Dhaka ১১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুশিয়ারার পানিতে প্লাবিত সুনামগঞ্জের ২০ গ্রাম

জেলা প্রতিনিধি
12 / 100 SEO Score

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, আর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কুশিয়ারা নদীর মারকুলি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রানীগঞ্জ বাজারে হাঁটু পানি জমে যায়। পাশাপাশি রানীগঞ্জ ও পাইলগাঁও ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর, খানপুর, আলীপুর, নতুন কসবা, কাতিয়া, পাইলগাঁও, আলাগদিসহ রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রানীগঞ্জ বাজার, কদরপাড়া এবং আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। এতে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ লক্ষাধিক মানুষ।

এদিকে পাইলগাঁও ইউনিয়নের বাংলা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে যাওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিপাকে পড়েছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন বলেন, বাজারে এখন হাঁটু পানি। প্রতিবছরই কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়লে বাজারের ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নজমুদ্দিন বলেন, কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধিতে জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ ডুবে যাওয়ায় যান চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক এবং নিম্নাঞ্চলের কয়েক এলাকায় পানি উঠেছে।

রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম বলেন, কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রানীগঞ্জ বাজারের একাংশ প্লাবিত হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম বলেন, বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় বিকল্প হিসেবে পাশের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অস্থায়ীভাবে পাঠদান চালানো হচ্ছে। বিষয়টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রয়েছে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

কুশিয়ারার পানিতে প্লাবিত সুনামগঞ্জের ২০ গ্রাম

Update Time : ০৪:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
12 / 100 SEO Score

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, আর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কুশিয়ারা নদীর মারকুলি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রানীগঞ্জ বাজারে হাঁটু পানি জমে যায়। পাশাপাশি রানীগঞ্জ ও পাইলগাঁও ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর, খানপুর, আলীপুর, নতুন কসবা, কাতিয়া, পাইলগাঁও, আলাগদিসহ রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রানীগঞ্জ বাজার, কদরপাড়া এবং আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। এতে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ লক্ষাধিক মানুষ।

এদিকে পাইলগাঁও ইউনিয়নের বাংলা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে যাওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিপাকে পড়েছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন বলেন, বাজারে এখন হাঁটু পানি। প্রতিবছরই কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়লে বাজারের ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নজমুদ্দিন বলেন, কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধিতে জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ ডুবে যাওয়ায় যান চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক এবং নিম্নাঞ্চলের কয়েক এলাকায় পানি উঠেছে।

রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম বলেন, কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রানীগঞ্জ বাজারের একাংশ প্লাবিত হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম বলেন, বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় বিকল্প হিসেবে পাশের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অস্থায়ীভাবে পাঠদান চালানো হচ্ছে। বিষয়টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রয়েছে।