Dhaka ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জয়ের গোপন তথ্য ফাঁস

12 / 100 SEO Score

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়–কে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জয়ের ব্যক্তিগত জীবন ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কিছু নথির অংশ প্রকাশ করে নানা প্রশ্ন তুলেছেন।

বুধবার (২০ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডির এক পোস্টে হাসিনাপুত্র জয়ের বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা সামনে আনেন তিনি।

পোস্টে সায়ের লেখেন, সাধারণত যা নিয়ে কাজ করি সে বিষয়ে কিছু লিখিনা, কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে পলাতক স্বৈরাচার হাসিনা ও তার পঙ্গপালের আস্ফালন দেখে ভাবলাম অনেক কিছু যে এখনো জানার বাকি, জানানোর বাকি — সে বিষয়টা ওদের একটু অবহিত করা প্রয়োজন।

একটি নথি শেয়ার করে সায়ের বলেন, যে ডকুমেন্টটি দেখছেন সেটা হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও তার স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের বিবাহ বিচ্ছেদের সেটেলমেন্ট এগ্রিমেন্টের অংশ বিশেষ। ২২ পাতার ওই চুক্তির কেবল দুটি পাতা এখানে প্রকাশ করছি। যার অর্থ দাঁড়ায় সম্পূর্ণ ৩৪৬ পাতার ডকুমেন্টের মাত্র ২টি পাতা এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

সায়ের আরও বলেন, যতটুকু তুলে ধরেছি সেখানে আপনারা দেখেছেন যে সামিট কমিউনিকেশনে হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের মালিকানার পায়তারা চলছে, আদালতের কাছে উভয়পক্ষের স্বাক্ষর করা এই চুক্তিতে জয় তার স্ত্রীকে এককালীন ১ মিলিয়ন ডলার প্রদান করবেন তা উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত প্রতিমাসে ক্রিস্টিনাকে ২০ হাজার ডলার করে প্রদান করবেন এমনটাও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন।

আল জাজিরার এ সাংবাদিক বলেন, যার অর্থ দাঁড়ায় প্রতিবছর সজীব ওয়াজেদ জয় তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বছরে ২ লক্ষ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, ১০ বছরে সর্বমোট ২.৪ মিলিয়ন ডলার (২৪ লাখ ডলার) প্রদান করবেন। এছাড়াও চুক্তিটি স্বাক্ষরের সময় ১ জুন, ২০২৫ এর মধ্যে ট্যাক্স ফ্রি ১ মিলিয়ন ডলার (১০ লক্ষ) প্রদান করবেন বলেও চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

এ অনুসন্ধানী সাংবাদিক বলেন, হাসিনা সরকারের শাসনামলে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হয়েছে যে কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী তাদের মধ্যে সামিট গ্রুপ অন্যতম। আবার হাসিনার পুত্রেরই রয়েছে সামিটের সাথেই ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব? ব্যাপারটা কি চরম স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে গেলো না?

সায়ের বলেন, আর এতসব অর্থই বা জয় সাহেব কীভাবে উপার্জন করলেন? এত এত ট্রাস্টের নেপথ্যে যে অর্থ সেসব কীভাবে সংগ্রহ করা হলো?

পোস্টের শেষে সায়ের বলেন, সম্পূর্ণ ডকুমেন্টটিতে এমন বহু-বহু তথ্য রয়েছে, সেসব যখন সামনে আসবে, তখন শির উঁচু করে প্রত্যাবর্তন খোয়াবের পরিবর্তে, মাথায় একটা লাইনই ঘুরপাক খাবে, আর তা হলো — ধরণী দ্বিধা হও।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জয়ের গোপন তথ্য ফাঁস

Update Time : ০৪:১৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
12 / 100 SEO Score

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়–কে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জয়ের ব্যক্তিগত জীবন ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কিছু নথির অংশ প্রকাশ করে নানা প্রশ্ন তুলেছেন।

বুধবার (২০ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডির এক পোস্টে হাসিনাপুত্র জয়ের বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা সামনে আনেন তিনি।

পোস্টে সায়ের লেখেন, সাধারণত যা নিয়ে কাজ করি সে বিষয়ে কিছু লিখিনা, কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে পলাতক স্বৈরাচার হাসিনা ও তার পঙ্গপালের আস্ফালন দেখে ভাবলাম অনেক কিছু যে এখনো জানার বাকি, জানানোর বাকি — সে বিষয়টা ওদের একটু অবহিত করা প্রয়োজন।

একটি নথি শেয়ার করে সায়ের বলেন, যে ডকুমেন্টটি দেখছেন সেটা হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও তার স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের বিবাহ বিচ্ছেদের সেটেলমেন্ট এগ্রিমেন্টের অংশ বিশেষ। ২২ পাতার ওই চুক্তির কেবল দুটি পাতা এখানে প্রকাশ করছি। যার অর্থ দাঁড়ায় সম্পূর্ণ ৩৪৬ পাতার ডকুমেন্টের মাত্র ২টি পাতা এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

সায়ের আরও বলেন, যতটুকু তুলে ধরেছি সেখানে আপনারা দেখেছেন যে সামিট কমিউনিকেশনে হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের মালিকানার পায়তারা চলছে, আদালতের কাছে উভয়পক্ষের স্বাক্ষর করা এই চুক্তিতে জয় তার স্ত্রীকে এককালীন ১ মিলিয়ন ডলার প্রদান করবেন তা উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত প্রতিমাসে ক্রিস্টিনাকে ২০ হাজার ডলার করে প্রদান করবেন এমনটাও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন।

আল জাজিরার এ সাংবাদিক বলেন, যার অর্থ দাঁড়ায় প্রতিবছর সজীব ওয়াজেদ জয় তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বছরে ২ লক্ষ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, ১০ বছরে সর্বমোট ২.৪ মিলিয়ন ডলার (২৪ লাখ ডলার) প্রদান করবেন। এছাড়াও চুক্তিটি স্বাক্ষরের সময় ১ জুন, ২০২৫ এর মধ্যে ট্যাক্স ফ্রি ১ মিলিয়ন ডলার (১০ লক্ষ) প্রদান করবেন বলেও চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

এ অনুসন্ধানী সাংবাদিক বলেন, হাসিনা সরকারের শাসনামলে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হয়েছে যে কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী তাদের মধ্যে সামিট গ্রুপ অন্যতম। আবার হাসিনার পুত্রেরই রয়েছে সামিটের সাথেই ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব? ব্যাপারটা কি চরম স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে গেলো না?

সায়ের বলেন, আর এতসব অর্থই বা জয় সাহেব কীভাবে উপার্জন করলেন? এত এত ট্রাস্টের নেপথ্যে যে অর্থ সেসব কীভাবে সংগ্রহ করা হলো?

পোস্টের শেষে সায়ের বলেন, সম্পূর্ণ ডকুমেন্টটিতে এমন বহু-বহু তথ্য রয়েছে, সেসব যখন সামনে আসবে, তখন শির উঁচু করে প্রত্যাবর্তন খোয়াবের পরিবর্তে, মাথায় একটা লাইনই ঘুরপাক খাবে, আর তা হলো — ধরণী দ্বিধা হও।