লিমন ও বৃষ্টির স্মরণে কবিতা: কফিনে বন্দি টুকরো দেহ
সাহিত্য ডেস্ক
আমি এক ক্ষত-বিক্ষত দেহাংশ
শেষবারের মতো আমায় দেখতে এসো না।
যে হৃদয়ে একদিন স্বপ্নের আলো ছিল
আজ সেখানে জমেছে রক্তের কালচে ছায়া
প্রিয় আপনজনও চমকে উঠবে আমাকে দেখে—
ভয়ে, শোকে কিংবা অসহায়ত্বে ফিরিয়ে নেবে চোখ।
জল্লাদের ধারালো ছুরিতে
ছিন্নভিন্ন হয়েছে আমার প্রতিটি অঙ্গ
ভেঙে গেছে পরিচিত অবয়বের আয়না
কত নিষ্ঠুর আঘাতে থেমে গেছে শ্বাস
কত নির্মম রাতে নিভে গেছে জীবনের প্রদীপ
তা আর কেউ জানে না, এমনকি জানতেও পারবে না।
একসময় আমিও মানুষ ছিলাম
হাসতাম, কাঁদতাম, স্বপ্ন দেখতাম
কাউকে ভালোবেসে বুকের ভেতর
গোপনে সাজাতাম রঙিন আগামী
আজ সেই স্বপ্নগুলোও মৃত
আমার নিথর দেহের মতো…
এখন আমি শুধু এক নামহীন লাশ
কফিনের পেরেকে বন্দি এক স্তব্ধ আর্তনাদ।
চারপাশে নীরবতা, তবুও শুনি কান্নার শব্দ—
হয়তো মায়ের কিংবা কোনো প্রিয় মানুষের
যে এখনো বিশ্বাস করতে পারেনি–
আমি আর ফিরবো না।
আমার জন্য ফুল রেখো না
শোকের দীর্ঘ মিছিলও চাই না
শুধু কফিনের ঢাকনাটা বন্ধ করে দিও ধীরে
যেন শেষ নিঃশ্বাসের আর্তনাদ
বাইরে বেরিয়ে না আসে।
আবদ্ধ করেই রেখে দাও আমার লাশ—
কারণ এই পৃথিবী জীবিত অবস্থায়ও আমাকে
কখনো সত্যিকারভাবে আপন করে নেয়নি।





















