হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ পেয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনুরোধটি বর্তমানে আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) আয়োজিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আমরা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য অনুরোধ পেয়েছি। অনুরোধটি বর্তমানে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়াগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে আলোচিত এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, অন্য একজন ব্যক্তির প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত (হত্যা মামলার) অনুরোধের বিষয়ে আমি এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো প্রত্যর্পণের অনুরোধই আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিবেচনা করা হবে।
এর আগে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। যেকোনো প্রত্যর্পণ একটি আইনি বিষয়। এ ক্ষেত্রেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন। তার বর্তমান অবস্থান দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে।
কয়েক দিন আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পলাতক অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন। গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে ইতোমধ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২৪-এ যে মন্তব্য পতন ডেকে আনে শেখ হাসিনার
চীন সফর সংক্ষিপ্ত করে ২০২৪ সালের ১১ জুলাই রাতে দেশে ফেরেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কোটা সংস্কার আন্দোলনে উত্তাল। তিন দিন পর, ১৪ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা বহালের পক্ষে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। সেদিন বিকেলে গণভবনে শেখ হাসিনার চীন সফর-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সেখানে এটিএন নিউজের সাংবাদিক প্রভাষ আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পরোক্ষভাবে ‘রাজাকারের নাতি-নাতনি’ বলে উল্লেখ করেন। তার এই মন্তব্যের পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নতুন গতি পায়। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে সর্বাত্মক গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে।





















