Dhaka ০৩:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্তন ক্যান্সার মোকাবিলায় সচেতনতার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

স্তন ক্যান্সার মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, লজ্জা ও দ্বিধা কাটিয়ে সচেতন হওয়া এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এ বার্তা সামনে রেখে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) পালিত হয়েছে ১৪তম স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস। এ উপলক্ষে সংলাপ, গোলাপি শোভাযাত্রা ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিএমইউর ডা. মিলন হলে ‘স্তন ক্যান্সারের বৈশ্বিক ও জাতীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ও বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ যৌথভাবে এ আয়োজন করে। সংলাপ শেষে শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত গোলাপি শোভাযাত্রা বের করা হয়। বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর দিবসটি পালন করে আসছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, স্তন ক্যান্সার বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবছর দেশে অসংখ্য নারী এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই লজ্জা ও দ্বিধা কাটিয়ে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার সক্ষমতা ও সুযোগের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের মাধ্যমে সীমিত চিকিৎসাসম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। এতে অধিকসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা যাবে।

অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ তালুকদার বলেন, রোগ প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন আশাব্যঞ্জক। সরকারি পর্যায়ে ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে অলাভজনক ও সেবামূলক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সংলাপে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. হালিদা হানুম আখতার, অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন, অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, মোছাররত জাহান সৌরভ, ডা. আবু জামিল ফয়সাল, সৈয়দ হুমায়ুন কবীর, জেবুন্নেছা ও চলচ্চিত্র পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকেরসহ বিশিষ্ট চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। বক্তারা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

four × two =

About Author Information

স্তন ক্যান্সার মোকাবিলায় সচেতনতার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

Update Time : ০৩:২২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

স্তন ক্যান্সার মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, লজ্জা ও দ্বিধা কাটিয়ে সচেতন হওয়া এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এ বার্তা সামনে রেখে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) পালিত হয়েছে ১৪তম স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস। এ উপলক্ষে সংলাপ, গোলাপি শোভাযাত্রা ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিএমইউর ডা. মিলন হলে ‘স্তন ক্যান্সারের বৈশ্বিক ও জাতীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ও বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ যৌথভাবে এ আয়োজন করে। সংলাপ শেষে শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত গোলাপি শোভাযাত্রা বের করা হয়। বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর দিবসটি পালন করে আসছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, স্তন ক্যান্সার বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবছর দেশে অসংখ্য নারী এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই লজ্জা ও দ্বিধা কাটিয়ে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার সক্ষমতা ও সুযোগের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের মাধ্যমে সীমিত চিকিৎসাসম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। এতে অধিকসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা যাবে।

অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ তালুকদার বলেন, রোগ প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন আশাব্যঞ্জক। সরকারি পর্যায়ে ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে অলাভজনক ও সেবামূলক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সংলাপে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. হালিদা হানুম আখতার, অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন, অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, মোছাররত জাহান সৌরভ, ডা. আবু জামিল ফয়সাল, সৈয়দ হুমায়ুন কবীর, জেবুন্নেছা ও চলচ্চিত্র পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকেরসহ বিশিষ্ট চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। বক্তারা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।