Dhaka ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইসলামে যাদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধন হারাম মণ্ডপ পরিদর্শনে সৈয়দপুর পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী আর্জেন্টিনার কাছে হার: রেফারির সমালোচনা করায় মিশরের কোচসহ তিনজন নিষিদ্ধ ইসরায়েলে নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণ করবে মুসলিম ভোটাররা টুপটুপ কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় প্রাণ হারায় ১০ পর্যটক : পুলিশ ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার সমীকরণ, কী করতে হবে বাংলাদেশকে আসামে দুই দিনে উচ্ছেদ ১১০০ বাঙালি মুসলিম পরিবার, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ১০টি মসজিদ নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ মহানবমীতে তিন জেলায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী চোয়ালের অস্ত্রোপচার শেষে মাঠে ফেরার অপেক্ষায় মার্টিনেজ

সান্ত্বনার ম্যাচে মুখোমুখি দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড

14 / 100 SEO Score

 

বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইয়ের উত্তেজনার আড়ালে এবার সান্ত্বনার ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এই ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে হতাশা কিছুটা হলেও কাটিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে চাইবে দুই দল।

সেমিফাইনালের পর সবার নজর এখন নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে। রোববারের মেগা ফাইনালে এই মাঠেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের। ফাইনাল ঘিরে প্রস্তুতি ও উৎসবের মাঝেই অনেকটা নীরবে মাঠে গড়াচ্ছে বিশ্বকাপের ‘গুরুত্বহীন’ আরেকটা ম্যাচ।

রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় মিয়ামিতে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে সেমিফাইনালে দুই পরাজিত দল ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপকে বিষন্ন বিদায় জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে ফুটবলের দুই পরাশক্তি।

সেমিফাইনালে ওঠার পথে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল হিসেবে বিবেচিত ফ্রান্স গত মঙ্গলবার স্পেনের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বের সামনে একেবারেই ধরাশায়ী হয়েছে। যে কারণে ২-০ গোলে পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে বুধবার আটলান্টায় আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপে হতাশাজনক পরাজয়ের দীর্ঘ ইতিহাসে আরও একটি অধ্যায় যোগ করে ইংল্যান্ড। ম্যাচে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় থ্রি লায়ন্সদের।

এখন দুই দলকেই এমন একটি ম্যাচের জন্য নিজেদের মানসিক ও শারীরিক শক্তির শেষটুকু জড়ো করতে হবে, যেটি ফুটবল বিশ্বে সাধারণভাবে খুব একটা জনপ্রিয় নয়। এমন ম্যাচ সাধারণত কোনও দলই খেলতে চায় না।

ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল সেমিফাইনালে পরাজয়ের পর বলছিলেন, ‘আমাদের এবং ফ্রান্সের কোনো খেলোয়াড়ই এই ম্যাচ খেলতে চায় না। সবাই ফাইনাল খেলতে চায়। সেখানে ওঠার জন্য আমরা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। প্রত্যেকেই বিশ্বকাপ জিততে চায়, কিন্তু বাস্তবতা এটাই। ফ্রান্সের তুলনায় আমাদের বিশ্রামের জন্য একদিন কম সময় মিলেছে। তবুও আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গেই ম্যাচটি খেলব।’

এই ম্যাচটি ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশ্যমের দীর্ঘ কোচিং অধ্যায়ের এক বিষন্ন পরিসমাপ্তি হয়ে থাকবে। টুখেলের মতোই সেমিফাইনালে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া দেশ্যম টুর্নামেন্ট শেষে ফ্রান্সের দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন। ৫৭ বছর বয়সী দেশ্যম ১৪ বছরের সফল কোচিং ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটাতে যাচ্ছেন। তার অধীনে ফ্রান্স ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল, ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল এবং এবারও শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে।

সেমিফাইনালে হারের পর দেশ্যম বলছিলেনন, ‘তৃতীয় স্থান অর্জনের সুযোগ এখনো আছে। তাই সেটি জিততে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা যেখানে থাকতে চেয়েছিলাম বা আশা করেছিলাম, সেখানে নেই। আমাদের হতাশার মাত্রা আমাদের উচ্চাকাঙ্খারই প্রতিফলন। কিন্তু এটাকে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

সান্ত্বনা হিসেবে খুব বেশি মূল্য না থাকলেও, এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে ও আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি- দুজনই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ আটটি করে গোল করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই ইংলিশ রক্ষণভাগের বিপক্ষে নিজের গোলসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ খুঁজবেন এমবাপে।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামের গোলসংখ্যা ছয়টি করে। হার্ড রক স্টেডিয়ামে বড় কোনো পারফরম্যান্স করলে তারাও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শক্তভাবে ফিরতে পারেন। ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেইনের জন্য এটি হয়তো বিশ্বকাপে শেষ ম্যাচও হতে পারে। বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার চলতি মাসেই ৩৩ বছরে পা রাখবেন। ফলে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে তাকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এই ম্যাচে এমবাপের সামনে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে ওঠার সুযোগও রয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডের বিশ্বকাপে মোট গোল ২০টি, যা মেসির সর্বোচ্চ ২১ গোলের থেকে একটি কম। দুই দলের শুরুর একাদশ কেমন হবে, তার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করবে। কঠিন ও ক্লান্তিকর টুর্নামেন্ট শেষে টুখেল তার দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায় শেষ ষোলোর ম্যাচ, এরপর মিয়ামির প্রচণ্ড গরমে নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সবশেষে আর্জেন্টিনার কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা শারীরিকভাবে অনেকটাই ক্লান্ত।

এ কারণে পুরো টুর্নামেন্টে কম খেলার সুযোগ পাওয়া ফুটবলারদের মাঠে নামানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোবি মাইনুর বিশ্বকাপে অভিষেক হতে পারে। পাশাপাশি কেইনের বিকল্প স্ট্রাইকার অলি ওয়াটকিন্সও শুরুর একাদশে সুযোগ পেতে পারেন। অন্যদিকে, দেশ্যম অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার এন’গোলো কান্তেকে খেলানোর কথা ভাবতে পারেন। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি দলের অন্যতম নায়ক কান্তে এবারের টুর্নামেন্টে যুক্তরাষ্ট্রে এখনো এক মিনিটও মাঠে নামেননি।

অনেকের কাছে এটি কেবলই সান্ত্বনার ম্যাচ মনে হলেও, এর পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ আর র‌্যাংকিংয়ের হিসাব নিকাশও জড়িয়ে আছে। ১৯৩৪ সাল থেকে প্রতি বিশ্বকাপে এই ম্যাচটি হয়ে আসছে, যা সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুটি দলকে খালি হাতে ফেরার তিক্ততা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি দেয়।

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পাবে ৩০ মিলিয়ন ইউএস ডলার, আর চতুর্থ হয়ে শেষ করা দল বাড়ি ফিরবে ২৮ মিলিয়ন ইউএস ডলার নিয়ে। পাশাপাশি ফিফা র‍্যাংকিংয়ের সমীকরণও জড়িয়ে আছে এই ম্যাচের সঙ্গে। ফিফার বিশেষ অ্যালগরিদম অনুযায়ী, নকআউট পর্বের এই ম্যাচে জয়ী দল প্রতিপক্ষের শক্তি ও ম্যাচের গুরুত্ব বিবেচনায় বাড়তি র‍্যাংকিং পয়েন্ট বোনাস হিসেবে পাবে, যা দলগুলোর ভবিষ্যৎ গ্রুপিং ও মর্যাদার লড়াইয়ে বেশ কাজে দেবে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

fourteen + four =

About Author Information

সান্ত্বনার ম্যাচে মুখোমুখি দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড

Update Time : ০৩:০১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
14 / 100 SEO Score

 

বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইয়ের উত্তেজনার আড়ালে এবার সান্ত্বনার ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এই ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে হতাশা কিছুটা হলেও কাটিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে চাইবে দুই দল।

সেমিফাইনালের পর সবার নজর এখন নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে। রোববারের মেগা ফাইনালে এই মাঠেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের। ফাইনাল ঘিরে প্রস্তুতি ও উৎসবের মাঝেই অনেকটা নীরবে মাঠে গড়াচ্ছে বিশ্বকাপের ‘গুরুত্বহীন’ আরেকটা ম্যাচ।

রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় মিয়ামিতে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে সেমিফাইনালে দুই পরাজিত দল ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপকে বিষন্ন বিদায় জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে ফুটবলের দুই পরাশক্তি।

সেমিফাইনালে ওঠার পথে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল হিসেবে বিবেচিত ফ্রান্স গত মঙ্গলবার স্পেনের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বের সামনে একেবারেই ধরাশায়ী হয়েছে। যে কারণে ২-০ গোলে পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে বুধবার আটলান্টায় আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপে হতাশাজনক পরাজয়ের দীর্ঘ ইতিহাসে আরও একটি অধ্যায় যোগ করে ইংল্যান্ড। ম্যাচে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় থ্রি লায়ন্সদের।

এখন দুই দলকেই এমন একটি ম্যাচের জন্য নিজেদের মানসিক ও শারীরিক শক্তির শেষটুকু জড়ো করতে হবে, যেটি ফুটবল বিশ্বে সাধারণভাবে খুব একটা জনপ্রিয় নয়। এমন ম্যাচ সাধারণত কোনও দলই খেলতে চায় না।

ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল সেমিফাইনালে পরাজয়ের পর বলছিলেন, ‘আমাদের এবং ফ্রান্সের কোনো খেলোয়াড়ই এই ম্যাচ খেলতে চায় না। সবাই ফাইনাল খেলতে চায়। সেখানে ওঠার জন্য আমরা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। প্রত্যেকেই বিশ্বকাপ জিততে চায়, কিন্তু বাস্তবতা এটাই। ফ্রান্সের তুলনায় আমাদের বিশ্রামের জন্য একদিন কম সময় মিলেছে। তবুও আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গেই ম্যাচটি খেলব।’

এই ম্যাচটি ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশ্যমের দীর্ঘ কোচিং অধ্যায়ের এক বিষন্ন পরিসমাপ্তি হয়ে থাকবে। টুখেলের মতোই সেমিফাইনালে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া দেশ্যম টুর্নামেন্ট শেষে ফ্রান্সের দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন। ৫৭ বছর বয়সী দেশ্যম ১৪ বছরের সফল কোচিং ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটাতে যাচ্ছেন। তার অধীনে ফ্রান্স ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল, ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল এবং এবারও শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে।

সেমিফাইনালে হারের পর দেশ্যম বলছিলেনন, ‘তৃতীয় স্থান অর্জনের সুযোগ এখনো আছে। তাই সেটি জিততে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা যেখানে থাকতে চেয়েছিলাম বা আশা করেছিলাম, সেখানে নেই। আমাদের হতাশার মাত্রা আমাদের উচ্চাকাঙ্খারই প্রতিফলন। কিন্তু এটাকে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

সান্ত্বনা হিসেবে খুব বেশি মূল্য না থাকলেও, এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে ও আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি- দুজনই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ আটটি করে গোল করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই ইংলিশ রক্ষণভাগের বিপক্ষে নিজের গোলসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ খুঁজবেন এমবাপে।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামের গোলসংখ্যা ছয়টি করে। হার্ড রক স্টেডিয়ামে বড় কোনো পারফরম্যান্স করলে তারাও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শক্তভাবে ফিরতে পারেন। ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেইনের জন্য এটি হয়তো বিশ্বকাপে শেষ ম্যাচও হতে পারে। বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার চলতি মাসেই ৩৩ বছরে পা রাখবেন। ফলে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে তাকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এই ম্যাচে এমবাপের সামনে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে ওঠার সুযোগও রয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডের বিশ্বকাপে মোট গোল ২০টি, যা মেসির সর্বোচ্চ ২১ গোলের থেকে একটি কম। দুই দলের শুরুর একাদশ কেমন হবে, তার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করবে। কঠিন ও ক্লান্তিকর টুর্নামেন্ট শেষে টুখেল তার দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায় শেষ ষোলোর ম্যাচ, এরপর মিয়ামির প্রচণ্ড গরমে নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সবশেষে আর্জেন্টিনার কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা শারীরিকভাবে অনেকটাই ক্লান্ত।

এ কারণে পুরো টুর্নামেন্টে কম খেলার সুযোগ পাওয়া ফুটবলারদের মাঠে নামানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোবি মাইনুর বিশ্বকাপে অভিষেক হতে পারে। পাশাপাশি কেইনের বিকল্প স্ট্রাইকার অলি ওয়াটকিন্সও শুরুর একাদশে সুযোগ পেতে পারেন। অন্যদিকে, দেশ্যম অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার এন’গোলো কান্তেকে খেলানোর কথা ভাবতে পারেন। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি দলের অন্যতম নায়ক কান্তে এবারের টুর্নামেন্টে যুক্তরাষ্ট্রে এখনো এক মিনিটও মাঠে নামেননি।

অনেকের কাছে এটি কেবলই সান্ত্বনার ম্যাচ মনে হলেও, এর পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ আর র‌্যাংকিংয়ের হিসাব নিকাশও জড়িয়ে আছে। ১৯৩৪ সাল থেকে প্রতি বিশ্বকাপে এই ম্যাচটি হয়ে আসছে, যা সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুটি দলকে খালি হাতে ফেরার তিক্ততা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি দেয়।

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পাবে ৩০ মিলিয়ন ইউএস ডলার, আর চতুর্থ হয়ে শেষ করা দল বাড়ি ফিরবে ২৮ মিলিয়ন ইউএস ডলার নিয়ে। পাশাপাশি ফিফা র‍্যাংকিংয়ের সমীকরণও জড়িয়ে আছে এই ম্যাচের সঙ্গে। ফিফার বিশেষ অ্যালগরিদম অনুযায়ী, নকআউট পর্বের এই ম্যাচে জয়ী দল প্রতিপক্ষের শক্তি ও ম্যাচের গুরুত্ব বিবেচনায় বাড়তি র‍্যাংকিং পয়েন্ট বোনাস হিসেবে পাবে, যা দলগুলোর ভবিষ্যৎ গ্রুপিং ও মর্যাদার লড়াইয়ে বেশ কাজে দেবে।