Dhaka ০৭:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লো ব্লাড প্রেশারের লক্ষণগুলো কী কী

স্বাস্থ্য ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে হঠাৎ মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা কিংবা চোখে ঝাপসা দেখাকে অনেকেই সাময়িক ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এসব উপসর্গ অনেক সময় নিম্ন রক্তচাপ বা লো প্রেশারের ইঙ্গিত হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় হাইপোটেনশন। সাধারণত রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে গেলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছাতে সমস্যা হয়। ফলে দেখা দেয় নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকের ক্ষেত্রে লো প্রেশার সাময়িক হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি বড় কোনো শারীরিক সমস্যার পূর্বাভাস হতে পারে। তাই শরীরের সংকেতগুলো গুরুত্ব দিয়ে বোঝা জরুরি।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন প্রেশার লো হয়েছে
লো প্রেশারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো মাথা ঘোরা। হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে চোখে অন্ধকার দেখা বা ভারসাম্য হারানোর অনুভূতিও হতে পারে। অনেক সময় শরীর দুর্বল হয়ে আসে, মনে হয় যেন শক্তি একেবারেই নেই। কারও কারও চোখে ঝাপসা দেখা, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা মনোযোগ কমে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দেয়।

এ ছাড়া বমি বমি ভাব, ঠান্ডা ঘাম হওয়া, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কিংবা দ্রুত কিন্তু দুর্বল হার্টবিটও লো প্রেশারের লক্ষণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অনুভূতিও দেখা দেয়।

তবে পরিস্থিতি গুরুতর হলে শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া কিংবা পুরোপুরি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

কেন কমে যায় রক্তচাপ?
লো প্রেশারের পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, শরীরে পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত গরমে ঘাম হওয়া কিংবা রক্তশূন্যতা অন্যতম কারণ। এছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিদ্রা, দুর্বলতা কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও রক্তচাপ কমে যেতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে হৃদ্‌রোগ, থাইরয়েড বা হরমোনজনিত সমস্যাও নিম্ন রক্তচাপের কারণ হতে পারে। তাই নিয়মিত সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রেশার লো হলে কী করবেন?
হঠাৎ প্রেশার কমে গেলে প্রথমেই দ্রুত বসে বা শুয়ে পড়তে হবে। এতে মাথা ঘোরা বা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি, কারণ শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে রক্তচাপ আরও কমে যেতে পারে।

এসময় স্যালাইন কিংবা লবণ-চিনির পানি খেলে উপকার পাওয়া যায়। হালকা লবণযুক্ত খাবারও শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। তবে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া উচিত নয়।

চিকিৎসকেরা আরও পরামর্শ দেন, হঠাৎ উঠে দাঁড়ানো এড়িয়ে চলতে। বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার পর ধীরে ধীরে বসে তারপর দাঁড়ানো ভালো।

রক্তচাপের ওঠানামা শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই নিয়মিত ব্লাড প্রেশার পরীক্ষা করা এবং শরীরের পরিবর্তনগুলো খেয়াল রাখা জরুরি। যদি বারবার মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করেন, তাহলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ সময়মতো সচেতনতা বড় ধরনের জটিলতা এড়াতে সাহায্য করতে পারে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

লো ব্লাড প্রেশারের লক্ষণগুলো কী কী

Update Time : ০৭:৪৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে হঠাৎ মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা কিংবা চোখে ঝাপসা দেখাকে অনেকেই সাময়িক ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এসব উপসর্গ অনেক সময় নিম্ন রক্তচাপ বা লো প্রেশারের ইঙ্গিত হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় হাইপোটেনশন। সাধারণত রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে গেলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছাতে সমস্যা হয়। ফলে দেখা দেয় নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকের ক্ষেত্রে লো প্রেশার সাময়িক হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি বড় কোনো শারীরিক সমস্যার পূর্বাভাস হতে পারে। তাই শরীরের সংকেতগুলো গুরুত্ব দিয়ে বোঝা জরুরি।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন প্রেশার লো হয়েছে
লো প্রেশারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো মাথা ঘোরা। হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে চোখে অন্ধকার দেখা বা ভারসাম্য হারানোর অনুভূতিও হতে পারে। অনেক সময় শরীর দুর্বল হয়ে আসে, মনে হয় যেন শক্তি একেবারেই নেই। কারও কারও চোখে ঝাপসা দেখা, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা মনোযোগ কমে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দেয়।

এ ছাড়া বমি বমি ভাব, ঠান্ডা ঘাম হওয়া, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কিংবা দ্রুত কিন্তু দুর্বল হার্টবিটও লো প্রেশারের লক্ষণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অনুভূতিও দেখা দেয়।

তবে পরিস্থিতি গুরুতর হলে শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া কিংবা পুরোপুরি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

কেন কমে যায় রক্তচাপ?
লো প্রেশারের পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, শরীরে পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত গরমে ঘাম হওয়া কিংবা রক্তশূন্যতা অন্যতম কারণ। এছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিদ্রা, দুর্বলতা কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও রক্তচাপ কমে যেতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে হৃদ্‌রোগ, থাইরয়েড বা হরমোনজনিত সমস্যাও নিম্ন রক্তচাপের কারণ হতে পারে। তাই নিয়মিত সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রেশার লো হলে কী করবেন?
হঠাৎ প্রেশার কমে গেলে প্রথমেই দ্রুত বসে বা শুয়ে পড়তে হবে। এতে মাথা ঘোরা বা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি, কারণ শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে রক্তচাপ আরও কমে যেতে পারে।

এসময় স্যালাইন কিংবা লবণ-চিনির পানি খেলে উপকার পাওয়া যায়। হালকা লবণযুক্ত খাবারও শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। তবে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া উচিত নয়।

চিকিৎসকেরা আরও পরামর্শ দেন, হঠাৎ উঠে দাঁড়ানো এড়িয়ে চলতে। বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার পর ধীরে ধীরে বসে তারপর দাঁড়ানো ভালো।

রক্তচাপের ওঠানামা শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই নিয়মিত ব্লাড প্রেশার পরীক্ষা করা এবং শরীরের পরিবর্তনগুলো খেয়াল রাখা জরুরি। যদি বারবার মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করেন, তাহলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ সময়মতো সচেতনতা বড় ধরনের জটিলতা এড়াতে সাহায্য করতে পারে।