Dhaka ০৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০৩০ লক্ষ্য নিয়ে রেলের রোডম্যাপ দাউদকান্দিতে চালবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ৭ শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ প্ল্যাকার্ডে ভিন্ন বার্তা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হরমুজ পার করলো চীনা জাহাজ শুরু বৈশাখী শোভাযাত্রা, চারুকলা থেকে বর্ণিল আয়োজনে মানুষের ঢল ইরানি নারী ফুটবল দলের অধিনায়কের বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফেরত দিচ্ছে সরকার আজও সাতসকালে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ঢাকার বাতাস রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ: ‘জাগো আলোক-লগ্নে’ গানে নববর্ষের সূচনা টাঙ্গাইলে আজ ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী বৈশাখী শোভাযাত্রা ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কড়া নিরাপত্তা

রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনায় খন্দকার মোশাররফ, আলোচনায় আরও একজন

12 / 100 SEO Score

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র পক্ষ থেকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির বর্ষীয়ান সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির আরেক প্রভাবশালী সদস্য এবং দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পর এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

রাষ্ট্রপতি পদের এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের বার্তাকে কেন্দ্র করে। গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৭৫ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় পদ ছেড়ে দিতে আগ্রহী।

সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকলেও, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি নতুন সরকার গঠনের পরই সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন। সেই সময় তিনি বঙ্গভবন ও বিভিন্ন দপ্তর থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলার ঘটনায় নিজের অপমানের কথাও উল্লেখ করেছিলেন। ফলে বিএনপির সরকার গঠনের পরপরই রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে এগিয়ে থাকা ৭৯ বছর বয়সী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবার কুমিল্লা-১ আসন থেকে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক ইতিপূর্বে জ্বালানি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

তার নাম নিয়ে ইতিপূর্বে দলীয় জনসভায় সরাসরি ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান হবেন প্রধানমন্ত্রী এবং খন্দকার মোশাররফ হবেন রাষ্ট্রপতি। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নিজেকে কিছুটা রাজনৈতিক প্রচারের আড়ালে রেখেছেন যাতে তাকে নিয়ে কোনো বিতর্ক তৈরি না হয়, যা তার এই পদের জন্য মনোনয়নের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে, নজরুল ইসলাম খান রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় থাকলেও দলের ভেতরে একটি বড় অংশ তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দেখার পক্ষে মত দিয়েছেন। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এবং দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় কেন্দ্রীয় বক্তা হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মন্ত্রিসভা গঠনের পর আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতির নাম চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হতে পারে। আপাতত সবার নজর কালকের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের দিকে, যেখান থেকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতির আগাম সংকেত পাওয়া যেতে পারে।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনায় খন্দকার মোশাররফ, আলোচনায় আরও একজন

Update Time : ০৬:৫৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
12 / 100 SEO Score

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র পক্ষ থেকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির বর্ষীয়ান সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির আরেক প্রভাবশালী সদস্য এবং দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পর এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

রাষ্ট্রপতি পদের এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের বার্তাকে কেন্দ্র করে। গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৭৫ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় পদ ছেড়ে দিতে আগ্রহী।

সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকলেও, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি নতুন সরকার গঠনের পরই সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন। সেই সময় তিনি বঙ্গভবন ও বিভিন্ন দপ্তর থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলার ঘটনায় নিজের অপমানের কথাও উল্লেখ করেছিলেন। ফলে বিএনপির সরকার গঠনের পরপরই রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে এগিয়ে থাকা ৭৯ বছর বয়সী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবার কুমিল্লা-১ আসন থেকে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক ইতিপূর্বে জ্বালানি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

তার নাম নিয়ে ইতিপূর্বে দলীয় জনসভায় সরাসরি ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান হবেন প্রধানমন্ত্রী এবং খন্দকার মোশাররফ হবেন রাষ্ট্রপতি। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নিজেকে কিছুটা রাজনৈতিক প্রচারের আড়ালে রেখেছেন যাতে তাকে নিয়ে কোনো বিতর্ক তৈরি না হয়, যা তার এই পদের জন্য মনোনয়নের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে, নজরুল ইসলাম খান রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় থাকলেও দলের ভেতরে একটি বড় অংশ তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দেখার পক্ষে মত দিয়েছেন। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এবং দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় কেন্দ্রীয় বক্তা হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মন্ত্রিসভা গঠনের পর আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতির নাম চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হতে পারে। আপাতত সবার নজর কালকের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের দিকে, যেখান থেকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতির আগাম সংকেত পাওয়া যেতে পারে।