Dhaka ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিষেধাজ্ঞার মাঝেও শিরোপা কিংসের

ক্রীড়া প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

একের পর এক সংকট, ফিফার নিষেধাজ্ঞা, বিদেশি ফুটবলারদের বিদ্রোহ আর মাঝপথে কোচ পরিবর্তন—সব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে বসুন্ধরা কিংস।

টানা পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর কিংস গত মৌসুমে মোহামেডানের কাছে ট্রফি হারিয়েছে। চলতি মৌসুমে পেশাদার লিগে সবচেয়ে বেশি ৬ বারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনীকে হারিয়ে নিশ্চিত করেছে ষষ্ঠ শিরোপা।

বসুন্ধরা কিংসের বিগত পাঁচ লিগ শিরোপার সঙ্গে ষষ্ঠ শিরোপার তফাৎ অনেক। আগের শিরোপাগুলো ছিল সময়ের অপেক্ষা– কখন কিংস চ্যাম্পিয়ন হবে! মূলত প্রথম লেগের পরই ৬-৯ পয়েন্ট ব্যবধান থাকায় শিরোপা জিততে কষ্ট হয়নি।

এবার ফর্টিজ যুগ্মভাবে শীর্ষে ছিল, আবার নিজেদের আর্জেন্টাইন কোচকে বিদায় করেছে লিগের মাঝপথে। মৌসুমের শুরু থেকে একের পর এক ফিফা নিষেধাজ্ঞা এসেছে। বেতন না পাওয়ায় বিদ্রোহ করেছিল বিদেশি ফুটবলাররাও। এত সংকটের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কিংস।

২০১৯-২০ মৌসুম থেকে বসুন্ধরা কিংসে খেলছেন তপু বর্মণ। দলটির অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও তার হাতে। অন্য শিরোপার চেয়ে এবারের শিরোপার গুরুত্ব তার কাছে অনেক বেশি, ‘এবার অনেক কঠিন ছিল। একের পর এক জটিলতা এসেছে। এরপরও আমরা মনোবল হারাইনি। পুরো এফোর্ট দিয়ে ক্লাবের জন্য খেলেছি। আমাদের ফোকাস ছিল অটুট, এজন্য আমরা কখনোই শীর্ষস্থান হারাইনি।’

ফিফা থেকে নিষেধাজ্ঞার জন্য মধ্যবর্তী দলবদলে খেলোয়াড় নিবন্ধন করাতে পারেনি কিংস। দ্বিতীয় লেগে বিদেশি ফুটবলাররা প্রাপ্য পারিশ্রমিক না পাওয়ায় বিদ্রোহও করেছেন। একমাত্র ব্রাজিলিয়ান ডরিয়েলন্টন ম্যাচের পর ম্যাচ টেনেছেন। তাই ডরিয়েল্টনের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা তপুর, ‘ডরিয়েল্টন অসাধারণ পারফর্ম করেছে।

আমাদের দেশীয়দের সঙ্গে একাই লড়েছে ডরি। অন্য দলে একাধিক বিদেশি থাকলেও ডরিয়েল্টন একাই সেই অভাব পূরণ করেছে। এই শিরোপার অনেক বড় অবদান ডরিয়েল্টনের। ১৮ গোল করে লিগে সে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন পর্যন্ত।’

বিদেশিরা শুধু বিদ্রোহ করেননি, মৌসুম শুরুর কিছুদিন পরই দুই প্রবাসী ফুটবলার কিউবা মিচেল এবং তারিক কাজী কিংস ছেড়েছেন পারিশ্রমিকের কারণে। সেই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া প্রসঙ্গে তপু বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে মাঠ ও মাঠের বাইরের অনেক বিষয় দেখতে হয়। সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল আমরা লোকাল খেলোয়াড়রা একতাবদ্ধ ছিলাম। যত কঠিন পরিস্থিতিই হোক আমরা ক্লাবের জন্য লড়ে যাব। সেই নিবেদন নিয়ে খেলেছি। এখন আমরা ট্রেবলের সামনে।’

২০০২ সালে মোহামেডান এক মৌসুমে তিনটি চ্যাম্পিয়ন ট্রফি পেয়েছিল। ২০১৩ সালে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র সেই রেকর্ড স্পর্শ করে। এরপর দুই মৌসুম আগে একই কৃতিত্ব অর্জন করে বসুন্ধরা কিংসও। এবার কিংসের সামনে আরেকবার ট্রেবল জয়ের সুযোগ। এজন্য ১৯ মে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে কিংস অ্যারেনায় মোহামেডানকে হারাতে হবে। সেরকম কিছু হলে প্রথম দল হিসেবে দুই বার ট্রেবল জয়ের কৃতিত্ব হবে কিংসের।

আর্জেন্টাইন কোচ গোমেজের সঙ্গে মাঝপথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছিল কিংসের। পরে বায়েজিদ জোবায়ের আলম নিপুর কাঁধে উঠে দায়িত্ব। ঘরোয়া ফুটবলে সিনিয়র এই কোচ গত মৌসুমে ছিলেন কিংসের একাডেমির দায়িত্বে। ক্লাবের সংকটে তাকে আবার পেশাদার কোচিংয়ে ফিরতে হয়েছে। কোচ সংকট থেকে উত্তরণ নিয়ে নিপু বলেন, ‘আর্জেন্টাইন কোচের সময় আমরা বেশ কয়েকটি ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়েছি।

তার পরিবর্তে যখন দায়িত্ব দেওয়া হয় তখন এটা খুব চ্যালেঞ্জ ছিল। আমাদের কোচিং স্টাফ রক্সি, জিলানী ও নয়ন অনেক কষ্ট করেছে। বিশেষ করে জিলানী। ওদের সবার পরিশ্রম আর ফুটবলারদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমরা সফল হয়েছি।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নিষেধাজ্ঞার মাঝেও শিরোপা কিংসের

Update Time : ০৪:২৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

একের পর এক সংকট, ফিফার নিষেধাজ্ঞা, বিদেশি ফুটবলারদের বিদ্রোহ আর মাঝপথে কোচ পরিবর্তন—সব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে বসুন্ধরা কিংস।

টানা পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর কিংস গত মৌসুমে মোহামেডানের কাছে ট্রফি হারিয়েছে। চলতি মৌসুমে পেশাদার লিগে সবচেয়ে বেশি ৬ বারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনীকে হারিয়ে নিশ্চিত করেছে ষষ্ঠ শিরোপা।

বসুন্ধরা কিংসের বিগত পাঁচ লিগ শিরোপার সঙ্গে ষষ্ঠ শিরোপার তফাৎ অনেক। আগের শিরোপাগুলো ছিল সময়ের অপেক্ষা– কখন কিংস চ্যাম্পিয়ন হবে! মূলত প্রথম লেগের পরই ৬-৯ পয়েন্ট ব্যবধান থাকায় শিরোপা জিততে কষ্ট হয়নি।

এবার ফর্টিজ যুগ্মভাবে শীর্ষে ছিল, আবার নিজেদের আর্জেন্টাইন কোচকে বিদায় করেছে লিগের মাঝপথে। মৌসুমের শুরু থেকে একের পর এক ফিফা নিষেধাজ্ঞা এসেছে। বেতন না পাওয়ায় বিদ্রোহ করেছিল বিদেশি ফুটবলাররাও। এত সংকটের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কিংস।

২০১৯-২০ মৌসুম থেকে বসুন্ধরা কিংসে খেলছেন তপু বর্মণ। দলটির অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও তার হাতে। অন্য শিরোপার চেয়ে এবারের শিরোপার গুরুত্ব তার কাছে অনেক বেশি, ‘এবার অনেক কঠিন ছিল। একের পর এক জটিলতা এসেছে। এরপরও আমরা মনোবল হারাইনি। পুরো এফোর্ট দিয়ে ক্লাবের জন্য খেলেছি। আমাদের ফোকাস ছিল অটুট, এজন্য আমরা কখনোই শীর্ষস্থান হারাইনি।’

ফিফা থেকে নিষেধাজ্ঞার জন্য মধ্যবর্তী দলবদলে খেলোয়াড় নিবন্ধন করাতে পারেনি কিংস। দ্বিতীয় লেগে বিদেশি ফুটবলাররা প্রাপ্য পারিশ্রমিক না পাওয়ায় বিদ্রোহও করেছেন। একমাত্র ব্রাজিলিয়ান ডরিয়েলন্টন ম্যাচের পর ম্যাচ টেনেছেন। তাই ডরিয়েল্টনের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা তপুর, ‘ডরিয়েল্টন অসাধারণ পারফর্ম করেছে।

আমাদের দেশীয়দের সঙ্গে একাই লড়েছে ডরি। অন্য দলে একাধিক বিদেশি থাকলেও ডরিয়েল্টন একাই সেই অভাব পূরণ করেছে। এই শিরোপার অনেক বড় অবদান ডরিয়েল্টনের। ১৮ গোল করে লিগে সে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন পর্যন্ত।’

বিদেশিরা শুধু বিদ্রোহ করেননি, মৌসুম শুরুর কিছুদিন পরই দুই প্রবাসী ফুটবলার কিউবা মিচেল এবং তারিক কাজী কিংস ছেড়েছেন পারিশ্রমিকের কারণে। সেই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া প্রসঙ্গে তপু বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে মাঠ ও মাঠের বাইরের অনেক বিষয় দেখতে হয়। সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল আমরা লোকাল খেলোয়াড়রা একতাবদ্ধ ছিলাম। যত কঠিন পরিস্থিতিই হোক আমরা ক্লাবের জন্য লড়ে যাব। সেই নিবেদন নিয়ে খেলেছি। এখন আমরা ট্রেবলের সামনে।’

২০০২ সালে মোহামেডান এক মৌসুমে তিনটি চ্যাম্পিয়ন ট্রফি পেয়েছিল। ২০১৩ সালে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র সেই রেকর্ড স্পর্শ করে। এরপর দুই মৌসুম আগে একই কৃতিত্ব অর্জন করে বসুন্ধরা কিংসও। এবার কিংসের সামনে আরেকবার ট্রেবল জয়ের সুযোগ। এজন্য ১৯ মে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে কিংস অ্যারেনায় মোহামেডানকে হারাতে হবে। সেরকম কিছু হলে প্রথম দল হিসেবে দুই বার ট্রেবল জয়ের কৃতিত্ব হবে কিংসের।

আর্জেন্টাইন কোচ গোমেজের সঙ্গে মাঝপথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছিল কিংসের। পরে বায়েজিদ জোবায়ের আলম নিপুর কাঁধে উঠে দায়িত্ব। ঘরোয়া ফুটবলে সিনিয়র এই কোচ গত মৌসুমে ছিলেন কিংসের একাডেমির দায়িত্বে। ক্লাবের সংকটে তাকে আবার পেশাদার কোচিংয়ে ফিরতে হয়েছে। কোচ সংকট থেকে উত্তরণ নিয়ে নিপু বলেন, ‘আর্জেন্টাইন কোচের সময় আমরা বেশ কয়েকটি ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়েছি।

তার পরিবর্তে যখন দায়িত্ব দেওয়া হয় তখন এটা খুব চ্যালেঞ্জ ছিল। আমাদের কোচিং স্টাফ রক্সি, জিলানী ও নয়ন অনেক কষ্ট করেছে। বিশেষ করে জিলানী। ওদের সবার পরিশ্রম আর ফুটবলারদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমরা সফল হয়েছি।