Dhaka ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাতেই বিপৎসীমা ছুঁতে পারে তিস্তা

জেলা প্রতিনিধি
12 / 100 SEO Score

 

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গাইবান্ধায় তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে রাতেই তিস্তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গেল ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৩১ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৪১ সেন্টিমিটার ও করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জের চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চলমান বন্যার মৌসুমে পানি কম-বেশির দোলাচল হলেও গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানিই এখনও বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট নদ-নদী এলাকার স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গাইবান্ধার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে চলছে ভাঙন। কোথাও কোথাও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

নতুন করে ভাঙনের কবলে পড়েছে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী ভূষির ভিটা গ্রাম। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই রাতে হঠাৎ জিও ব্যাগ ধসে পড়ে ভাঙন দেখা দেয়। সেখানে তিন স্থানে এক জায়গায় প্রায় ৫০ মিটার, আরেক জায়গায় ৩০ মিটার এবং আরেক স্থানে ২০ মিটার মিটার করে দেবে যায়। এই ধসে যাওয়া তিন স্থানের দুটি সরাসরি সাধারণ মানুষের বসবাসের এলাকা। যেখানে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা।

এছাড়া নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে গোবিন্দগঞ্জের করতোয়ার তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায়।

ফুলছড়ির ভূষির ভিটার স্থানীয় বাসিন্দা ও রেজিষ্ট্র অফিসের মুহুরি শজিদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সেদিন রাতে হঠাৎ করে জিও ব্যাগ ধসে যায়। ফলে একেবারে নদীর কিনারার বাসিন্দা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এখানে স্থায়ীভাবে ব্লক বসানো জরুরি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধির ফলে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জে উপজেলার নদী তীরবর্তী অন্তত আট শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদী পাড়ের মানুষ।

ভাঙন কবলিত এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার গ্রামের শখের বাজার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী, রাঘব, চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর সীচা, কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার, কেরানির চর, মিন্টু মিয়ার চর ও বাদামের চর।

অন্যদিকে, সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের সিধাইল ও ফুলছড়ি উপজেলার ভাঙন কবলিত এলাকার মধ্যে রয়েছে- কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট, দক্ষিণ রসুলপুর, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, ফজলুপুর ইউনিয়নের মধ্য ও দক্ষিণ খাটিয়ামারীর চর ও চর চৌমোহন।

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উপজেলার ভাঙনের কবলে পড়া প্রত্যেকটি এলাকা সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুসারে পাউবোকে অবহিত করে দ্রুতভাবে কাজ করতে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

রাতেই বিপৎসীমা ছুঁতে পারে তিস্তা

Update Time : ০৮:২৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গাইবান্ধায় তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে রাতেই তিস্তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গেল ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৩১ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৪১ সেন্টিমিটার ও করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জের চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চলমান বন্যার মৌসুমে পানি কম-বেশির দোলাচল হলেও গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানিই এখনও বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট নদ-নদী এলাকার স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গাইবান্ধার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে চলছে ভাঙন। কোথাও কোথাও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

নতুন করে ভাঙনের কবলে পড়েছে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী ভূষির ভিটা গ্রাম। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই রাতে হঠাৎ জিও ব্যাগ ধসে পড়ে ভাঙন দেখা দেয়। সেখানে তিন স্থানে এক জায়গায় প্রায় ৫০ মিটার, আরেক জায়গায় ৩০ মিটার এবং আরেক স্থানে ২০ মিটার মিটার করে দেবে যায়। এই ধসে যাওয়া তিন স্থানের দুটি সরাসরি সাধারণ মানুষের বসবাসের এলাকা। যেখানে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা।

এছাড়া নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে গোবিন্দগঞ্জের করতোয়ার তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায়।

ফুলছড়ির ভূষির ভিটার স্থানীয় বাসিন্দা ও রেজিষ্ট্র অফিসের মুহুরি শজিদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সেদিন রাতে হঠাৎ করে জিও ব্যাগ ধসে যায়। ফলে একেবারে নদীর কিনারার বাসিন্দা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এখানে স্থায়ীভাবে ব্লক বসানো জরুরি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধির ফলে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জে উপজেলার নদী তীরবর্তী অন্তত আট শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদী পাড়ের মানুষ।

ভাঙন কবলিত এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার গ্রামের শখের বাজার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী, রাঘব, চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর সীচা, কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার, কেরানির চর, মিন্টু মিয়ার চর ও বাদামের চর।

অন্যদিকে, সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের সিধাইল ও ফুলছড়ি উপজেলার ভাঙন কবলিত এলাকার মধ্যে রয়েছে- কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট, দক্ষিণ রসুলপুর, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, ফজলুপুর ইউনিয়নের মধ্য ও দক্ষিণ খাটিয়ামারীর চর ও চর চৌমোহন।

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উপজেলার ভাঙনের কবলে পড়া প্রত্যেকটি এলাকা সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুসারে পাউবোকে অবহিত করে দ্রুতভাবে কাজ করতে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।