Dhaka ০৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৪ বাংলাদেশি আহত

8 / 100 SEO Score

 

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন। এই হামলায় গুরুতর আহতদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। আহতদের সার্বিক তালিকায় নারী ও শিশুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ এলাকার একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে এই হামলা চালানো হয়।

বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোমিন মিয়া এবং অন্যজন নরসিংদীর জয়েনা আক্তার। ভয়াবহ এই বিস্ফোরণে জয়েনা আক্তারের একটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে নাবাতিহ এলাকার রাগেব হার্ব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং শুক্রবার তাদের সাইদায় স্থানান্তর করার কথা রয়েছে। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ আহত বাকি বাংলাদেশিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে চালানো ইসরায়েলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন সদস্য রয়েছেন। তারা ভোরে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আদলুন মহাসড়ক দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ইসরায়েলি ড্রোন হামলার শিকার হন। উল্লেখ্য, এই আদলুন মহাসড়কটি সাইদা ও টাইর শহরের সংযোগ সড়ক হিসেবে পরিচিত। ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, সড়ক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়েছে।

এ ছাড়া দীর্ঘ তিন সপ্তাহ পর প্রথমবারের মতো দক্ষিণ বৈরুতেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। সেখানকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে চালানো ওই হামলাকে ইসরায়েলি গণমাধ্যম মূলত একটি ‘হত্যাচেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছে। তবে এই অভিযানের বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। দক্ষিণ বৈরুতে হিজবুল্লাহর শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে এবং এর আগে যুক্তরাষ্ট্র বৈরুত রাজধানীতে হামলা না চালানোর জন্য ইসরায়েলকে চাপ দিয়েছিল বলে জানা গেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, নতুন করে শুরু হওয়া এই হামলাগুলো চলমান শান্তি আলোচনাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

লেবাননের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, নাবাতিহ এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় তাদের একজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এর বাইরে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণ লেবানন ও পশ্চিম বেকা উপত্যকায় আরও কয়েকজন লেবানিজ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য নতুন করে এলাকা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে ইসরায়েল। টাইর ও তার আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে জাহরানি নদীর উত্তরে সরে যেতে বলা হয়েছে, যা লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৪ বাংলাদেশি আহত

Update Time : ০৪:৫১:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন। এই হামলায় গুরুতর আহতদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। আহতদের সার্বিক তালিকায় নারী ও শিশুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ এলাকার একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে এই হামলা চালানো হয়।

বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোমিন মিয়া এবং অন্যজন নরসিংদীর জয়েনা আক্তার। ভয়াবহ এই বিস্ফোরণে জয়েনা আক্তারের একটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে নাবাতিহ এলাকার রাগেব হার্ব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং শুক্রবার তাদের সাইদায় স্থানান্তর করার কথা রয়েছে। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ আহত বাকি বাংলাদেশিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে চালানো ইসরায়েলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন সদস্য রয়েছেন। তারা ভোরে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আদলুন মহাসড়ক দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ইসরায়েলি ড্রোন হামলার শিকার হন। উল্লেখ্য, এই আদলুন মহাসড়কটি সাইদা ও টাইর শহরের সংযোগ সড়ক হিসেবে পরিচিত। ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, সড়ক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়েছে।

এ ছাড়া দীর্ঘ তিন সপ্তাহ পর প্রথমবারের মতো দক্ষিণ বৈরুতেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। সেখানকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে চালানো ওই হামলাকে ইসরায়েলি গণমাধ্যম মূলত একটি ‘হত্যাচেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছে। তবে এই অভিযানের বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। দক্ষিণ বৈরুতে হিজবুল্লাহর শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে এবং এর আগে যুক্তরাষ্ট্র বৈরুত রাজধানীতে হামলা না চালানোর জন্য ইসরায়েলকে চাপ দিয়েছিল বলে জানা গেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, নতুন করে শুরু হওয়া এই হামলাগুলো চলমান শান্তি আলোচনাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

লেবাননের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, নাবাতিহ এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় তাদের একজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এর বাইরে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণ লেবানন ও পশ্চিম বেকা উপত্যকায় আরও কয়েকজন লেবানিজ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য নতুন করে এলাকা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে ইসরায়েল। টাইর ও তার আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে জাহরানি নদীর উত্তরে সরে যেতে বলা হয়েছে, যা লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।