Dhaka ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমতেই কমল তেলের দাম

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম।সোমবার (২ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে এক দিনেই অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে।

গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) বেলা ২টার বাজারদর অনুযায়ী, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ দশমিক ৯০ ডলার বা ৬ শতাংশ কমে ১০৬ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ ডলার ২৫ সেন্ট বা ৬ শতাংশ কমে অবস্থান করছে ৯৭ ডলার ৮৭ সেন্টে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর বরাতে জানা গেছে, সংকট নিরসনে সরকারের কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

সোমবার তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে সরাসরি কূটনৈতিক বার্তা পৌঁছাতে দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বর্তমানে দোহা সফর করছেন। মুখপাত্র স্পষ্ট করেন, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন সামরিক ও নৌ অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করার শর্তের সঙ্গেই কেবল হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার প্রস্তাবকে যুক্ত করেছে তেহরান।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও কিছুটা সময় দিতে চান।

এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মন্তব্য করেছিলেন, রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের চেয়ে ওয়াশিংটন একটি টেকসই কূটনৈতিক সমাধানকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও নতুন কোনো সামরিক হামলার চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি।

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের এই নাটকীয় ওঠানামার মধ্যেই তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর প্রভাবশালী জোট ওপেক প্লাসের সাতটি প্রধান সদস্য দেশ রোববার ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকে আগামী ডিসেম্বর মাসেও নতুন করে তেল উৎপাদন না বাড়িয়ে বর্তমান উত্তোলন হারই অপরিবর্তিত রাখার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে গত অক্টোবর থেকে তেল উৎপাদন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার গৃহীত পদক্ষেপটি আরও এক মাসের জন্য কার্যকর বহাল থাকল।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

12 + fourteen =

About Author Information

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমতেই কমল তেলের দাম

Update Time : ০৫:০৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম।সোমবার (২ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে এক দিনেই অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে।

গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) বেলা ২টার বাজারদর অনুযায়ী, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ দশমিক ৯০ ডলার বা ৬ শতাংশ কমে ১০৬ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ ডলার ২৫ সেন্ট বা ৬ শতাংশ কমে অবস্থান করছে ৯৭ ডলার ৮৭ সেন্টে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর বরাতে জানা গেছে, সংকট নিরসনে সরকারের কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

সোমবার তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে সরাসরি কূটনৈতিক বার্তা পৌঁছাতে দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বর্তমানে দোহা সফর করছেন। মুখপাত্র স্পষ্ট করেন, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন সামরিক ও নৌ অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করার শর্তের সঙ্গেই কেবল হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার প্রস্তাবকে যুক্ত করেছে তেহরান।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও কিছুটা সময় দিতে চান।

এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মন্তব্য করেছিলেন, রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের চেয়ে ওয়াশিংটন একটি টেকসই কূটনৈতিক সমাধানকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও নতুন কোনো সামরিক হামলার চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি।

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের এই নাটকীয় ওঠানামার মধ্যেই তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর প্রভাবশালী জোট ওপেক প্লাসের সাতটি প্রধান সদস্য দেশ রোববার ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকে আগামী ডিসেম্বর মাসেও নতুন করে তেল উৎপাদন না বাড়িয়ে বর্তমান উত্তোলন হারই অপরিবর্তিত রাখার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে গত অক্টোবর থেকে তেল উৎপাদন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার গৃহীত পদক্ষেপটি আরও এক মাসের জন্য কার্যকর বহাল থাকল।