Dhaka ০৭:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন সড়ক উন্নয়নে ১৬ কোটি টাকা চাইল জেলা প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা জোরদারে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক পাকা করার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১৬ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত ২ এপ্রিল পাঠানো ওই চিঠিতে তিনটি সড়ক নির্মাণের কাজ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডকে দিয়ে অর্পিত ক্রয়কাজ (ডিপিএম) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের ভাষ্য, প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর আয়তনের জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রশাসনিক নজরদারি, সন্ত্রাস দমন এবং নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করতে সেখানে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। সে কারণে বিশেষ থোক বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের তথ্যমতে, নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে এলাকাটি বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীরা নারী ও শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করত বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ১৯ জানুয়ারি অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গেলে র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা ও গুলি চালানো হয়। এতে র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত এবং আরও তিন সদস্য আহত হন। এরপর ৯ মার্চ ভোরে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও জেলা প্রশাসনের প্রায় চার হাজার সদস্যের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে এলাকাটি দখলমুক্ত করা হয়। পরে সেখানে স্থায়ী নিরাপত্তার জন্য দুটি যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।

তবে সম্প্রতি গভীর রাতে আলীনগর এলাকায় র‍্যাব ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। একই সঙ্গে বুলডোজার দিয়ে ক্যাম্পের দেয়াল ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। অভিযানে বাধা দিতে অন্তত তিনটি স্থানে রাস্তা কেটে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

এ প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে জেলা প্রশাসন উল্লেখ করেছে, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে নিরাপত্তা ক্যাম্পে খাবার, পানি ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। সড়ক উন্নয়ন হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক হবে।

প্রস্তাবিত তিনটি সড়কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় সোয়া ছয় কিলোমিটার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প বায়েজিদ লিংক রোড থেকে কালা পানিয়া বেতুয়া সড়ক হয়ে হাটহাজারী বাজার লিংক সড়ক পর্যন্ত উন্নয়নকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। এছাড়া জলিল টেক্সটাইল থেকে আলীনগর প্রাইমারি অ্যান্ড হাইস্কুল সড়কের উন্নয়নে প্রায় ৫ কোটি এবং ছিন্নমূল বিদ্যুৎ অফিস থেকে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট এম আর চৌধুরী ফায়ারিং রেঞ্জ সড়কের উন্নয়নে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সড়কগুলো পাকা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সহজ হবে, প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়বে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের যোগাযোগব্যবস্থারও উন্নতি ঘটবে।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

তিন সড়ক উন্নয়নে ১৬ কোটি টাকা চাইল জেলা প্রশাসন

Update Time : ০৫:০৬:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা জোরদারে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক পাকা করার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১৬ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত ২ এপ্রিল পাঠানো ওই চিঠিতে তিনটি সড়ক নির্মাণের কাজ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডকে দিয়ে অর্পিত ক্রয়কাজ (ডিপিএম) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের ভাষ্য, প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর আয়তনের জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রশাসনিক নজরদারি, সন্ত্রাস দমন এবং নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করতে সেখানে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। সে কারণে বিশেষ থোক বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের তথ্যমতে, নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে এলাকাটি বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীরা নারী ও শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করত বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ১৯ জানুয়ারি অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গেলে র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা ও গুলি চালানো হয়। এতে র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত এবং আরও তিন সদস্য আহত হন। এরপর ৯ মার্চ ভোরে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও জেলা প্রশাসনের প্রায় চার হাজার সদস্যের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে এলাকাটি দখলমুক্ত করা হয়। পরে সেখানে স্থায়ী নিরাপত্তার জন্য দুটি যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।

তবে সম্প্রতি গভীর রাতে আলীনগর এলাকায় র‍্যাব ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। একই সঙ্গে বুলডোজার দিয়ে ক্যাম্পের দেয়াল ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। অভিযানে বাধা দিতে অন্তত তিনটি স্থানে রাস্তা কেটে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

এ প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে জেলা প্রশাসন উল্লেখ করেছে, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে নিরাপত্তা ক্যাম্পে খাবার, পানি ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। সড়ক উন্নয়ন হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক হবে।

প্রস্তাবিত তিনটি সড়কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় সোয়া ছয় কিলোমিটার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প বায়েজিদ লিংক রোড থেকে কালা পানিয়া বেতুয়া সড়ক হয়ে হাটহাজারী বাজার লিংক সড়ক পর্যন্ত উন্নয়নকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। এছাড়া জলিল টেক্সটাইল থেকে আলীনগর প্রাইমারি অ্যান্ড হাইস্কুল সড়কের উন্নয়নে প্রায় ৫ কোটি এবং ছিন্নমূল বিদ্যুৎ অফিস থেকে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট এম আর চৌধুরী ফায়ারিং রেঞ্জ সড়কের উন্নয়নে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সড়কগুলো পাকা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সহজ হবে, প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়বে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের যোগাযোগব্যবস্থারও উন্নতি ঘটবে।