Dhaka ১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পৈতৃক বাড়িতে মসজিদ গড়ছেন ববিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা জীবনের শেষ অধ্যায়ে মানুষের কল্যাণে স্মরণীয় একটি কাজ করে যেতে চান। সেই ভাবনা থেকেই যশোরে নিজের পৈতৃক বাড়িতে একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি বড় বোন সুচন্দা ও ছোট বোন চম্পাকে সঙ্গে নিয়ে যশোরের বিজয়নগরে অবস্থিত তাদের দাদাবাড়ি পরিদর্শনে যান ববিতা। শৈশবের নানা স্মৃতিবিজড়িত সেই সফরে তিনি মসজিদ নির্মাণের জন্য উপযুক্ত স্থানও চূড়ান্ত করে এসেছেন বলে জানিয়েছেন।

গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ববিতা বলেন, ‘দাদাবাড়িতে গিয়ে মসজিদের জন্য জমি দেখে এসেছি এবং জায়গাটি চূড়ান্ত করেছি। এতে আমার ভীষণ ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে, আল্লাহ আমাকে একটি ভালো কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি খুব সুন্দর একটি মসজিদ নির্মাণ করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবীতে কেউ চিরদিন থাকে না। জন্ম হয়েছে, একদিন মৃত্যুও আসবে। তাই চলে যাওয়ার আগে এমন একটি কাজ করে যেতে চাই, যা মানুষের উপকারে আসবে। খুব শিগগির মসজিদের নকশা করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে নির্মাণকাজ শুরু করব। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি চলচ্চিত্রের আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী রোজিনা নিজ জেলার পৈতৃক ভিটায় মায়ের নামে একটি ১০ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তুর্কি স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত সেই মসজিদটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের কাছে আকর্ষণীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ববিতার চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৮ সালে জহির রায়হান পরিচালিত ‘সংসার’ চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মাধ্যমে। তখন তার নাম ছিল সুবর্ণা। পরে ‘জ্বলতে সুরুজ কি নিচে’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সময় জহির রায়হানই তার নাম রাখেন ‘ববিতা’, যা পরবর্তীতে তাকে এনে দেয় ব্যাপক পরিচিতি।

নায়িকা হিসেবে তার প্রথম চলচ্চিত্র ছিল ‘শেষ পর্যন্ত’। ফরিদা আক্তার পপি তার প্রকৃত নাম হলেও দর্শকদের কাছে তিনি ববিতা নামেই সমধিক পরিচিত। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অশনি সংকেত’, ‘অনঙ্গ বউ’, ‘আলোর মিছিল’, ‘লাইলী-মজনু’, ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দহন’ এবং ‘দীপু নাম্বার টু’।

বাংলাদেশে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার চালুর পর টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করে বিরল কৃতিত্ব গড়েন ববিতা। চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৬ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

পৈতৃক বাড়িতে মসজিদ গড়ছেন ববিতা

Update Time : ০৩:২৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা জীবনের শেষ অধ্যায়ে মানুষের কল্যাণে স্মরণীয় একটি কাজ করে যেতে চান। সেই ভাবনা থেকেই যশোরে নিজের পৈতৃক বাড়িতে একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি বড় বোন সুচন্দা ও ছোট বোন চম্পাকে সঙ্গে নিয়ে যশোরের বিজয়নগরে অবস্থিত তাদের দাদাবাড়ি পরিদর্শনে যান ববিতা। শৈশবের নানা স্মৃতিবিজড়িত সেই সফরে তিনি মসজিদ নির্মাণের জন্য উপযুক্ত স্থানও চূড়ান্ত করে এসেছেন বলে জানিয়েছেন।

গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ববিতা বলেন, ‘দাদাবাড়িতে গিয়ে মসজিদের জন্য জমি দেখে এসেছি এবং জায়গাটি চূড়ান্ত করেছি। এতে আমার ভীষণ ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে, আল্লাহ আমাকে একটি ভালো কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি খুব সুন্দর একটি মসজিদ নির্মাণ করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবীতে কেউ চিরদিন থাকে না। জন্ম হয়েছে, একদিন মৃত্যুও আসবে। তাই চলে যাওয়ার আগে এমন একটি কাজ করে যেতে চাই, যা মানুষের উপকারে আসবে। খুব শিগগির মসজিদের নকশা করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে নির্মাণকাজ শুরু করব। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি চলচ্চিত্রের আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী রোজিনা নিজ জেলার পৈতৃক ভিটায় মায়ের নামে একটি ১০ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তুর্কি স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত সেই মসজিদটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের কাছে আকর্ষণীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ববিতার চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৮ সালে জহির রায়হান পরিচালিত ‘সংসার’ চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মাধ্যমে। তখন তার নাম ছিল সুবর্ণা। পরে ‘জ্বলতে সুরুজ কি নিচে’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সময় জহির রায়হানই তার নাম রাখেন ‘ববিতা’, যা পরবর্তীতে তাকে এনে দেয় ব্যাপক পরিচিতি।

নায়িকা হিসেবে তার প্রথম চলচ্চিত্র ছিল ‘শেষ পর্যন্ত’। ফরিদা আক্তার পপি তার প্রকৃত নাম হলেও দর্শকদের কাছে তিনি ববিতা নামেই সমধিক পরিচিত। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অশনি সংকেত’, ‘অনঙ্গ বউ’, ‘আলোর মিছিল’, ‘লাইলী-মজনু’, ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দহন’ এবং ‘দীপু নাম্বার টু’।

বাংলাদেশে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার চালুর পর টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করে বিরল কৃতিত্ব গড়েন ববিতা। চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৬ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন।