Dhaka ০৭:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোরবানির চামড়ায় লোকসানের শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

সরকার নির্ধারিত দাম থাকলেও কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রিতে কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ী ও কোরবানিদাতারা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত বছরের তুলনায় কম দামে চামড়া বিক্রি হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে লোকসানের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত বছরের তুলনায় প্রতি পিসে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম দাম পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে ছাগলের চামড়া কিনতেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহার দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

চামড়ার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার দাম বাড়ালেও তারা ট্যানারির মালিকদের কাছে সে দামে বিক্রির আশ্বাস পাননি। ট্যানারির মালিকেরা গত বছরের তুলনায় দাম কম বলেছেন। এ কারণে তারা দাম কমিয়ে চামড়া কিনছেন।

তবে ট্যানারির মালিকদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার দাম কমেনি, বরং প্রতি পিসে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি আছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করছে বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। পরে এসব চামড়া কিনে নেন আড়তদার ও ট্যানারির প্রতিনিধিরা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়- বিভিন্ন মসজিদ, এতিমখানা ও স্থানীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে সংগ্রহ করা চামড়া রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। অনেকেই ক্রেতার অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আছেন। তবে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিক্রেতারা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতিবছর লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়। ১৩ মে খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করে চামড়া দাম নির্ধারণ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এবার ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।

সাধারণত বড় আকারের গরুর চামড়া ৩১ থেকে ৪০ বর্গফুট, মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ২১ থেকে ৩০ এবং ছোট আকারের গরুর চামড়া ১৬ থেকে ২০ বর্গফুটের হয়।

সে হিসাবে লবণযুক্ত ছোট আকারের এক পিস চামড়ার দাম ৯৯০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আর মাঝারি আকারের লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা এবং বড় আকারের লবণযুক্ত গরুর চামড়া ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

সরকার লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও কোরবানি ঈদের দু-তিন দিন ব্যবসায়ীরা সাধারণত কাঁচা চামড়া কিনে থাকেন। একেকটি কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে লবণ ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ খরচ পড়ে যায় গড়ে ৩৫০ টাকা।

সে হিসাবে ঢাকায় ছোট আকারের কাঁচা চামড়া ৬৫০ থেকে ৮৫০ টাকা, মাঝারি আকারের কাঁচা চামড়া ৯৫০ থেকে দেড় হাজার টাকা ও বড় আকারের চামড়া ১ হাজার ৫৫০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ছোট আকারের কাঁচা চামড়া ২৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে কেনাবেচা হয়েছে। মাঝারি আকারের চামড়া ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং বড় আকারের কাঁচা চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তবে বেশির ভাগই ছিল মাঝারি আকারের চামড়া।

গত বছর একই ধরনের চামড়ার দাম ছিল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে এবার প্রতি পিস ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকায়। গত দুই বছরও ছাগলের চামড়ার এমন দাম ছিল।

চামড়া ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, ট্যানারি পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব, সংরক্ষণ সংকট ও নগদ অর্থের ঘাটতির কারণে প্রতিবছরের মতো এবারও মাঠপর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দামের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কোরবানির চামড়ায় লোকসানের শঙ্কা

Update Time : ০৬:৫৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

সরকার নির্ধারিত দাম থাকলেও কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রিতে কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ী ও কোরবানিদাতারা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত বছরের তুলনায় কম দামে চামড়া বিক্রি হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে লোকসানের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত বছরের তুলনায় প্রতি পিসে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম দাম পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে ছাগলের চামড়া কিনতেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহার দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

চামড়ার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার দাম বাড়ালেও তারা ট্যানারির মালিকদের কাছে সে দামে বিক্রির আশ্বাস পাননি। ট্যানারির মালিকেরা গত বছরের তুলনায় দাম কম বলেছেন। এ কারণে তারা দাম কমিয়ে চামড়া কিনছেন।

তবে ট্যানারির মালিকদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার দাম কমেনি, বরং প্রতি পিসে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি আছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করছে বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। পরে এসব চামড়া কিনে নেন আড়তদার ও ট্যানারির প্রতিনিধিরা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়- বিভিন্ন মসজিদ, এতিমখানা ও স্থানীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে সংগ্রহ করা চামড়া রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। অনেকেই ক্রেতার অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আছেন। তবে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিক্রেতারা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতিবছর লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়। ১৩ মে খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করে চামড়া দাম নির্ধারণ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এবার ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।

সাধারণত বড় আকারের গরুর চামড়া ৩১ থেকে ৪০ বর্গফুট, মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ২১ থেকে ৩০ এবং ছোট আকারের গরুর চামড়া ১৬ থেকে ২০ বর্গফুটের হয়।

সে হিসাবে লবণযুক্ত ছোট আকারের এক পিস চামড়ার দাম ৯৯০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আর মাঝারি আকারের লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা এবং বড় আকারের লবণযুক্ত গরুর চামড়া ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

সরকার লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও কোরবানি ঈদের দু-তিন দিন ব্যবসায়ীরা সাধারণত কাঁচা চামড়া কিনে থাকেন। একেকটি কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে লবণ ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ খরচ পড়ে যায় গড়ে ৩৫০ টাকা।

সে হিসাবে ঢাকায় ছোট আকারের কাঁচা চামড়া ৬৫০ থেকে ৮৫০ টাকা, মাঝারি আকারের কাঁচা চামড়া ৯৫০ থেকে দেড় হাজার টাকা ও বড় আকারের চামড়া ১ হাজার ৫৫০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ছোট আকারের কাঁচা চামড়া ২৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে কেনাবেচা হয়েছে। মাঝারি আকারের চামড়া ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং বড় আকারের কাঁচা চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তবে বেশির ভাগই ছিল মাঝারি আকারের চামড়া।

গত বছর একই ধরনের চামড়ার দাম ছিল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে এবার প্রতি পিস ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকায়। গত দুই বছরও ছাগলের চামড়ার এমন দাম ছিল।

চামড়া ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, ট্যানারি পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব, সংরক্ষণ সংকট ও নগদ অর্থের ঘাটতির কারণে প্রতিবছরের মতো এবারও মাঠপর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দামের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।