদ্যুতিক কেটলিও চালাতে না পারায় কমেছে বেচাকেনা।

গত দুই মাসে ওই এলাকার অন্তত ৫০টি বাড়ির তার চুরি করেছে চোরচক্র। পাশাপাশি চুরি হয়েছে একই এলাকার পৌর বর্জ্য শোধনাগারের সার্ভিস তারসহ ল্যাম্পপোস্টের সকল তার। আর শুধু বরগুনা সদর উপজেলার অন্তত দুই শতাধিক বাড়ির বৈদ্যুতিক মূল্যবান সার্ভিস তার চুরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুবেল বলেন, আমাদের এলাকায় প্রায় অনেক বাড়িতেই বিদ্যুতের তার চুরি হয়েছে। রাত হলে এখন আমরা আতঙ্কে থাকি কখন চোর আক্রমণ করে। এলাকার বেশিরভাগ মানুষই খেটে খাওয়া। একবার তার চুরি হলে নতুন করে আবারো তার কেনার সামর্থ্য অনেকেরই নেই। একের পর এক এলাকার বাসিন্দাদের সার্ভিস তার চুরির ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার অথবা প্রশাসনের এ বিষয়ে তেমন কোনো ভূমিকা দেখছি না।

১০ দিন আগে নিজ বাসভবনের সার্ভিস তার চুরির সত্যতা নিশ্চিত করে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, তার চুরির ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে চুরির মামলায় বেশ কয়েকজন গ্রেফতার রয়েছে। এদের বেশিরভাগই মাদকাসক্ত, আমরা এ ঘটনায় ভাঙারি দোকানেও খোঁজ খবর নিচ্ছি, তাদের তথ্য সংগ্রহ করছি। আমাদের কাছে অনেক তথ্যই এসেছে। এসব ব্যাপারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খাঁন বলেন, বরগুনায় জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চোর, ডাকাত এবং মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। তবে সার্ভিস তার চুরির একটি চক্র সক্রিয় হয়েছে, এমন খবর আমাদের নজরে এসেছে। এরই মধ্যে এই চক্রের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবং চক্রের অন্য সদস্যদেরকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

four × 5 =

About Author Information

রাত হলেই তার চুরির আতঙ্ক

Update Time : ০৯:১৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

রাত হলেই বিদ্যুতের সার্ভিস তার চুরির আতঙ্কে থাকছেন বরগুনার বাসিন্দারা। গত দুই মাসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত দুই শতাধিক বাড়ির বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। এমনকি চোরের হাত থেকে রক্ষা পায়নি বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সরকারি বাসার সার্ভিস তারও।

পুলিশ বলছে, এরই মধ্যে চোর চক্রকে শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে একজনকে। চোর চক্র ধরতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সরেজমিনে বরগুনা সদর উপজেলার ক্রোক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে সদর উপজেলার ক্রোক এলাকার বাসিন্দা বিধবা মোরশেদা বেগমের চায়ের দোকান ও বাসার প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের সার্ভিস তার চুরি করে নিয়ে যায় চোর চক্র। এরপর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে তার। অর্থাভাবে নতুন তার কিনে সংযোগ নিতে না পারায় অন্ধকারে দিন কাটছে ওই নারীর। বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানে ফ্যান ও বৈদ্যুতিক কেটলিও চালাতে না পারায় কমেছে বেচাকেনা।

গত দুই মাসে ওই এলাকার অন্তত ৫০টি বাড়ির তার চুরি করেছে চোরচক্র। পাশাপাশি চুরি হয়েছে একই এলাকার পৌর বর্জ্য শোধনাগারের সার্ভিস তারসহ ল্যাম্পপোস্টের সকল তার। আর শুধু বরগুনা সদর উপজেলার অন্তত দুই শতাধিক বাড়ির বৈদ্যুতিক মূল্যবান সার্ভিস তার চুরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুবেল বলেন, আমাদের এলাকায় প্রায় অনেক বাড়িতেই বিদ্যুতের তার চুরি হয়েছে। রাত হলে এখন আমরা আতঙ্কে থাকি কখন চোর আক্রমণ করে। এলাকার বেশিরভাগ মানুষই খেটে খাওয়া। একবার তার চুরি হলে নতুন করে আবারো তার কেনার সামর্থ্য অনেকেরই নেই। একের পর এক এলাকার বাসিন্দাদের সার্ভিস তার চুরির ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার অথবা প্রশাসনের এ বিষয়ে তেমন কোনো ভূমিকা দেখছি না।

১০ দিন আগে নিজ বাসভবনের সার্ভিস তার চুরির সত্যতা নিশ্চিত করে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, তার চুরির ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে চুরির মামলায় বেশ কয়েকজন গ্রেফতার রয়েছে। এদের বেশিরভাগই মাদকাসক্ত, আমরা এ ঘটনায় ভাঙারি দোকানেও খোঁজ খবর নিচ্ছি, তাদের তথ্য সংগ্রহ করছি। আমাদের কাছে অনেক তথ্যই এসেছে। এসব ব্যাপারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খাঁন বলেন, বরগুনায় জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চোর, ডাকাত এবং মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। তবে সার্ভিস তার চুরির একটি চক্র সক্রিয় হয়েছে, এমন খবর আমাদের নজরে এসেছে। এরই মধ্যে এই চক্রের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবং চক্রের অন্য সদস্যদেরকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।