Dhaka ০৭:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিক্রি বাড়ছে, তবু গাবতলীর হাটে সন্তুষ্ট নন বিক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

রাত পোহালেই দেশব্যাপী উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগের ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর গাবতলী গবাদি পশুর হাটে গরু-মহিষ বিক্রি বেড়েছে। তবে বিক্রি বাড়লেও বিক্রেতাদের মধ্য অসন্তুষ্টি দেখা গেছে। ঈদের আগ মুহূর্তে গরুর দাম কমে গেছে বলে জানান বিক্রেতারা। আর বৃষ্টির কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে হাটে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের।

বুধবার (২৭ মে) সকালে গাবতলী হাটে এমন চিত্র দেখা যায়। সরেজমিন ঘুরে দেখা, টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীর গাবতলী গবাদি পশুর হাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। হাটের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে কাদা ও কর্দমাক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় পশু নিয়ে চলাচল করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সবাইকে। অনেক জায়গায় পা ফেলার মতো অবস্থাও নেই। কাদার কারণে পশু ওঠানামা, দেখাশোনা ও কেনাবেচায়ও ব্যাঘাত ঘটছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা খামারি ও ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগের কথা জানিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও হাটের পরিবেশ উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।

জামালপুর থেকে আসা ফরহাদ হোসেন নামে বিক্রেতা জানান, তিনি ২২টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। এখন পর্যন্ত ১৫টি গরু বিক্রি হয়েছে। তবে বাজার ভালো না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন তিনি।

কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় ১০ মণ ওজনের একটি গরু বাড়িতেই দাম বলেছে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর হাটে ক্রেতারা সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বলছেন। এতে বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।

এদিকে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে আসা ইদ্রিস মোল্লা দুটি বড় গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। প্রায় ১৪ মণ ওজনের গরু দুটির দাম বাড়িতে ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বললেও হাটে ক্রেতারা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বলছেন। তিনি বলেন, খাবার ও লালন-পালনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কম দামে বিক্রি করলে লোকসান হবে।

রাজধানীর শ্যামলী থেকে গরু কিনতে আসেন রফিকুল ইসলাম শান্ত। তিনি ফরজের পর এলেও পছন্দের গরু খুঁজছেন (সকাল ৯টার সময়)। তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে ভালোভাবে গরু দেখতে পাচ্ছি না। দামও মনে হচ্ছে কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আছে। পছন্দ হলেই নিয়ে নেব।

গরুর দাম কমে গেছে জানিয়ে বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, গতকালের তুলনায় আজকে গরুর দাম অনেকটাই কমে গেছে। দুই লাখ টাকার গরু দেড় লাখ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে, মানুষ আসবে কী করে?

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিক্রি বাড়ছে, তবু গাবতলীর হাটে সন্তুষ্ট নন বিক্রেতারা

Update Time : ০৪:৪৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

রাত পোহালেই দেশব্যাপী উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগের ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর গাবতলী গবাদি পশুর হাটে গরু-মহিষ বিক্রি বেড়েছে। তবে বিক্রি বাড়লেও বিক্রেতাদের মধ্য অসন্তুষ্টি দেখা গেছে। ঈদের আগ মুহূর্তে গরুর দাম কমে গেছে বলে জানান বিক্রেতারা। আর বৃষ্টির কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে হাটে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের।

বুধবার (২৭ মে) সকালে গাবতলী হাটে এমন চিত্র দেখা যায়। সরেজমিন ঘুরে দেখা, টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীর গাবতলী গবাদি পশুর হাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। হাটের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে কাদা ও কর্দমাক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় পশু নিয়ে চলাচল করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সবাইকে। অনেক জায়গায় পা ফেলার মতো অবস্থাও নেই। কাদার কারণে পশু ওঠানামা, দেখাশোনা ও কেনাবেচায়ও ব্যাঘাত ঘটছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা খামারি ও ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগের কথা জানিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও হাটের পরিবেশ উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।

জামালপুর থেকে আসা ফরহাদ হোসেন নামে বিক্রেতা জানান, তিনি ২২টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। এখন পর্যন্ত ১৫টি গরু বিক্রি হয়েছে। তবে বাজার ভালো না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন তিনি।

কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় ১০ মণ ওজনের একটি গরু বাড়িতেই দাম বলেছে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর হাটে ক্রেতারা সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বলছেন। এতে বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।

এদিকে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে আসা ইদ্রিস মোল্লা দুটি বড় গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। প্রায় ১৪ মণ ওজনের গরু দুটির দাম বাড়িতে ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বললেও হাটে ক্রেতারা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বলছেন। তিনি বলেন, খাবার ও লালন-পালনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কম দামে বিক্রি করলে লোকসান হবে।

রাজধানীর শ্যামলী থেকে গরু কিনতে আসেন রফিকুল ইসলাম শান্ত। তিনি ফরজের পর এলেও পছন্দের গরু খুঁজছেন (সকাল ৯টার সময়)। তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে ভালোভাবে গরু দেখতে পাচ্ছি না। দামও মনে হচ্ছে কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আছে। পছন্দ হলেই নিয়ে নেব।

গরুর দাম কমে গেছে জানিয়ে বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, গতকালের তুলনায় আজকে গরুর দাম অনেকটাই কমে গেছে। দুই লাখ টাকার গরু দেড় লাখ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে, মানুষ আসবে কী করে?