Dhaka ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বখাটের আঘাতে স্কুলছাত্রী আহত

জেলা প্রতিনিধি
5 / 100 SEO Score

 

বরগুনার বেতাগীতে বখাটের মারধরে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর তিনটি দাঁত ভেঙে গেছে। গতকাল সোমবার বিকেলে চারটার দিকে উপজেলার সড়িষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ছাত্রীকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে হাসপাতালের সহকারী সার্জন চিকিৎসক মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই ছাত্রীকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, তখন তাঁর ওপরের পাটির সামনে অংশের তিনটি দাঁত ছিল না । সে হাসপাতালে ভর্তি আছে। আমাদের সাধ্যমতো চিকিৎসা দিচ্ছি।’
এ ঘটনায় গতকাল রাতে আহত ছাত্রীর মা বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে বেতাগী থানায় মামলা করেছেন। মামলার প্রধান আসামি মো. ফয়সালের (২৩) বাড়ি বিদ্যালয়ের পাশে গাবতলী গ্রামে। পুলিশ তাঁর মা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা দুজন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে ওই ছাত্রী স্কুলের ওয়াশরুমে গেলে ফয়সাল সেখানে উঁকি দেন। মেয়েটি টের পেলে দ্রুত সটকে পড়েন ফয়সাল। এরপর সে ঘটনাটি স্বজনদের জানায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ হয়ে মেয়েটিকে মারধরের হুমকি দেন ফয়সাল। এতে ভয়ে গতকাল সোমবার ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে পাঠাননি তার মা। পরে বাড়িতে গিয়ে তার এক শিক্ষক তাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন
গতকাল বিকেল চারটার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর ওই ছাত্রী বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফয়সাল তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এতে ছাত্রীর মুখের সামনের তিনটি দাঁত ভেঙে যায়। আরও দুটি দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বলেন, ‘ফয়সালের ভয়ে সকালে আমার মেয়েকে ঘরে রেখেছিলাম। আমিও পালিয়ে থেকেছি। পরে একজন শিক্ষক এসে তাকে স্কুলে নিয়ে যায়। স্কুল ছুটির পর ফয়সাল আমার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রথমে হাত ধরে টানাটানি শুরু করে। এতে রাজি না হলে সে চড় ও লাথি দিতে শুরু করে। মুখে লাথি দেওয়ায় আমার মেয়ের তিনটি দাঁত ভেঙে গেছে।’

গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্কুল ছুটির পরে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরছিল। এমন সময় স্কুল প্রাঙ্গণে ফয়সাল ওই ছাত্রীর ওপর হামলা চালায়। ছাত্রীর চিৎকার শুনে দৌড়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। আমরা যাওয়ার আগে সে পালিয়ে যায়।’
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ননী গোপাল মালাকার বলেন, ‘ফয়সালের বাড়ি স্কুলের কাছাকাছি। স্কুল চলাকালীন সে আশপাশে লাঠিসহ কয়েকবার ঘোরাঘুরি করেছে; কিন্তু বিষয়টি আমরা কেউ দেখিনি। ছুটির পর সে স্কুলের বাউন্ডারিতেই ছাত্রীকে মারধর শুরু করে। পরে আমরা পুলিশকে খবর দিই।’

ফয়সাল এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত বলে জানান ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি হেলাল হোসেন। তিনি বলেন, সে (ফয়সাল) লেখাপড়া করে না। তার বাবা ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করেন। তাঁদের বাড়িতে কেউ নেই; তালা দেওয়া।

এ বিষয়ে বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। মামলার দুই ও তিন নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। ফয়সালকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

20 + ten =

About Author Information

বখাটের আঘাতে স্কুলছাত্রী আহত

Update Time : ০৬:৪৭:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
5 / 100 SEO Score

 

বরগুনার বেতাগীতে বখাটের মারধরে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর তিনটি দাঁত ভেঙে গেছে। গতকাল সোমবার বিকেলে চারটার দিকে উপজেলার সড়িষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ছাত্রীকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে হাসপাতালের সহকারী সার্জন চিকিৎসক মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই ছাত্রীকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, তখন তাঁর ওপরের পাটির সামনে অংশের তিনটি দাঁত ছিল না । সে হাসপাতালে ভর্তি আছে। আমাদের সাধ্যমতো চিকিৎসা দিচ্ছি।’
এ ঘটনায় গতকাল রাতে আহত ছাত্রীর মা বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে বেতাগী থানায় মামলা করেছেন। মামলার প্রধান আসামি মো. ফয়সালের (২৩) বাড়ি বিদ্যালয়ের পাশে গাবতলী গ্রামে। পুলিশ তাঁর মা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা দুজন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে ওই ছাত্রী স্কুলের ওয়াশরুমে গেলে ফয়সাল সেখানে উঁকি দেন। মেয়েটি টের পেলে দ্রুত সটকে পড়েন ফয়সাল। এরপর সে ঘটনাটি স্বজনদের জানায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ হয়ে মেয়েটিকে মারধরের হুমকি দেন ফয়সাল। এতে ভয়ে গতকাল সোমবার ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে পাঠাননি তার মা। পরে বাড়িতে গিয়ে তার এক শিক্ষক তাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন
গতকাল বিকেল চারটার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর ওই ছাত্রী বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফয়সাল তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এতে ছাত্রীর মুখের সামনের তিনটি দাঁত ভেঙে যায়। আরও দুটি দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বলেন, ‘ফয়সালের ভয়ে সকালে আমার মেয়েকে ঘরে রেখেছিলাম। আমিও পালিয়ে থেকেছি। পরে একজন শিক্ষক এসে তাকে স্কুলে নিয়ে যায়। স্কুল ছুটির পর ফয়সাল আমার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রথমে হাত ধরে টানাটানি শুরু করে। এতে রাজি না হলে সে চড় ও লাথি দিতে শুরু করে। মুখে লাথি দেওয়ায় আমার মেয়ের তিনটি দাঁত ভেঙে গেছে।’

গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্কুল ছুটির পরে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরছিল। এমন সময় স্কুল প্রাঙ্গণে ফয়সাল ওই ছাত্রীর ওপর হামলা চালায়। ছাত্রীর চিৎকার শুনে দৌড়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। আমরা যাওয়ার আগে সে পালিয়ে যায়।’
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ননী গোপাল মালাকার বলেন, ‘ফয়সালের বাড়ি স্কুলের কাছাকাছি। স্কুল চলাকালীন সে আশপাশে লাঠিসহ কয়েকবার ঘোরাঘুরি করেছে; কিন্তু বিষয়টি আমরা কেউ দেখিনি। ছুটির পর সে স্কুলের বাউন্ডারিতেই ছাত্রীকে মারধর শুরু করে। পরে আমরা পুলিশকে খবর দিই।’

ফয়সাল এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত বলে জানান ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি হেলাল হোসেন। তিনি বলেন, সে (ফয়সাল) লেখাপড়া করে না। তার বাবা ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করেন। তাঁদের বাড়িতে কেউ নেই; তালা দেওয়া।

এ বিষয়ে বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। মামলার দুই ও তিন নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। ফয়সালকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।