Dhaka ০৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্তন ক্যান্সার: সচেতনতায় কমবে মৃত্যুঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ জরুরি। তবে লজ্জা, সংকোচ ও অসচেতনতার কারণে অনেক নারী সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্তনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে এ রোগে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ‘স্তন ক্যান্সারের বৈশ্বিক ও জাতীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, স্তন ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। স্তনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে লজ্জা ও দ্বিধা কাটিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত বাড়ানো গেলে সীমিত চিকিৎসাসুবিধা দিয়েও বেশি রোগীকে সেবা দেওয়া সম্ভব।

সংলাপে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। তিনি স্তন ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণে স্বাস্থ্য বাজেটের অন্তত ৪০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানান। পাশাপাশি সরকারি ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি হাসপাতালে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, দেশে ক্যান্সারের প্রকৃত চিত্র জানতে জনগোষ্ঠীভিত্তিক ক্যান্সার নিবন্ধন চালু করা জরুরি। এতে আক্রান্তের সংখ্যা, ঝুঁকিপূর্ণ বয়স ও চিকিৎসার ফলাফল সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে। সেই অনুযায়ী কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণও সহজ হবে।

সংলাপে ড. হালিদা হানুম আখতার, অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন, অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস জোনাকি, ডা. আবু জামিল ফয়সালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠান শেষে সচেতনতা বাড়াতে শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত গোলাপি শোভাযাত্রা বের করা হয়। বিতরণ করা হয় সচেতনতামূলক লিফলেট।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বেসরকারিভাবে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস পালন করে আসছে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

four × 3 =

About Author Information

স্তন ক্যান্সার: সচেতনতায় কমবে মৃত্যুঝুঁকি

Update Time : ০৩:৪৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ জরুরি। তবে লজ্জা, সংকোচ ও অসচেতনতার কারণে অনেক নারী সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্তনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে এ রোগে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ‘স্তন ক্যান্সারের বৈশ্বিক ও জাতীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, স্তন ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। স্তনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে লজ্জা ও দ্বিধা কাটিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত বাড়ানো গেলে সীমিত চিকিৎসাসুবিধা দিয়েও বেশি রোগীকে সেবা দেওয়া সম্ভব।

সংলাপে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। তিনি স্তন ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণে স্বাস্থ্য বাজেটের অন্তত ৪০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানান। পাশাপাশি সরকারি ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি হাসপাতালে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, দেশে ক্যান্সারের প্রকৃত চিত্র জানতে জনগোষ্ঠীভিত্তিক ক্যান্সার নিবন্ধন চালু করা জরুরি। এতে আক্রান্তের সংখ্যা, ঝুঁকিপূর্ণ বয়স ও চিকিৎসার ফলাফল সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে। সেই অনুযায়ী কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণও সহজ হবে।

সংলাপে ড. হালিদা হানুম আখতার, অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন, অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস জোনাকি, ডা. আবু জামিল ফয়সালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠান শেষে সচেতনতা বাড়াতে শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত গোলাপি শোভাযাত্রা বের করা হয়। বিতরণ করা হয় সচেতনতামূলক লিফলেট।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বেসরকারিভাবে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস পালন করে আসছে।