Dhaka ০৭:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০৩০ লক্ষ্য নিয়ে রেলের রোডম্যাপ দাউদকান্দিতে চালবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ৭ শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ প্ল্যাকার্ডে ভিন্ন বার্তা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হরমুজ পার করলো চীনা জাহাজ শুরু বৈশাখী শোভাযাত্রা, চারুকলা থেকে বর্ণিল আয়োজনে মানুষের ঢল ইরানি নারী ফুটবল দলের অধিনায়কের বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফেরত দিচ্ছে সরকার আজও সাতসকালে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ঢাকার বাতাস রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ: ‘জাগো আলোক-লগ্নে’ গানে নববর্ষের সূচনা টাঙ্গাইলে আজ ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী বৈশাখী শোভাযাত্রা ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কড়া নিরাপত্তা

৫৯ ঋণখেলাপি, ব্যাংক ডাকাতদের বগলের নিচে রেখে করবেন দুর্নীতি দমন?

12 / 100 SEO Score

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। ভোটের প্রচারণায় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা একে অপরকে নানাভাবে সমালোচনা করছেন। আজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, যে ৫৯ জন ভয়াবহ ঋণ খেলাপি, ব্যাংক ডাকাত– এদেরকে আপনারা মনোনয়ন দিলেন কেন? তাদের বগলের নিচে আশ্রয় দিয়ে, এমপি বানিয়ে আপনারা (বিএনপি) করবেন দুর্নীতি দমন?

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।

বিএনপির নাম উল্লেখ না করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটি দল আছে, তারা মাঝে মধ্যে বলেন, তারা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। ভালো কথা, ভালো কাজ নিজের ঘর থেকে শুরু করা লাগে। কিন্তু যে ৫৯ জন ভয়াবহ ঋণখেলাপি ও ব্যাংক ডাকাত, এদেরকে আপনারা মনোনয়ন দিলেন কেন? তাদেরকে বগলের নিচে আশ্রয় দিয়ে এমপি বানিয়ে আপনারা করবেন দুর্নীতি দমন? এগুলো শুনলে প্যাঁচাও হাসবে, জনগণ এগুলো বোঝে।’

জামায়াত আমির তার বক্তব্যে ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের গণ-আকাঙ্ক্ষার তুলনা করেন। তিনি বলেন, ২৪-এ যুবসমাজের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। ৩৬ জুলাই অর্থাৎ ৫ আগস্ট এই জাতি ‘আওয়ামী জাহেলিয়াত’ থেকে মুক্তি পায়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ৬ আগস্ট সকাল থেকেই একটি অংশ আবারও চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলাবাজিতে লিপ্ত হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মজলুম ছিলেন, জালিম হবেন না। কেন এখন মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন?’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা এখন জিম্মি। যারা সাড়ে ১৫ বছর দেশের বাইরে নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলেন, তারা ফিরে এসে এখন খুনের মামলা দিয়ে শত শত কোটি টাকা দাবি করছেন। আগস্টের ৬ তারিখ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এই অপকর্ম থামেনি। এমনকি ফুটপাতের ভিক্ষুকের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা কি এজন্য লড়াই করেছিলাম যে, পুরাতন চাঁদাবাজের বোতলে নতুন চাঁদাবাজের জন্ম হবে?’

ঢাকা-১১ আসনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রক্তের ঋণ শোধ করার দিন। তরুণ সমাজ জানিয়ে দিয়েছে তারা পুরোনো বস্তাপচা রাজনীতি আর চায় না। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে দায়িত্ব দিতে চাই। বেকার ভাতা দিয়ে আমরা যুবসমাজকে অপমান করতে চাই না। আমরা চাই কর্মসংস্থান।’

১০ টাকা কেজি চালের প্রতিশ্রুতিকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে তিনি বর্তমানের বিভিন্ন ‘কার্ড’ প্রথাকেও লাল কার্ড দেখানোর আহ্বান জানান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ইনসাফের সরকার কায়েম হলে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী– কারও জন্যই আইনের ঊর্ধ্বে কোনো ছাড় থাকবে না। লুণ্ঠিত অর্থ বিদেশে পাচারকারীদের কাছ থেকে ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক লড়াই চালানোর ঘোষণা দেন তিনি।

জনসভায় জামায়াত আমির ঘোষণা করেন, জনগণ যদি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে রায় দেয়, তাহলে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা নাহিদ ইসলামের মতো তরুণদের পাইলট হিসেবে বসিয়ে নিজেরা পেছনের সিটে প্যাসেঞ্জার হয়ে বসব। যুবকরা আমাদের হতাশ করবে না।’

জনসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এই জনসভায় এনসিপি ও জামায়াত সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৫৯ ঋণখেলাপি, ব্যাংক ডাকাতদের বগলের নিচে রেখে করবেন দুর্নীতি দমন?

Update Time : ০৩:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
12 / 100 SEO Score

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। ভোটের প্রচারণায় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা একে অপরকে নানাভাবে সমালোচনা করছেন। আজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, যে ৫৯ জন ভয়াবহ ঋণ খেলাপি, ব্যাংক ডাকাত– এদেরকে আপনারা মনোনয়ন দিলেন কেন? তাদের বগলের নিচে আশ্রয় দিয়ে, এমপি বানিয়ে আপনারা (বিএনপি) করবেন দুর্নীতি দমন?

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।

বিএনপির নাম উল্লেখ না করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটি দল আছে, তারা মাঝে মধ্যে বলেন, তারা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। ভালো কথা, ভালো কাজ নিজের ঘর থেকে শুরু করা লাগে। কিন্তু যে ৫৯ জন ভয়াবহ ঋণখেলাপি ও ব্যাংক ডাকাত, এদেরকে আপনারা মনোনয়ন দিলেন কেন? তাদেরকে বগলের নিচে আশ্রয় দিয়ে এমপি বানিয়ে আপনারা করবেন দুর্নীতি দমন? এগুলো শুনলে প্যাঁচাও হাসবে, জনগণ এগুলো বোঝে।’

জামায়াত আমির তার বক্তব্যে ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের গণ-আকাঙ্ক্ষার তুলনা করেন। তিনি বলেন, ২৪-এ যুবসমাজের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। ৩৬ জুলাই অর্থাৎ ৫ আগস্ট এই জাতি ‘আওয়ামী জাহেলিয়াত’ থেকে মুক্তি পায়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ৬ আগস্ট সকাল থেকেই একটি অংশ আবারও চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলাবাজিতে লিপ্ত হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মজলুম ছিলেন, জালিম হবেন না। কেন এখন মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন?’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা এখন জিম্মি। যারা সাড়ে ১৫ বছর দেশের বাইরে নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলেন, তারা ফিরে এসে এখন খুনের মামলা দিয়ে শত শত কোটি টাকা দাবি করছেন। আগস্টের ৬ তারিখ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এই অপকর্ম থামেনি। এমনকি ফুটপাতের ভিক্ষুকের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা কি এজন্য লড়াই করেছিলাম যে, পুরাতন চাঁদাবাজের বোতলে নতুন চাঁদাবাজের জন্ম হবে?’

ঢাকা-১১ আসনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রক্তের ঋণ শোধ করার দিন। তরুণ সমাজ জানিয়ে দিয়েছে তারা পুরোনো বস্তাপচা রাজনীতি আর চায় না। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে দায়িত্ব দিতে চাই। বেকার ভাতা দিয়ে আমরা যুবসমাজকে অপমান করতে চাই না। আমরা চাই কর্মসংস্থান।’

১০ টাকা কেজি চালের প্রতিশ্রুতিকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে তিনি বর্তমানের বিভিন্ন ‘কার্ড’ প্রথাকেও লাল কার্ড দেখানোর আহ্বান জানান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ইনসাফের সরকার কায়েম হলে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী– কারও জন্যই আইনের ঊর্ধ্বে কোনো ছাড় থাকবে না। লুণ্ঠিত অর্থ বিদেশে পাচারকারীদের কাছ থেকে ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক লড়াই চালানোর ঘোষণা দেন তিনি।

জনসভায় জামায়াত আমির ঘোষণা করেন, জনগণ যদি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে রায় দেয়, তাহলে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা নাহিদ ইসলামের মতো তরুণদের পাইলট হিসেবে বসিয়ে নিজেরা পেছনের সিটে প্যাসেঞ্জার হয়ে বসব। যুবকরা আমাদের হতাশ করবে না।’

জনসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এই জনসভায় এনসিপি ও জামায়াত সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।