Dhaka ০৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪০ কেজি ওজন কমিয়ে আলোচনায় অভিনেত্রী

8 / 100 SEO Score

 

৫৬ বছর বয়সি ভারতীয় অভিনেত্রী খুশবু সুন্দর গত পাঁচ বছরে ৪০ কেজিরও বেশি ওজন কমিয়ে আলোচনায় এসেছেন। তবে তিনি কোনো ক্র্যাশ ডায়েট অনুসরণ করে বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে সময় কাটিয়ে এই পরিবর্তন আনেননি। বরং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কিছু পদ্ধতি গ্রহণ করেই তিনি নিজের লক্ষ্যে পৌঁছেছেন।

সম্প্রতি দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া খুশবু সুন্দরকে নিয়ে তার ওজন কমানোর যাত্রা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। অনেকেই মনে করেন, শুধু ডায়েট করলেই ওজন কমানো সম্ভব। কিন্তু স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে তা ধরে রাখার ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

খুশবু সুন্দর বলেন, তিনি মনে করেন সত্যিই ক্ষুধা লাগলেই খাওয়া উচিত। প্রতি কয়েক ঘণ্টা পরপর শুধু কিছু একটা মুখে দেওয়ার জন্য খাওয়া উচিত নয়। শুধু খাওয়ার আনন্দের জন্য বা অভ্যাসবশত খেতে থাকলে খাবারের সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটি বিষয় হলো জাপানিদের সাধারণ খাবার খাওয়ার পদ্ধতি। আমরা সাধারণত কী করি? বড় প্লেটে খাবার নিয়ে খাই। জাপানিরা কী করেন? তারা ছোট বাটি ব্যবহার করেন। ব্যস, এটুকুই। আসলে শরীরের যতটুকু প্রয়োজন, সেটুকুই যথেষ্ট।’

বিজেপি নেত্রী আরও বলেন, জাপানিদের এই পদ্ধতিটি কার্যকর হওয়ার একটি কারণ হলো তারা ছোট পরিমাণে খাবার পরিবেশন করেন। ফলে খাওয়ার পর তারা বুঝতে পারেন যে পেট ভরেছে কি না, নাকি আরও একটু খাবার প্রয়োজন।

খুশবু সুন্দর বলেন, ‘জাপানিরা সাধারণত ৮০ বা ৯০ বছর বয়সেও এই অভ্যাস মেনে চলেন। ব্যস, আমি এই কৌশলটি খুঁজে পেয়েছি। বড় প্লেট থেকে কেন খাব? তাই বাড়িতে আমি নিজের জন্য একটি ছোট প্লেট রাখি।’

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খুশবু সুন্দর জানান, একসময় তার ওজন ৯৮ কেজি হয়ে গিয়েছিল। রাজিনীকান্তের সঙ্গে করা একটি সিনেমা দেখার সময় তিনি নিজেকেই চিনতে পারছিলেন না। সেই সময় তার হাঁটুতেও ব্যথা শুরু হয়েছিল। এরপরই তিনি নিজের ফিটনেস নিয়ে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।

অনেকে হয়তো মনে করতে পারেন, ওজন কমানোর জন্য অভিনেত্রী তার সব প্রিয় খাবার বাদ দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তার প্রিয় খাবার মাটন বিরিয়ানি হওয়ায় তিনি এর পরিমাণ কমিয়ে একটুকরো মাংসের সঙ্গে অল্প পরিমাণ ভাত খেতেন।

তিনি আরও জানান, ওজন কমানোর পুরো সময়জুড়েই তিনি ভারতীয় মিষ্টি ও আইসক্রিম খেয়েছেন, তবে অতিরিক্ত খাননি। তিনি চিনি ও দুধ দেওয়া চাও সবসময় পছন্দ করেন। সেটিও পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিতভাবে নিজের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ করে নিয়েছেন।

খুশবু সুন্দর মনে করেন, মাঝে মাঝে নিজের পছন্দের খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা মেটানোতে কোনো সমস্যা নেই। তবে কখন থামতে হবে এবং কতটা খাওয়া উচিত, সেটি জানা গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: এনডিটিভি

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

5 + 12 =

About Author Information

৪০ কেজি ওজন কমিয়ে আলোচনায় অভিনেত্রী

Update Time : ০৭:০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

৫৬ বছর বয়সি ভারতীয় অভিনেত্রী খুশবু সুন্দর গত পাঁচ বছরে ৪০ কেজিরও বেশি ওজন কমিয়ে আলোচনায় এসেছেন। তবে তিনি কোনো ক্র্যাশ ডায়েট অনুসরণ করে বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে সময় কাটিয়ে এই পরিবর্তন আনেননি। বরং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কিছু পদ্ধতি গ্রহণ করেই তিনি নিজের লক্ষ্যে পৌঁছেছেন।

সম্প্রতি দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া খুশবু সুন্দরকে নিয়ে তার ওজন কমানোর যাত্রা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। অনেকেই মনে করেন, শুধু ডায়েট করলেই ওজন কমানো সম্ভব। কিন্তু স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে তা ধরে রাখার ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

খুশবু সুন্দর বলেন, তিনি মনে করেন সত্যিই ক্ষুধা লাগলেই খাওয়া উচিত। প্রতি কয়েক ঘণ্টা পরপর শুধু কিছু একটা মুখে দেওয়ার জন্য খাওয়া উচিত নয়। শুধু খাওয়ার আনন্দের জন্য বা অভ্যাসবশত খেতে থাকলে খাবারের সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটি বিষয় হলো জাপানিদের সাধারণ খাবার খাওয়ার পদ্ধতি। আমরা সাধারণত কী করি? বড় প্লেটে খাবার নিয়ে খাই। জাপানিরা কী করেন? তারা ছোট বাটি ব্যবহার করেন। ব্যস, এটুকুই। আসলে শরীরের যতটুকু প্রয়োজন, সেটুকুই যথেষ্ট।’

বিজেপি নেত্রী আরও বলেন, জাপানিদের এই পদ্ধতিটি কার্যকর হওয়ার একটি কারণ হলো তারা ছোট পরিমাণে খাবার পরিবেশন করেন। ফলে খাওয়ার পর তারা বুঝতে পারেন যে পেট ভরেছে কি না, নাকি আরও একটু খাবার প্রয়োজন।

খুশবু সুন্দর বলেন, ‘জাপানিরা সাধারণত ৮০ বা ৯০ বছর বয়সেও এই অভ্যাস মেনে চলেন। ব্যস, আমি এই কৌশলটি খুঁজে পেয়েছি। বড় প্লেট থেকে কেন খাব? তাই বাড়িতে আমি নিজের জন্য একটি ছোট প্লেট রাখি।’

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খুশবু সুন্দর জানান, একসময় তার ওজন ৯৮ কেজি হয়ে গিয়েছিল। রাজিনীকান্তের সঙ্গে করা একটি সিনেমা দেখার সময় তিনি নিজেকেই চিনতে পারছিলেন না। সেই সময় তার হাঁটুতেও ব্যথা শুরু হয়েছিল। এরপরই তিনি নিজের ফিটনেস নিয়ে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।

অনেকে হয়তো মনে করতে পারেন, ওজন কমানোর জন্য অভিনেত্রী তার সব প্রিয় খাবার বাদ দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তার প্রিয় খাবার মাটন বিরিয়ানি হওয়ায় তিনি এর পরিমাণ কমিয়ে একটুকরো মাংসের সঙ্গে অল্প পরিমাণ ভাত খেতেন।

তিনি আরও জানান, ওজন কমানোর পুরো সময়জুড়েই তিনি ভারতীয় মিষ্টি ও আইসক্রিম খেয়েছেন, তবে অতিরিক্ত খাননি। তিনি চিনি ও দুধ দেওয়া চাও সবসময় পছন্দ করেন। সেটিও পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিতভাবে নিজের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ করে নিয়েছেন।

খুশবু সুন্দর মনে করেন, মাঝে মাঝে নিজের পছন্দের খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা মেটানোতে কোনো সমস্যা নেই। তবে কখন থামতে হবে এবং কতটা খাওয়া উচিত, সেটি জানা গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: এনডিটিভি